২৬ আষাঢ়  ১৪২৭  শনিবার ১১ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

আমফানের ক্ষত মেটাতে বনদপ্তরের উদ্যোগ, মহানগরের পথের ধারে বসবে নিম-বকুল-দেবদারু

Published by: Sucheta Chakrabarty |    Posted: June 2, 2020 12:34 pm|    Updated: June 2, 2020 12:34 pm

An Images

কৃষ্ণকুমার দাস: রাজস্থানের যোধপুর (Jodhpur) শহরের আদলে গাছের ঘনছায়া ও ঔষধি-হাওয়া এবার দিনে-রাতে বয়ে যাবে কলকাতায়। এই বিশেষ নির্মল হাওয়ায় তরতাজা হবে মহানগরবাসীর শরীর ও মন। শহরের রাজপথের বনসৃজন যেমন মনে শান্তি ফেরাবে তেমনই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে বলে জানান বনদপ্তরের কর্মীরা।

আমফানের (Amphan) প্রভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে মহানগর। মহীরুহের কঙ্কাল ত্রস্ত করেছিল জনজীবনকে। ফলে ঝড় চলে গেলেও ক্ষত রয়েছে গেছে শহরের বুকে। একে করোনার দাপট অন্যদিকে আমফানের প্রভাব দুইয়ে মিলে নাজেহাল করেছিল কল্লোলীনি কলকাতাকে। তাই ভবিষ্যতের ঝঞ্ঝা সামলাতে এখন থেকেই তৎপরতা দেখাতে চায় বনদপ্তর। রাজপথের দু’পাশে ৫৪ কিমি দীর্ঘ বনসৃজনের সারিতে দাঁড়াতে চলেছে নিম, বকুল ও কাঁদুনে দেবদারু গাছের সারি। এর মধ্যে নিমগাছ ও বকুলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বনদপ্তরের উদ্ভিদবিদরা। কারণ–প্রথমত, নিমগাছের পাতা, ডাল ও ছাল ঔষধি হিসাবে যুগ যুগ ধরে রোগ নিরাময় ও প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ভারতে। বছরে প্রায় দশমাসেরও বেশি সময় সবুজ পাতা থাকে। দ্বিতীয়ত, নিম গাছের শিকড় দ্রুত মাটির ভিতরে প্রবেশ করে শক্ত হয়ে আকঁড়ে থাকে। প্রবল ঝড়েও নিম গাছ উপড়ে যাওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। আমফান ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে দক্ষিণবঙ্গে বট, অশত্থ, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়ার মতো গাছগুলির ব্যাপকহারে ক্ষতি হলেও কোথাও নিমগাছ পড়ে যায়নি। আর কাঁদুনে দেবদারু (উইপিং উইলো) খুব একটা বেশি উচ্চতার হয় না। অথচ প্রচুর পরিমানে ঘন সবুজ পাতা এই দেবদারুতে থাকায় প্রতিদিন টন টন অক্সিজেনেরও যোগান দেবে। বস্তুত এই কারণে ঝড়ের তাণ্ডবে তিলোত্তমায় সবুজের ভয়াবহ ক্ষতি পোষাতে যোধপুরের ধাঁচে পরিকল্পিত ‘মরুদ্যান-নগরী’ গড়তে চায় বনদফতর। তবে পুরসভা এলাকায় শুধু গাছ লাগানো নয়, আগামী দু’বছর মহানগরের পরিচর্যারও দায়িত্বে থাকবেন বনদপ্তরের বিশেষজ্ঞ ও কর্মীরাই।

[আরও পড়ুন:স্যানিটাইজেশনের মহড়ায় ডেকে পাঠানো হল পড়ুয়াদের, সল্টলেকে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় বিতর্ক]

৫ জুন থেকে বনদপ্তর ও পুরসভা নয়া সবুজ বিপ্লবের অভিযানে শহরে বৃক্ষরোপণ শুরু করবে। যে গাছগুলি কলকাতায় নতুনভাবে রোপন করা হবে তাদের বয়স ১০ বছর বা তার বেশি হবে। ওইদিন হরিশপার্কে একটি উপড়ে পড়া গাছ পুনস্থাপন করে বনসৃজন শুরু করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। বনদপ্তরের উদ্ভিদবিদরা জানান, “বয়স্ক গাছ লাগানোর কারণ, যাতে কলকাতায় দ্রুত ছায়া ও অক্সিজেনের জোগান বৃদ্ধি পায়।” জারুল ও বকুল গাছের শিকড়ও অনেক শক্ত বলে উল্লেখ করেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “নিম ঝড়ের সঙ্গে লড়ে দাঁড়িয়ে নেই, এই গাছের পাতা ও ছাল এখন শহরবাসীকে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করছে। অন্য গাছের সঙ্গে নিমও বেশি সংখ্যায় লাগানো হবে।” বনদপ্তর সূত্রে খবর যে, ৫ জুন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়েই শহরে এই নিমের বনাঞ্চল তৈরির অভিযানে নামবে রাজ্য সরকার। দু’টি গাছের মাঝে দূরত্ব রেখে ৫৪ কিমি রাস্তার দু’পাশে চার হাজার ১০ বছর বয়সী গাছ বসানো হবে। বনমন্ত্রী অবশ্য জানান যে, দু’টি বড় নিম গাছের মাঝে অন্য প্রজাতির ছোট গাছও থাকবে। পতঙ্গ ও পাখিদের কথা ভেবে ফল ও ফুলের গাছও লাগাবে বনদপ্তর। রাজপথের পাশাপাশি চিড়িয়াখানা, সেন্ট্রালপার্ক-সহ বনদফতরের ১০টির বেশি পার্ক এবার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও আগামী ১০ দিনের মধ্যে মেরামতির কাজ শুরু হবে।

[আরও পড়ুন:একই দিনে সেরে উঠলেন করোনা আক্রান্ত ১৬ পুলিশকর্মী, লালবাজারকে স্বস্তি দিচ্ছে সুস্থতার হার]

রাজপথ বলতে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, চৌরঙ্গি রোড, সাদার্ণ অ্যাভিনিউ, হরিশ মুখার্জি রোড, রাজারহাট, নিউটাউনের হিডকো মোড় থেকে চিংড়িঘাটা হয়ে গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ (ই এম বাইপাস), রুবি হাসপাতাল মোড় থেকে গড়িয়াহাট হয়ে টালিগঞ্জ, সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউ (পার্কসার্কাস মোড় থেকে গড়িয়াহাট), বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে চলবে এই বনসৃজনের কাজ।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement