আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ফের এসআইআর মামলার শুনানি। বুধবারের মতো ওইদিন শুনানিতে অংশ নেবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সে কারণে ফের দিল্লি যাবেন তিনি। এদিকে আবার বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটেয় রাজ্য বাজেট পেশ। তার আগে বেলা সাড়ে বারোটায় ভাষণ দেবেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের ভাষণ ও বাজেট পেশ, দুই সময়েই বিধানসভায় থাকার কথা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এই বিষয়ে আরও খবর
বিধানসভা সূত্রের খবর, শুক্রবার এসআইআর (West Bengal SIR) ও সোমবার বিধানসভার শেষদিনে ভোট অন অ্যাকাউন্ট নিয়ে আলোচনায় সব মিলিয়ে তিনদিনই অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। তবে মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি যাত্রার ফলে সোমবারের পরিবর্তে শনিবার বিধানসভার অধিবেশন শেষ করছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারই অধিবেশনে ভোট অন একাউন্ট নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। সূত্রের খবর, সোমের বদলে শনিবারই হতে পারে আলোচনা।
পরিষদীয় দপ্তর সূত্রে খবর, বাজেট (West Bengal Budget) পেশ হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরেই ক্যাবিনেট বৈঠক বসবে দুপুর দেড়টায়। সেখানেই ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট পাশ হবে। এরপরই মন্ত্রিসভার শিল্পবিষয়ক হাই পাওয়ার কমিটির বৈঠক বসবে। তারপরই বেলা আড়াইটেয় ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট পেশ করবেন বাংলার প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা। পরদিন শুক্রবার সকাল ১১টায় এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের হেনস্তার ইস্যু নিয়ে পরিষদীয় রুলের ১৬৯ নম্বর মোশনে প্রস্তাব পেশ করবেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এক ঘণ্টার জন্য হলেও এসআইআর কেন্দ্রিক এই আলোচনায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন। এরপরই রাজ্যপালের ভাষণের উপর দু’ঘণ্টার বিতর্ক শুরু হবে। এরপর আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার ১ ঘণ্টার জন্য রাজ্য সরকারের পণ্য বিষয়ক একটি বিল নিয়েও আলোচনা হবে। শেষে ভোট অন অ্যাকাউন্ট নিয়ে দু’ঘণ্টার বিতর্ক চলবে। এই শেষদিনেও মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন। তবে ৯ ফেব্রুয়ারির কার্যক্রমে বদল হবে বলেই সূত্র মারফৎ খবর।
যদিও ভোট অন অ্যাকাউন্ট, তবু বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘মা-মাটি-মানুষ সরকার’-এর এই বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ ‘সুখবর’ থাকার সম্ভবনা রয়েছে। বাংলার বাড়ি, কৃষি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা থাকতে পারে তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেটে। শুধু তাই নয়, ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট হলেও সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্য়োগ-সহ অন্যান্য বিষয়েও বাড়তি বরাদ্দের কথা থাকতে পারে চন্দ্রিমার ঘোষণায়। স্বভাবতই ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট’ হলেও বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আবার রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।



