Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
West Bengal BJP

বাংলার মনীষীদের নাম ভুলে অস্বস্তি, কেন্দ্রীয় নেতাদের বঙ্গ সংস্কৃতি শেখাতে ‘শিক্ষক’ নিয়োগ করছে বিজেপি

বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যে এসেই ভিন রাজ্যের নেতারা মঞ্চে উঠে গলায় মালা পরে হিন্দিতে ভাষণ দেবেন, সেটা হবে না। তাঁদের আগে 'হোমটাস্ক' সারতে হবে।

রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১৭:০১

link
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১৭:০১

options
link
বাংলার মনীষীদের নাম ভুলে অস্বস্তি, কেন্দ্রীয় নেতাদের বঙ্গ সংস্কৃতি শেখাতে ‘শিক্ষক’ নিয়োগ করছে বিজেপি zoom
ছবি AI দ্বারা নির্মিত।
Advertisement

খোদ প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলছেন। গজেন্দ্র শেখাওয়াত বলেছেন, ‘বঙ্কিমদাস’। অমিত শাহ আবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলতে গিয়ে বলে দিচ্ছেন ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’। ক্রীড়ামন্ত্রী আবার মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল বলতে গিয়ে বলছেন মোহনবেগান-ইস্টবেগান। বাংলায় এসে বাংলার মনীষীদের নাম বলতে গিয়ে দাঁত ভাঙছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের। আবার ভুল নাম বলে দলের বিড়ম্বনা বাড়াচ্ছেন অনেকে। তাতে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি দলের। এই সমস্যা মেটাতে এবার উদ্যোগী গেরুয়া শিবির।

শোনা যাচ্ছে, বিজেপি এবার কেন্দ্রীয় নেতাদের শিক্ষা দিতে ‘গৃহশিক্ষক’ নিয়োগ করতে চাইছে। এই গৃহশিক্ষকরা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যে এলে তাঁদের স্থানীয় মনীষীদের সম্পর্কে, যে এলাকায় বৈঠক সেই এলাকার খাদ্যাভাস, সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালো করে শিক্ষা দেবেন। তবে এই উচ্চারণ শেখানো বা মনীষী-সংস্কৃতি শেখানোর জন্য বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ করা হবে না। দলেরই বাংলার নেতাদের সেই কাজটা দেওয়া হবে। তাঁরা বহিরাগত নেতাদের রীতিমতো হোমটাস্ক দিয়ে নাম মুখস্থ করাবেন। যাতে অস্বস্তিতে পড়তে না হয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও ভিন রাজ্যের নেতাদের বাংলায় ভোটের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন মোদি-শাহেরা। যদিও সেই নির্বাচনে ভোটের ফল আশানুরূপ হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, কেন্দ্রীয় নেতাদের এত আনাগোনা বাংলার মানুষ মেনে নেননি। বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে হিন্দিতে তাঁদের ভাষণ দাগ কাটতে পারেনি মানুষের মনে। কারণ তাঁরা বাংলার ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সঙ্গেই সম্পৃক্ত নন। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়েই মুখ খুলেছিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলায় ‘অবাঙালি বিজেপি নেতৃত্বের দাপট’ নিয়ে ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। উত্তর ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের চিন্তাভাবনা মেলে না দাবি করে তিনি বলেছিলেন, ‘‘হিন্দি বলয় থেকে এখানে নেতা এনে ভোট করানো যাবে না।’’ কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মন, মেজাজ, তাঁদের অভিমান, এ সব দিল্লিওয়ালা নেতারা বোঝেন না।’’

বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যে এসেই ভিন রাজ্যের নেতারা মঞ্চে উঠে গলায় মালা পরে হিন্দিতে ভাষণ দেবেন, সেটা হবে না। তাঁদের আগে ‘হোমটাস্ক’ সারতে হবে। বিজেপি সব বিধানসভা এলাকার জন্যই আলাদা আলাদা নেতাদের প্রচারের দায়িত্ব দিয়েছে। সেই সব স্থানীয় নেতারাই কেন্দ্রীয় নেতাদের বাঙালি সংস্কৃতির ‘শিক্ষা’ দেবেন। জেলার সংগঠনে কোথায় কী খামতি রয়েছে, স্থানীয় স্তরে ইস্যু কী? সেসব নিয়ে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বিজেপি সূত্রে খবর, ভিন রাজ্যের নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনও ভাবে বাঙালির ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া যাবে না। বিতর্কিত ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আর সেজন্য দরকারে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আরও বেশি বেশি কথা বলতে হবে। অবশ্য বিজেপির একেবারে শীর্ষস্তরের নেতারা এই তালিকায় নেই। তাঁরা নিজেদের মতোই ভাষণ দেবেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.