ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা (Laxmiratan Shukla)। হাওড়া টাউন সভাপতির পদ-সহ দলের যাবতীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। খেলার জগতে ফিরতে চান লক্ষ্মীরতন। সেই কারণে রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান তিনি। বিধায়ক হিসেবে অবশ্য কাজ করবেন লক্ষ্মী। মমতা এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ”লক্ষ্মী ভাল ছেলে। খেলাধুলোর জগত থেকে এসেছে। রাজনীতি থেকে অব্যাহতি চেয়েছে। আমি রাজ্যপালকে ওর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করার প্রস্তাব দেব। ও বিধায়ক থাকবে। আর তো একমাস পরেই ইলেকশন। এতে কোনও ভুল বোঝাবুঝির ব্যাপার নেই। ওর প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল।” সন্ধের পর মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন মেনে লক্ষ্মীরতন শুক্লার ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar)।
In view of advice of Hon’ble Chief Minister,Ms. Mamata Banerjee, I, Jagdeep Dhankhar, Governor of West Bengal, do hereby order, in exercise of powers vested in me under Constitution, that Shri Laxmi Ratan Shukla ceases to be a member of Council of Ministers with immediate effect. pic.twitter.com/CH9mKdePrs
Advertisement— Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) January 5, 2021
মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লার ইস্তফার খবর ছড়িয়ে পড়ে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেন। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জানা যায়, দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে চান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা ইস্তফাপত্রে লক্ষ্মীরতন জানিয়েছেন যে খেলার জগতে বেশি সময় দিতে চান। তাই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও ভুল বোঝাবুঝি নেই বলেও এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
[আরও পড়ুন: কয়লা ও গরুপাচার কাণ্ডে এবার CBIয়ের নজরে ৩ আইপিএস অফিসার, নোটিস পাঠিয়ে তলব]
ক্রীড়াজগৎ ছেড়ে রাজনীতিতে আসার পর বেশ দক্ষতার সঙ্গেই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন লক্ষ্মীরতন। সংগঠনের কাজেও তাঁর উপর ভরসা ছিল দলনেত্রীর। পুজোর আগে তৃণমূলের সংগঠনে রদবদলের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে হাওড়া টাউনের সভাপতির দায়িত্ব দেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে লক্ষ্মী সরে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বেশ প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
[আরও পড়ুন: মেট্রোয় ঝাঁপ দিয়ে ফের আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের, সাময়িক ব্যাহত ডাউন লাইনের পরিষেবা]
লক্ষ্মীরতনের দলত্যাগের সিদ্ধান্তের পিছনে কেউ কেউ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়াও দেখছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে গুঞ্জন, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি নাকি আরও কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে বাধা পান। কাজ করতে না পারায় মুষড়ে পড়েছিলেন বলেই শোনা যাচ্ছে। সেই কারণে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। যদিও লক্ষ্মীরতন নিজে এ বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। খেলার দুনিয়ায় ফিরে যাওয়ার জন্যই এহেন সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর দলত্যাগের কারণ যাই হোক, রাজ্যের শাসকদল যে ভাঙনে জর্জরিত, তা ফের প্রকাশ্যে এল।