১১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

বুধবারই বরখাস্ত হতে চলেছেন বরকতি!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 16, 2017 10:27 am|    Updated: May 16, 2017 10:27 am

Imam Barkati likely to be removed from office

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় আঠাশ বছর পর টিপু সুলতান মসজিদের শীর্ষ পদ থেকে সরতে চলেছেন নূর-উর রহমান বরকতি৷ মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ড সূত্রে খবর, বুধবারই আনুষ্ঠানিকভাবে সে ঘোষণা করা হবে৷

দু’দশকের বেশি সময় ধরে টিপু সুলতান মসজিদের শেষ কথা ছিলেন তিনিই৷ রাজ্যের রাজনীতিতেও তাঁর প্রভাব যথেষ্ট ছিল৷ বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে তাঁর মান্যতা ছিল প্রশ্নাতীত৷ কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার নিরিখে নিজের সে অবস্থান হারিয়ে ফেলেন ইমাম৷ গোটা দেশ অবশ্য তাঁকে ফতোয়া ইমাম বিশেষণেই চেনে৷ একের পর এক ফতোয়া জারি করেছেন তিনি৷ এমনকী বাদ যাননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও৷ তারপর থেকেই বিভিন্ন মন্তব্যে বিতর্ক উসকে ওঠে৷ সম্প্রতি ভিআইপি সংস্কৃতিতে ইতি টেনে লালবাতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রধানমন্ত্রী৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও লালবাতি ব্যবহার করেন না৷ তাহলে ইমাম কেবল লালবাতি ব্যবহার করবেন? এ প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা কটাক্ষ করেন বরকতি৷ জানান, ব্রিটিশ সরকার থেকে তিনি এই অনুমোদন পেয়েছেন৷ এছাড়া বর্তমান সরকারও তাতে সম্মতি দিয়েছে৷ তাঁর দাবি ছিল, খোদ মোদি এলেও তাঁর গাড়ি থেকে লালবাতি খুলতে পারবেন না৷ এখানেই শেষ নয়, ধর্মীয় বিভেদ উসকে তিনি বলেন ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইলে, মুসলিমরাও পাকিস্তান চাইবে৷ এহেন মন্তব্যের পরই ইমামের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একাংশ৷ রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরির নেতৃত্বে আয়োজন করা হয় প্রতিবাদ সভার৷ সেখানে মসজিদের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ইমামের বক্তব্যের সঙ্গে মসজিদ কর্তৃপক্ষ সহমত নয়৷ ইমাম আরএসএস-এর হাত শক্ত করছে বলেও অভিযোগ করা হয়৷ মুসলিমরাও ভারত চায়, পাকিস্তান চায় না বলেই সাফ জানানো হয়৷ এদিকে রাজ্যের অপর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দেখা করেন বরকতির সঙ্গে৷ তারপরই তাঁর গাড়ির লালবাতি খোলা হয়৷ ইতিমধ্যে তাঁর ইমাম পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়৷

বরকতি-সিদ্দিকুল্লাহ সমর্থকদের হাতাহাতিতে রণক্ষেত্র টিপু সুলতান মসজিদ চত্বর ]

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে টিপু সুলতান মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান শাহজাদা আনোয়ার আলি শাহ জানান, ইমাম পদ থেকে বরকতিকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ আইনজীবীদের সঙ্গে এ নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে৷ বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে সে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি৷ তাঁর দাবি, ধর্মীয় বিভেদমূলক ও দেশদ্রোহী যে মন্তব্য বরকতি করেছেন তারপর এই পদে থাকার আর কোনও অধিকার নেই তাঁর৷ দেশবিরোধী ও দেশের বিচারব্যবস্থাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলয় বরকতির বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগও দায়ের হয়েছে৷

এদিকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য নাদিমুল হকের স্ত্রী ফারহা খান অন্য একটি অভিযোগ এনেছেন৷ একটি উর্দু সংবাদপত্রের সম্পাদক তিনি৷ তাঁর অভিযোগ, আচমকাই বেশ কয়েকজন সশস্ত্র যুবক তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়৷ বরকতির নামে কিছু লেখা হলে তার ফল ভাল হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়৷ পুলিশে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে