বাংলার প্রশাসন নিয়ে রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ, মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে মন্তব্য সংক্রান্ত বিতর্কের জল গড়াল বহু দূর। শনিবার সন্ধ্যায় ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকে তার জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জবাব দিতে গিয়ে পদে পদে উল্লেখ করলেন মণিপুর, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের আদিবাসী নির্যাতনের কথা। প্রশ্ন তুললেন, তখন রাষ্ট্রপতি কেন নিশ্চুপ ছিলেন? কেন সমবেদনা জানাননি?
দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ”আমি দুঃখিত কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, ম্যাডাম, আপনাকে বিজেপি ব্যবহার করছে।” এও জানালেন, আজ তাঁর নির্ধারিত অনুষ্ঠানের কথা তিনি জানতেন না। মানুষের ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছেন, সেটাই তাঁর কাছে অগ্রাধিকার। শনিবার শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে তিনি রাজ্য প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ তোলেন, এ রাজ্যে আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়নি। তারই জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ”আমি দুঃখিত কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, ম্যাডাম, আপনাকে বিজেপি ব্যবহার করছে।” এও জানালেন, আজ তাঁর নির্ধারিত অনুষ্ঠানের কথা তিনি জানতেন না। মানুষের ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছেন, সেটাই তাঁর কাছে অগ্রাধিকার।
রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এসেছেন, অথচ তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি মুখ্যমন্ত্রী অথবা অন্য কোনও মন্ত্রী – একথা উল্লেখ করে শনিবার রাষ্ট্রপতি নিজে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ তুলেছিলেন। মন্তব্য করেছিলেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও।” সন্ধ্যায় এর জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ”ওঁর (দ্রৌপদী মুর্মু) আজকের অনুষ্ঠানের কথা আমি জানতামই না। এটা কোনও সরকারি অনুষ্ঠান তো নয়, সম্পূর্ণ বেসরকারি। রাজ্যের কোনও ভূমিকা নেই। আমরা কী করব এখানে? আমি এখন ধরনায় আছি। মানুষ ভোটাধিকার হারাচ্ছেন, তাঁদের হয়ে লড়াই করছি। এখন তো এটাই আমার কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ। আপনি বিজেপির অগ্রাধিকার হতে পারেন, আমার কাছে আমার জনতাই সব।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ”ওঁর (দ্রৌপদী মুর্মু) আজকের অনুষ্ঠানের কথা আমি জানতামই না। এটা কোনও সরকারি অনুষ্ঠান তো নয়, সম্পূর্ণ বেসরকারি। রাজ্যের কোনও ভূমিকা নেই। আমরা কী করব এখানে? আমি এখন ধরনায় আছি। মানুষ ভোটাধিকার হারাচ্ছেন, তাঁদের হয়ে লড়াই করছি। এখন তো এটাই আমার কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ। আপনি বিজেপির অগ্রাধিকার হতে পারেন, আমার কাছে আমার জনতাই সব।”
এরপরই আদিবাসী উন্নয়নে রাজ্য সরকারে যাবতীয় প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে মমতার প্রশ্ন, ”আপনি কীভাবে বলেন যে এখানে আদিবাসীদের উন্নয়নে কোনও কাজ হয়নি? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় কী কাজ হয়েছে? কাজের কথা আমাদের বলবেন না। আদিবাসীদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার পাশে আছে। এমনকী অলচিকি ভাষাকে সম্মান দিয়েছি আমরা। এখানে ডব্লুবিসিএস পরীক্ষাও দেওয়া যায় অলচিকি ভাষায়। কটা রাজ্যে হয়েছে?” বিজেপিকে তোপ দেগে মমতার আরও কড়া বার্তা, ”দেশের ১ নং নাগরিক, সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রধান, শ্রদ্ধার মানুষ, আমরা তাঁকে সম্মান করি। বিজেপি তাঁকেও এখানে রাজনীতি করতে পাঠিয়ে দিল!”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নতুন তৃণমূল আত্মপ্রকাশের পরদিনই সন্দীপনের বাড়িতে বিক্ষোভ, কাটমানি-তোলাবাজিতে সরব বিজেপি
-
আরজিকর কাণ্ড এবার বড়পর্দায়, পরিচালনায় শঙ্কুদেব পণ্ডা, ‘অভিশপ্ত’ আগস্টেই শুরু শুটিং
-
বিশ্বজয়ের ৩ মাসের মধ্যে অধিনায়কত্ব যাচ্ছে সূর্যকুমারের, নেতৃত্বের দৌড়ে আপাতত ৩
-
দিল্লির পর বিহার, বিধ্বংসী আগুন হাসপাতালে, ঝলসে মৃত অন্তত ৪
-
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার হুমায়ুনের, অধীর, নওশাদের উদাহরণ তুলে আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা