৩১ আষাঢ়  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

অভিরূপ দাস: পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে। দিন কয়েক আগেই সংকেত দিয়েছিল বছর ষোলোর কিশোরী। কিন্তু সেই ইঙ্গিত ধরতে পারেননি অভিভাবকরা। তা বুঝতে পারলে, শুক্রবারের বিকেলে চিরতরে হারিয়ে যেত না মেধাবী ছাত্রী কৃত্তিকা পাল। রানিকুঠির জিডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশনের দশম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যুতে হতবাক অভিভাবকরা৷ শুক্রবার স্কুলেরই শৌচালয় থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হয় কৃত্তিকা। পাশে পড়েছিল রক্তাক্ত ব্লেড।

[আরও পড়ুন: স্কুলের শৌচালয়ে রক্তাক্ত দেহ, ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য জি ডি বিড়লায়]

এই ঘটনায় অবাক নন মনোবিদরা। বরং তাঁরা বলছেন, আত্মহত্যার প্রবণতা একটা মানসিক অসুখ। কেউ ঝোঁকের বশেও এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে। তবে নিজেকে পুরোপুরি শেষ করার আগে মনোরোগী নানারকমভাবে বুঝিয়ে দেয়, এই পৃথিবীর প্রতি তাঁর টান ক্রমশ কমছে। সেই সময়ই কাউন্সেলিং করা শুরু হলে আত্মহত্যা আটকানো সম্ভব। বিবেকানন্দ উইমেনস কলেজের সাইকোলজির অধ্যাপক দোলা মজুমদার জানিয়েছেন, যে মনস্থির করে ফেলে আত্মহত্যা করবে, বেশ কয়েকদিন ধরে তার খাওয়াদাওয়ার প্রতি অনীহা দেখা দেয়। নিজেকে সমস্ত রকম সক্রিয়তা থেকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিতে শুরু করে। কোনও রকম হাসিঠাট্টায় যোগ দেয় না। মা,বাবা, বন্ধুবান্ধব, বাড়ির প্রিয় পোষ্যকেও আর আদর করে না। এরপর আচমকাই নিজেকে শেষ করে ফেলে৷পরিবারের লোকেরা তখন হতবাক!

কিন্তু ওই যে ব্যবহারের পরিবর্তন, অভিভাবকরা যদি সবার আগে তাকে গুরুত্ব দিতেন, তাহলে এমনটা হত না। মনোবিদ দোলা মজুমদারের কথায়, “ব্যবহারের পরিবর্তন দেখে অনেক অভিভাবক এই সময় সন্তানদের মনোবিদদের কাছে নিয়ে আসেন। আমরা কথা বলে বুঝতে পারি বাচ্চাটির মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উঁকি দিচ্ছে। তখনই কাউন্সেলিং শুরু করি।” কৃত্তিকার ক্ষেত্রে এমনটা না হওয়াই সর্বনাশের কারণ বলে মনে করছেন মনোবিদরা। আত্মহত্যা করার আগের ইঙ্গিত ধরতে পারলে অনভিপ্রেত এই ঘটনা যে এড়ানো যেত তাতে একমত মনস্তত্ত্ববিদ রাজ্যশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর কথায়, “অনেক ক্ষেত্রে রোগী কিছু ইঙ্গিত দিলেও পরিবার সচেতনতার অভাবে সেগুলি গুরুত্ব দেয় না। তাই আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে যায়।”

[আরও পড়ুন: বিধবার উদ্দাম প্রেমে বাধা, ছেলেকে ট্রেনের সামনে ফেলে খুন মায়ের প্রেমিকের!]

আত্মহত্যার ঘটনাকে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, “বহু ধরনের হতাশা অথবা অবসাদ হয়। যার থেকে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। এই মেয়েটি নিশ্চয়ই কোনও অবসাদে ভুগছিল। তাই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।” স্কুলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “এই বিষয়ে মা-বাবার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও সচেতন থাকতে হবে। প্রতি স্কুলে একজন করে মনস্তত্ত্ববিদ থাকা আবশ্যিক।” জিডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশনের অভিভাবক ফোরামের মুখপত্র তন্ময় ঘোষ যদিও জানিয়েছেন, “আমরা স্কুলে কোনওদিন মনস্তত্ত্ববিদের দেখা পাইনি।” স্কুলে ছাত্রী আত্মহত্যার খবর পেয়েই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ মিটিংয়ের দাবি জানিয়েছে অভিভাবকদের ফোরাম। স্কুলের অভিভাবক ফোরামের পক্ষ থেকে মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেছেন, “অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিল কৃত্তিকা। মেয়েটির বাড়ি থেকে পড়াশোনার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হত। যা ঘটে গিয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” 

মাত্র ষোলো। ফুল ফোটার আগে কুঁড়িতেই ঝরে পড়ার ঘটনায় বিস্মিত অন্যান্য ছাত্রীদের অভিভাবকরা। কেন এত অল্প বয়সে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সংকল্প? রাজ্যশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, “মূলত দু’টি কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে। কোনও প্রকার মানসিক রোগ থাকলে অথবা সাময়িক ঝোঁকের বশে।” হতাশাজনিত অসুখ ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০২০ -র মধ্যে হতাশাজনিত অসুখ মারণ অসুখ হিসাবে চিহ্নিত হবে। অনেকে আবার একবার মনোবিদের কাছে গেলেও তাঁর পরামর্শ মানেন না। রাজ্যশ্রীর কথায়, “মনোরোগী ভাল হয়ে গিয়েছে মনে করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ মাঝপথে বন্ধ করে দেয় অনেক পরিবার। ফলে তখনও হঠাৎ করে এই ধরনের ঘটনা ঘটে যায়।রোখা সম্ভব হয় না৷”

[আরও পড়ুন:ক্যামেরাবন্দি বন্যপ্রাণ, সতর্কতার পাঠ দেবেন ধৃতিমান-‘শের’]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং