BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কোভিড রোগীদের পাশে দাঁড়াতে নয়া উদ্যোগ, করোনাজয়ীদের নিয়ে কলকাতায় চালু কল সেন্টার

Published by: Sulaya Singha |    Posted: July 26, 2020 12:32 pm|    Updated: July 26, 2020 1:59 pm

An Images

ছবি প্রতীকী

কৃষ্ণকুমার দাস: মহানগরে এবার কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন সন্দেহ হলেই সরাসরি ফোন করতে পারবেন কলকাতা পুরসভার বরোভিত্তিক নিজস্ব কল সেন্টারে। সেই ফোন তুলবেন করোনাজয়ী একজন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কোভিড যোদ্ধা। ঠিকানা জেনে মোটরবাইক নিয়ে দ্রুত পৌঁছে যাবেন অসুস্থের বাড়িতে। রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা করবেন, ফোনে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনে ওষুধও দেবেন। যদি হাসপাতালে তখনই ভরতির প্রয়োজন হয় তারও
চটজলদি ব্যবস্থা করবেন করোনাজয়ী ওই যোদ্ধারা। অ্যাম্বুল্যান্স তক্ষুণি না পাওয়া গেলে কোভিড যোদ্ধার সঙ্গের বাইকই অ্যাম্বুল্যান্সের কাজ করবে, পৌঁছে দেবে হাসপাতালে।

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির ক্রান্তি এলাকার চা বাগানের শ্রমিক করিমুল মোটরবাইককে অ্যাম্বুল্যান্স করে বাড়ি থেকে হাসপাতালে পৌঁছান রোগীদের। সঙ্গে থাকা ওষুধ দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাও করেন। অভিনব এই সেবার জন্য তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদ্মশ্রী সম্মান দিয়েছেন। এবার কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) উদ্যোগে করিমুলের মতই মোটরবাইক নিয়ে করোনা আক্রান্তের বাড়ি পৌঁছে পরিষেবা দেবেন কোভিডজয়ীরা। তিন শিফ্টে ভাগ করে ২৪ ঘণ্টাই পুরসভার প্রতিটি বরো অফিসের কল সেন্টারে ডিউটি করবেন করোনাজয়ীরা। রবিবার পুরসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশাসক তথা প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, “পুরসভার ১৬টি বরোতেই চালু হচ্ছে এই কলসেন্টার। দায়িত্বে থাকবেন করোনাজয়ীরা। ফোন পেলেই মোটরবাইক নিয়ে পৌঁছে যাবেন রোগীর বাড়িতে। প্রাথমিক চিকিৎসা, অন-কলের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ দেওয়া, ভরতির ব্যবস্থা সবটাই করবেন তাঁরা।”

[আরও পড়ুন: ‘বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় খুনির মতো আচরণ করা হচ্ছে’, ফের বিস্ফোরক রাজ্যপাল]

করোনা রোগীর ভরতি ও দ্রুত চিকিৎসা নিয়ে কলকাতায় যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে তা ১৬টি কলসেন্টার চালুর মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলতে পুরমন্ত্রীর এমন পরিকল্পনা। যেহেতু ওই কোভিড যোদ্ধারা সুস্থ হয়ে ফিরেছেন, তাই তাঁদের শরীরে মারণ ভাইরাস (Coronavirus) প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে আছে। বস্তুত এই কারণেই করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর কাছে গেলে কোনও ঝুঁকি থাকবে না। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা বাইক নিয়ে গেলে ওই সন্দেহভাজন রোগীর থেকে নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই এমন পরিষেবায় কোভিডজয়ীদের নিয়োগ করছে পুরসভা।

পুরসভার ১৬টি বরো অফিসে নিয়োগের আগে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে সমস্ত কোভিড জয়ীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কারণ, ওই কোভিড যোদ্ধারাই শহরের করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও কাউন্সিলিং করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মেনে এ জন্য প্রতি মাসে এই কোভিড যোদ্ধারা ১৫ হাজার টাকা করে সান্মানিক পাবেন। স্বাস্থ্যভবনের তথ্য, এখনও পর্যন্ত কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার মানুষ করোনামুক্ত হয়ে সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরেছেন। মহানগরের এই করোনাজয়ীদের মধ্যে সমাজের নানাস্তরের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও রয়েছেন। অতীন ঘোষের কথায়, “বিশিষ্ট করোনাজয়ীদের দিয়ে কোভিড মোকাবিলায় সচেতনতামূলক প্রচার কর্মসূচি নেওয়া হবে। আর আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া অন্য করোনাজয়ীদের কোভিড হাসপাতালে, সেফ হোম, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে করোনা মোকাবিলায় নানা কাজে নিয়োগ করা হবে।” পুরসভা সূত্রে খবর, বরোর কলসেন্টারে যে সমস্ত কোভিড যোদ্ধারা ডিউটি করবেন তাঁদের অপেক্ষাকৃত কমবয়সি এবং নিজস্ব মোটরবাইক থাকতেই হবে।

[আরও পড়ুন: পার্ক সার্কাস থেকে মেডিক্যাল কলেজ যেতে ৯০০০ টাকা চাইল অ্যাম্বুল্যান্স! নাজেহাল করোনা আক্রান্তের পরিবার]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement