ছাব্বিশের নির্বাচনে অভয়া কাণ্ড যে একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল তা বলাই বাহুল্য। মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের আশায় বিজেপির হয়ে ভোটে লড়েছেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। মানুষের রায় তাঁর পক্ষেই গিয়েছে। গত কয়েকদিনে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ-বিধায়কদের অনেকের মুখেই শোনা গিয়েছে আর কি কর কাণ্ডের কথা। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে ‘বিদ্রোহী’দের একহাত নিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। পেশায় চিকিৎসক দুই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শর্মিলা সরকারে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন, “আর জি করে ঠিক কী হয়েছিল? পারলে সিবিআইকে সত্যি বলুন।” আর জি কর কাণ্ডে তৎকালীন তৃণমূল সরকার তথ্য গোপন করেছে, এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এদিনের কল্যাণের মন্তব্য সেই অভিযোগই উসকে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
এই বিষয়ে আরও খবর
পালাবদল হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৮ বছরের লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল। কিছুদিন আগেই ঋতব্রত-পন্থীদের বিদ্রোহে পরিষদীয় দলের রাশ হারিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সোমবার দিল্লিতে বিস্তর জল্পনা শেষে সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণও খুইয়েছেন তিনি। ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। একইদিনে ‘ছোট লালবাড়ি’ও হাতছাড়া হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। বিদ্রোহীরা প্রকাশ্যে নেত্রীর বিরুদ্ধে বিশেষ কিছু না বললেও দলের নীতি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সরব হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিদ্রোহীদের ‘সুখের পায়রা’ বলে আক্রমণ শানালেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।
এদিন কল্যাণ বলেন, “১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তাই এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ঘুরছে। পাওয়ার ছাড়া এড়া থাকতে পারবে না। মোদি আপনাদের নেতা। তবে বিজেপি এদের নেবে না। ওরা এদের ভালো করে চেনে। সব রিপোর্ট ওদের কাছে আছে, কে নারদায় ঘুস খেয়েছে, কে কী করেছে। বিজেপি কলঙ্কিত লোকেদের নেবে না।” ‘বিদ্রোহী’দের ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘সুখের পায়রা’ বলে বিঁধে সাংসদ বলেন, “কাকলি ঘোষ ছাড়া এরা সকলে ২০১১ সালের পর দলে এসেছে। কোনও লড়াই করেনি। আর তারকারা ভিনদেশি তারা। কেষ্ট না থাকলে শতাব্দী রায় কোনওদিন জিততে পারত না। এরা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় করেছে।” এরপরই আর জি কর প্রসঙ্গ তুলে দুই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শর্মিলা সরকার ও অভয়ার মাকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, “আর জি কর ইস্যুতে কাকলি আর শর্মিলা দুই ডাক্তার কবে রাস্তায় নেমেছিল? আমি হেঁটেছি। বেচারা অভয়া, মা রাজনীতি করল ওকে নিয়ে, এখন এরাও করছে। কাকলি আর শর্মিলাকে চ্যালেঞ্জ করছি, পারলে আর জি করে কী হয়েছে সিবিআইকে গিয়ে বলুন ওনারা।” তাঁর এহেন মন্তব্য কিছুটা পরস্পরবিরোধী বলেও মনে করা হচ্ছে। ‘আর জি করে কী হয়েছে ‘ বলতে গিয়ে তিনি কি আসলে বিগত সরকার ওই বিষয়ে তথ্য গোপন করেছিল, এমন কথাই বলতে চাইছেন? এই প্রশ্ন উঠছে।
সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে শত অভিযোগ সত্ত্বেও কোন অঙ্কে অভয়ার মা বিজেপিতে যোগ দিলেন সেই প্রশ্নও তোলেন কল্যাণ। উল্লেখ্য, বর্তমানে তৃণমূলের যা পরিস্থিতি, তাতে এই মুহূর্তে যাঁরা নেত্রীর সঙ্গে রয়েছেন, তাঁরাও কতক্ষণ থাকবেন, সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন। এসবের মাঝে অবস্থান স্পষ্ট করে কল্যাণ বললেন, তিনি নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। বললেন, “আপনাদের কাছে টাকা, ক্ষমতা, মুখ্যমন্ত্রী, এজেন্সি আছে, আমার কাছে আছে মা-মাটি-মানুষ।”
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
বুলেট ট্রেনের তুঙ্গ গতিতে এগিয়ে চলাই এখন রাজ্যের একমাত্র পথ
-
‘পুরনো কমিটি শিল্পীদের চিঠি-মেল গায়েব করে দিত’, আর্টিস্ট ফোরাম নিয়ে বিস্ফোরক ভাস্বর
-
চোট সারিয়ে ১০ ওভার বোলিং! আইপিএলের ব্যর্থতা ভুলে ওয়ানডে’তে কামব্যাকের পথে হার্দিক
-
এবার বিদ্রোহী দলে নাম লেখাচ্ছেন অভিষেকের ‘সেনাপতি’ সায়নী! দিল্লি দরবারে তুঙ্গে জল্পনা
-
ডিমের পর নতুন অস্ত্র! ধৃত সব্যসাচীকে লক্ষ্য করে পচা টমেটো, গোবর উত্তেজিত জনতার



