২০০৭-এর ৫ জানুয়ারি তৈরি হয়েছিল নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি। পাঁচটি দলের মিলিত ১৫ জনের কমিটিতে প্রত্যেক দল থেকে ছিলেন তিনজন করে সদস্য। ভাইপো মিলন প্রধানের প্রস্তাবে তার সক্রিয় সদস্য হন সবুজ প্রধান। সবুজ ২০২০-তে দল ছাড়লেও জীবনে কংগ্রেস ছাড়েননি নন্দীগ্রামের আদি বাসিন্দা বর্তমান প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের দীর্ঘদিনের সঙ্গী সোনাচূড়ার মিলন। দলের প্রতি এই আনুগত্য থেকেই মিলনকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করার জন্য এআইসিসির অনুমোদন জোগাড় করেন শুভঙ্কর। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেলা হেফাজতে থাকা সেই মিলনের জেলমুক্তির জন্য সম্ভবত সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানাতে পারে তাঁর পরিবার।
এই প্রথম সম্ভবত কংগ্রেসের কোনও প্রার্থীর জেলে থেকে লড়াই। কিন্তু এই পরিণতির জন্যও তৃণমূল আমলের একটি ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন সবুজ। তাঁর কথায়, প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে তিনি বারবার বলেছিলেন, তৃণমূল আমলে সরকারের তরফে যেমন তৃণমূলের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার হয়েছিল, তেমনই সিপিএমের বিরুদ্ধেও পালটা মামলাগুলি প্রত্যাহার করা উচিৎ। তা না হলেই পরবর্তীকালে নতুন করে মামলায় জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরও পড়ুন:
নন্দীগ্রাম ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সবুজের বাবা মন্মথকুমার প্রধান ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। সবুজের জেঠতুতো দাদার ছেলে মিলনের রাজনৈতিক ইতিহাস ছাত্র পরিষদের। সোনাচূড়া বা চণ্ডীপুরের স্কুল পেরিয়ে প্রায় পিঠোপিঠি বয়সী দুই কাকা-ভাইপোর মধ্যে সবুজ পড়লেন বিএ, মিলন বিকম। ব্যবসা সূত্রে পরে কলকাতার বাসিন্দা হলেও সোনাচূড়ার সঙ্গে যোগাযোগ মিলনের ছিন্ন হয়নি। ছাত্র পরিষদ থেকে জেলিংহাম প্রজেক্টকে কেন্দ্র করে কাকা-ভাইপো আসেন আইএনটিইউসির রাজনীতিতে। তার পর সিপিএমের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে তৈরি হয় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি। প্রদেশ সভাপতি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তারও আগে ২০০৪ থেকে মিলনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। সিপিএম আমলে সোনাচূড়ায় থেকে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই। সে সময় তাঁদের সঙ্গী অধুনা বিদ্রোহী তৃণমূলের অংশ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিজেপিতে চলে যাওয়া কনক দেবনাথরা। সেই মিলনকে শনিবার আদালতের হাজতে দেখে ভেঙে পড়েন সবুজ। শুভঙ্কর তাঁকে দেখতে পেয়ে বুকে জড়িয়ে নেন। এই সবুজকেই প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি দিল্লি নিয়ে গিয়ে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। শনিবার হলদিয়া আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সেই অতীত উল্লেখ করে দলের রাজ্য পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশির সঙ্গে সবুজের আলাপ করিয়ে দেন শুভঙ্কর। যোশি তাঁকে কংগ্রেসে ফিরে আসারও প্রস্তাব দেন।
মিলনের জন্য আইনি ও ময়দানি লড়াইয়ের মধ্যেই ঠিক হয়েছে প্রদেশের নতুন গঠিত জেলা কমিটির সভাপতিদের নিয়ে তৈরি একটি টিম ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে দফায় দফায় এলাকায় গিয়ে প্রচার করবে। প্রচারে থাকবে যুব-ছাত্রদের দল। প্রদেশ সভাপতি ইতিমধ্যে বলেছেন, “কংগ্রেসের এই উত্থানে ভয় পেয়েই বিজেপির প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে। পুরনো মামলা নতুন করে সামনে এনে তাতে জড়িয়ে আমাদের প্রার্থীর লড়াই আটকানো হচ্ছে। কিন্তু লড়াই চলবে।”
এই প্রথম সম্ভবত কংগ্রেসের কোনও প্রার্থীর জেলে থেকে লড়াই। কিন্তু এই পরিণতির জন্যও তৃণমূল আমলের একটি ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন সবুজ। তাঁর কথায়, প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে তিনি বারবার বলেছিলেন, তৃণমূল আমলে সরকারের তরফে যেমন তৃণমূলের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার হয়েছিল, তেমনই সিপিএমের বিরুদ্ধেও পালটা মামলাগুলি প্রত্যাহার করা উচিৎ। তা না হলেই পরবর্তীকালে নতুন করে মামলায় জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সবুজের কথায়, “হলও তাই। সেই পুরনো মামলার যেগুলো তোলা হয়নি, সেগুলোর ভিত্তিতেই নতুন করে জনস্বার্থ মামলা হল।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁর আবেদন, “তিনি সেই সময় এই ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশমন্ত্রীও। তখন তো একাধিক মামলাই হয়েছিল মিথ্যা। মুখ্যমন্ত্রীই একমাত্র পারেন সেইসব মিথ্যা মামলার সব কটা তুলে নিতে।”
তবে তেমন কিছু এখনই সম্ভব হবে বলে মনে করছে না কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, এই ঘটনা এখন জাতীয় স্তরে চর্চায় নিয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। বিজেপি নেতৃত্বের একটা অংশ যা নিয়ে বিরক্ত। তবে জেলে থেকে মিলনের এই লড়াইয়ে সবরকমভাবে কমব্যাট করতে প্রদেশের সমস্ত তারকা প্রচারককে নামানোর আবেদন জানানো হয়েছে। অধীর চৌধুরি, দীপা দাশমুন্সি, প্রদীপ ভট্টাচার্য, মৌসম নুর, নেপাল মাহাতোরা তো বটেই, সে সময় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে যুক্ত কংগ্রেসের প্রত্যেক কর্মীকে সামনে রেখে প্রচারে নামতে চাইছে দল। হাইকমান্ডের কাছেও সেখানকার নেতৃত্বকে নন্দীগ্রামে আসার আবেদন করেছেন প্রদেশ সভাপতি নিজে।
সর্বশেষ খবর
-
এবার ‘ন্যাটো’র দেশগুলিতে হামলা রাশিয়ার? ইউক্রেন ছাড়িয়ে গোটা ইউরোপের আকাশে যুদ্ধের মেঘ!
-
হিমালয়ে হিন্দুকুশ অঞ্চলে বিপদের ঘনঘটা, ২৩০টি হিমবাহ হ্রদই বিপজ্জনক!
-
১৩ বছরেই এশিয়ান গেমসে নজির, অভিষেকেই সোনাজয় ‘জলকন্যা’র
-
যৌন অনিচ্ছা গায়েব হবে নিমেষে, এই টিপসে জেন জি-র বিছানায় উঠবে ঝড়
-
মাদক কারবারির বাড়িতে আচমকা হানা, পুলিশের ভয়ে পুকুরে ঝাঁপ অভিযুক্তের, তারপর?