যৌনকর্মীদের বেশ কিছু অধিকারের পক্ষে রায় দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। অথচ সেই অধিকার সম্পর্কে অবগত নন যৌনকর্মীরা। তাঁদের সেই অধিকার সম্পর্কে অবগত করতে যৌনপল্লিগুলিতে ঘুরবেন যৌনকর্মীরা।
পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, তেলঙ্গানা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্রর মতো রাজ্যের যৌনকর্মীদের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ‘যৌনকর্মী অধিকার মঞ্চ’। এই মঞ্চের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন রাজ্যের যৌনপল্লিগুলিতে ঘুরবেন। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ে যৌনকর্মীদের মর্যাদা, অধিকার সম্পর্কে অবগত করাবে এই মঞ্চ। বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে যৌনকর্মী অধিকার মঞ্চের প্রতিনিধিরা সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে হাজির ছিলেন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব বিশাখা লস্কর, তেলঙ্গানা হিজরা ইন্টারসেক্স ট্রান্সজেন্ডার সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রচনা মুদ্রাবয়িনা। এদিন বিশাখা লস্কর বলেন, “দেশের শীর্ষ আদালত ২০২২ ও ২০২৬ সালে যৌনকর্মীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীদের প্রাপ্য মর্যাদা, অধিকারের কথা বলা হয়েছে। তাঁরাও এদেশের মানুষ। তাঁদেরও অধিকার রয়েছে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া, নিজের মতো জীবনযাপন করার। তবু যৌনকর্মীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও যৌনকর্মীরা নিজেদের প্রাপ্য মর্যাদাটুকুও পাচ্ছেন না।” তাঁর কথায়, আদালত যে তাঁদের এই অধিকারের পক্ষে রায় দিয়েছে সে সম্পর্কে অবগত নন অধিকাংশ যৌনকর্মী। ফলে এই হেনস্তা তাঁদের উপর এখন চালানো যাচ্ছে। এই অধিকার সম্পর্কে অবগত করতে এই মঞ্চের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন রাজ্যের যৌনপল্লিতে যাবেন। সেখানে আদালতের রায় তুলে ধরে তাঁদের অধিকার সম্পর্কে অবগত করা হবে।
আরও পড়ুন:
গত জুলাই মাসে উত্তর দিনাজপুর ইসলামপুরে এক যৌনপল্লিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার যৌনকর্মী অধিকার মঞ্চের একটি টিম ইসলামপুর যাচ্ছে। বিশাখা লস্কর জানান, সেখানে পুলিশ অভিযানের নামে যৌনকর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। ঘটনাটি ঠিক কি ঘটেছে তা সম্পর্কে জানতে ইসলামপুর যাওয়া হচ্ছে। এদিকে যৌনপল্লিতে গিয়ে অনেক গ্রাহক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। মারধর করে তাঁদের কাছ থেকে টাকাপয়সা, মোবাইল, ঘড়ি, গয়না ছিনতাই করে নেওয়ার অভিযোগও মাঝে মাঝে শোনা যায়। বিশেষ করে সোনাগাছি যৌনপল্লিতে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ইদানীং বেড়ে চলেছে। এ ব্যপারে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিবের বক্তব্য, পেশাদার যৌনকর্মীরা কখনও গ্রাহকদের সঙ্গে এরকম আচরণ করতে পারেন না। এর পিছনে একটা চক্র রয়েছে। তারা সোনাগাছিতে মহিলাদের দিয়ে এই ছিনতাই চক্র চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশকে একাধিকবার আমরা জানিয়েছি। যদিও পুলিশ এ ব্যপারে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, অনেক গ্রাহক ছিনতাই হলেও দুর্বারে অফিসে এসে অভিযোগ করতে চান না। ফলে সোনাগাছিতে কোন মেয়েরা ছিনতাই করছেন তাঁদের চিহ্নিতও করা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
একসময় সুযোগই ছিল না খেলার, রাগবি দলে বাংলার মুখ সেই সন্ধ্যা
-
লালকেল্লা নয়, বিস্ফোরণে মন্দির ওড়ানোর ছক ছিল বোমারু নবির, শেষ মুহূর্তে ষড়যন্ত্রে বদল কেন?
-
বেনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ! জম্মু ও কাশ্মীর-সহ ২ রাজ্য সংস্থার মনোনয়ন বাতিল বিসিসিআইয়ের
-
আঠারোর নিচে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তা সামলাবেন কী করে? নতুন এসওপি তৈরির পথে রাজ্য
-
‘আমি আর ওঁদের কষ্ট…,’ অবসর নিচ্ছেন অমিতাভ? বিগ বির পোস্টে মন খারাপের বার্তা