Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভুয়ো প্রোফাইলে প্রাক্তন স্ত্রীকে ‘এসকর্ট’ বানিয়ে গ্রেপ্তার প্রোমোটার ও দ্বিতীয় পত্নী

বলা রয়েছে, একমাত্র তিনি আগাম টাকা নিয়েই কোনও পুরুষকে সঙ্গ দেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২০, ২০২০, ০৯:৪৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২০, ২০২০, ০৯:৪৩

options
link
ভুয়ো প্রোফাইলে প্রাক্তন স্ত্রীকে ‘এসকর্ট’ বানিয়ে গ্রেপ্তার প্রোমোটার ও দ্বিতীয় পত্নী zoom
Advertisement

অর্ণব আইচ: সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রোফাইল দেখে চমকে উঠেছিলেন যুবতী। তিনি নাকি একজন ‘এসকর্ট’। এসকর্ট সার্ভিসের জন্য তাঁকে ডাকলেই পাওয়া যাবে। ওই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর রেটও দেওয়া আছে। বলা রয়েছে, একমাত্র তিনি আগাম টাকা নিয়েই কোনও পুরুষকে সঙ্গ দেন। তাঁর সঙ্গ পেতে হলে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে বলা হয়। তবেই তিনি যোগাযোগ করবেন সেই পুরুষের সঙ্গে। ওই প্রোফাইলে রয়েছে তাঁর বহু ছবিও।

[আরও পড়ুন: লাগাতার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাঁচ রাজ্য, রবিবার পর্যন্ত বন্ধ কোচি বিমানবন্দর]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এসব দেখে মাথায় হাত যুবতীর। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ জানান লালবাজারের সাইবার থানায়। পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে যে, এই কীর্তি আসলে তাঁরই প্রাক্তন স্বামী আর তার বর্তমান স্ত্রীর। ওই দম্পতিকে লালবাজারে নিয়ে এসে গোয়েন্দারা জেরা করতে শুরু করেন। জেরার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি দীপ্তেন দাস স্বীকার করে যে, স্রেফ প্রাক্তন স্ত্রীর উপর রাগ মেটাতে ও পুরনো শোধ তুলতেই সে এই কাজ করেছে। পেশায় ওই ব্যক্তি প্রোমোটার। এই কুকীর্তিতে তাকে সাহায্য করেছে তারই বর্তমান স্ত্রী রূপা। এর পরই সাইবার থানার পুলিশ দক্ষিণ কলকাতার সন্তোষপুরের বাসিন্দা ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রোফাইলটি দেখার পরই অভিযোগকারিণী বুঝতে পারেন যে, সেটি জাল। আসলে তিনি নিজেও জানতেন না বিষয়টি। এক বন্ধু মারফত এই খবর পান তিনি। দেরি না করে লালবাজারের সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জেনেছে, বছর কয়েক আগে অভিযোগকারিণী ওই যুবতীর সঙ্গে দীপ্তেনের পরিচয় হয়। যুবতীর টলিউডে অভিনয় করার ইচ্ছা ছিল। একটি সূত্রে তাঁর সঙ্গে দীপ্তেনের পরিচয় হয়। দীপ্তেন নিজেকে একটি সিনেমা প্রযোজনা সংস্থার কর্তা বলে পরিচয় দিয়েছিল। বলেছিল, এক নামী পরিচালকের ছবিতে নায়িকার সুযোগ পাইয়ে দেবে। যুবতী তাকে বিশ্বাস করে ফেলেন। অডিশনে নিয়ে যাওয়ার টোপ দিয়ে যুবতীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয় সে। ভালবাসার ফাঁদ পাতে। শেষ পর্যন্ত মা-বাবার একমাত্র মেয়েকে বিয়েও করে সে।

পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, যুবতী প্রথম ধাক্কা খান বিয়ের পর। তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর স্বামী দীপ্তেন আসলে কোনও প্রযোজকই নয়। সে আসলে এক প্রোমোটার। তবুও মানিয়ে নিয়েছিলেন। বিয়ের পর থেকে দীপ্তেন বিভিন্নভাবে তাঁর কাছ থেকে টাকা চাইতে থাকে। যুবতীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা না পেলেই শুরু হত অত্যাচার। পারিবারিক অশান্তি চলছিল। তার মধ্যেই যুবতী জানতে পারেন যে, রূপা নামে এক তরুণীর প্রেমে পড়েছেন তাঁর স্বামী। বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য কলহ হয়। শেষ পর্যন্ত দু’জনের ডিভোর্স হয়। রূপাকে বিয়ে করে দীপ্তেন।

নতুন বিয়ে করেও প্রাক্তন স্ত্রীর উপর রাগ যায়নি। তাই তার কাছে থাকা প্রাক্তন স্ত্রীর ছবিগুলি ব্যবহার করে সে। তাঁর নামে একটি ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে। প্রাক্তন স্ত্রীর ছবিগুলি ব্যবহার করে তাঁকে ‘এসকর্ট’ বলে পরিচয় দেয়। নিজেদের একটি অ্যাকাউন্টেই আগাম টাকা দিতে বলে। অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করে আইপি অ্যাড্রেস খতিয়ে দেখে। জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ভুয়ো প্রোফাইলটি রূপার নামে নথিভুক্ত করা। সেই তথ্যটি অভিযোগকারিণী পুলিশকে জানানোমাত্রই তিনি বুঝতে পারেন যে, নাটের গুরু তাঁরই প্রাক্তন স্বামী। ওই দম্পতিকে শনাক্ত করে গোয়েন্দারা তাঁদের ডেকে পাঠান। দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[আরও পড়ুন: জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্ত সাময়িক, ফের স্পষ্ট করলেন মোদি]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.