গৌতম ব্রহ্ম: এক বিপদ রুখতে গিয়ে আরও বড় বিপদের খপ্পরে! ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভরতি হয়ে ‘অন্য’ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। অনেক ক্ষেত্রেই সেই ‘অন্য’ রোগই প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর দায় পড়ছে ডেঙ্গুর ঘাড়ে।
ক’দিন ধরে জ্বর। রক্তে ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে রোগী সুস্থ তো হলই না, উলটে শারীরিক অবস্থা আরও বিগড়ে গেল। এমনটা আকছার ঘটছে। ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়ে মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়ে যাচ্ছে। তাবড় চিকিৎসকরাও ব্যাপারটা স্বীকার করছেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরিন্দম বিশ্বাস এ জন্য দায়ী করছেন হাসপাতালের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন রোগজীবাণুকে। তাঁর মতে, ওই সব ‘হসপিটাল অ্যাকোয়ার্ড’ সংক্রমণই দ্রুত কাবু করে ফেলছে ডেঙ্গু রোগীদের, যাঁদের শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা এমনিতেই তলানিতে। আক্রমণকারী জীবাণুকে চিহ্নিত করা না গেলে যে সমূহ বিপদ, তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন।
[ আরও পড়ুন: মৃত্যুর একদিন পর বাড়ি থেকে উদ্ধার বধূর বরফঢাকা দেহ, বাড়ছে ধোঁয়াশা ]
কী সেই জীবাণু?
কেপসিওলা, নিউমোনিয়া, স্ট্রেপটোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, অ্যাসিনেটোব্যাকটর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, শরীরে ঢোকার পর ভাইরাস ব্যাকটিরিয়াকেও আহ্বান জানাতে পারে। একে বলে ‘সুপার অ্যাডেড ব্যাকটিরিয়াল ইনফেকশন।’ বিষয়টি ভীষণ গোলমেলে। সময়মতো ‘ব্লাড কালচার’ করে অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়া গেলেই বিপর্যয়। সারা শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে।
উপরন্তু ডেঙ্গু রোগীর মূত্রের নমুনায় আজকাল আকছার ই-কোলাই মিলছে। একই রোগীর শরীরে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার যুগপৎ সহাবস্থানও বিচিত্র নয়। পুজোর সময় হরিশ মুখার্জি রোডের এক ক্লাবকর্তাকে একইসঙ্গে এই দুই রোগ ছোবল দিয়েছিল। রক্ত পরীক্ষায় অবশ্য স্ট্রেপটোকক্কাসের হদিশ মিলবে না। মিলবে সোয়াব টেস্টে।
[ আরও পড়ুন: সদ্যোজাতর দেহ ভেন্টিলেশনে রেখে বিল বাড়ানোর অভিযোগ, ভাঙচুর পার্ক সার্কাসের নার্সিংহোমে ]
এমতাবস্থায় ডাক্তারদের অভিমত, খুব প্রয়োজন না পড়লে ডেঙ্গু রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি না করাই ভাল। বাড়িতে বসেই চিকিৎসা হোক। সময়মতো হোক রক্তপরীক্ষা। মাপা হোক প্লেটলেট। অযথা ভয় পেয়ে হাসপাতালে ভরতি করানো কিন্তু যথেষ্ট ঝুঁকির। “আমার প্রায় পনেরোজন রোগী তো বাড়িতে বসেই চিকিৎসা করিয়েই সুস্থ হয়েছেন।”- মন্তব্য অরিন্দমবাবুর।
কী ভাবে রোগীর শরীরে প্রবেশ করছে হাসপাতালের জীবাণু?
বিশেষজ্ঞেরা আঙুল তুলছেন এক শ্রেণির ডাক্তার-নার্সের অসতর্কতাকে। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, একই গ্লাভস ব্যবহার করে একাধিক রোগীকে পরীক্ষা, হাত না ধুয়ে রোগীর সংস্পর্শে আসার মতো অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক অভ্যাস পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। তাছাড়া পরিকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। ভেন্টিলেটর বা নেবুলাইজেশন মেশিনে থাকা জীবাণুও ঢুকছে রোগীর শরীরে।
২০১৭ সালে ডেঙ্গুর সঙ্গত করেছিল ভাইরাল আর্থারাইটিস। এবার এই উপসর্গ তেমন দেখা যাচ্ছে না। পরিবর্তে ‘ভাইরাল কাফ’-এর রমরমা। ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পরও এক মাস ধরে কাশিতে ভুগছে রোগী। এক্ষেত্রে ‘রাইনো’ বা ‘অ্যাডিনো’ ভাইরাস দায়ী। হাসপাতাল থেকে এই ভাইরাসও ঢুকে পড়তে পারে রোগীর শরীরে। এ কাশি এতটাই ভয়ংকর যে রোগীকে স্টেরয়েডও দিতে হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
‘চোরাশিকারিদের হাতে ক্ষতিগ্রস্ত বন্যপ্রাণী’, হাসিমারায় প্রকৃতি ও সম্পদ বাঁচানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর
-
গঙ্গার ধার দখল করে ‘অবৈধ’ নির্মাণ, বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয়
-
সর্ষের মধ্যেই ভূত! বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশে সাহায্য সেনা জওয়ানের, গ্রেপ্তার ৩
-
‘তিলক কেটে দিন’, গণপতি দর্শনে গিয়ে পুরোহিতকে আবদার শাহরুখের, বাদশার ভক্তিতে মুগ্ধ নেটপাড়া
-
আইএফএ শিল্ডের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ্যে, ডুরান্ড হেরে শিল্ডে নজর মোহনবাগানের