BREAKING NEWS

২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

২০২১-এর আগে বাজারে আনা সম্ভব নয়, Covaxin নিয়ে উলটো সুর বিজ্ঞান মন্ত্রকের

Published by: Paramita Paul |    Posted: July 5, 2020 6:57 pm|    Updated: September 7, 2020 3:13 pm

An Images

ছবি: প্রতীকী

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কথা ছিল, ১৫ আগস্ট দেশীয় করোনা ভ্যাক্সিনের কথা ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিল বিজ্ঞানমন্ত্রক (Science Ministry)। রবিবার তাঁরা জানিয়ে দিল, আগস্ট তো দূর অস্ত, চলতি বছরেও বাজারে মিলবে না করোনার ভ্যাক্সিন (Vaccine)। বরং ২০২১ সালে এই ভ্যাক্সিন খোলা বাজারে মিলতে পারে।  বিজ্ঞান মন্ত্রকের (Science Ministry) এই ভবিষ্যৎবাণী শুনে সমালোচকদের দাবি, বিতর্কের মুখে পড়ে কেন্দ্র ১৮০ ডিগ্রি বদলে ফেলল নিজেদের অবস্থান। আবার কেউ কেউ এর পিছনে গূঢ় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন। কিন্তু বিজ্ঞান মন্ত্রকের এই ঘোষণায় এত বিতর্ক কেন?

দিন কয়েক আগেই আইসিএমআর (ICMR) জানিয়েছিল, কোভ্যাক্সিন (Covaxin) তৈরির দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় সংস্থা। আগস্টেই মানুষের শরীরে উপর সফল প্রয়োগ হতে পারে এই টিকার (Vaccine)। ১৫ আগস্টে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে সেই সাফল্যের কথা প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করবেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আইসিএমআরের এই তাড়াহুড়ো দেখে নাক সিঁটকেছিলেন বিরোধীরা। অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। এমনকী, সাবধান করেছিলেন বিজ্ঞানীরাও। বলেছিলেন, তাড়াহুড়ো করে কোভ্যাক্সিন (Covaxin)  তৈরি করতে গিয়ে বিপদ না ডেকে আনা হয়। সমস্ত দিক পরীক্ষা করেই তবেই যেন কোভ্যাক্সিন (Covaxin)  মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়। তারপরই বিজ্ঞানমন্ত্রক আইসিএমআরের উল্টো সুর শেনাল। কী জানিয়েছে বিজ্ঞান মন্ত্রক?

[আরও পড়ুন : করোনা ঠেকাতে কোনও ঝুঁকি নয়, আগামী বছরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক কেরলে]

সরকারি বিবৃতি তাঁরা জানিয়েছেন, “ছটি ভারতীয় সংস্থা কোভিড-১৯’এর ভ্যাক্সিন তৈরি করছে। COVAXIN এবং ZyCov-D সহ মোট এগারোটি করোনার টিকা মানব দেহে প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু ২০২১ সালের আগে আমজনতার ব্যবহারের জন্য এই ভ্যাক্সিনগুলি বাজারে আসবে না।” এরপরই সমস্ত জল্পনায় জল পড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, “যে দুটি বিদেশি সংস্থা টিকা তৈরির জন্য ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, তাঁদেরও নিজেদের টিকা যে উৎকর্ষ ও নিরাপদ তা প্রমাণ করতে হবে।” জানা গিয়েছে, তাঁরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের অপেক্ষায় রয়েছে।

[আরও পড়ুন : অসাধ্যসাধন DRDO’র, মাত্র ১২ দিনে দিল্লিতে তৈরি হল বিশ্বের বৃহত্তম কোভিড হাসপাতাল]

প্রসঙ্গত. প্রথম দুটি পর্যায়ে ভ্যাক্সিনটি কতটা নিরাপদ (Safely) তা প্রমাণ করতে হয়। তৃতীয় পর্যায়ে ভ্যাক্সিনের কার্যক্ষমতা (Efficacy) প্রমাণ করতে হয়। এই প্রতিটি পর্যায় প্রমাণ করতে দু থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। আবার কখনও তার চেয়ে বেশি। অর্থাৎ সবমিলিয়ে আগামী বছরের আগে খোলা বাজারে করোনার কোনও ভ্যাক্সিন যে মিলবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত সকলেই। 

যদিও রবিবারের দুপুরে কেন্দ্রের এ হেন ঘোষণার বিছনে নতুন রাজনীতি দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের কথায়, বিহারে ভোটের বৈতরণী পার করতে ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কোভ্যাক্সিনের কথা ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এবার তাঁদের লক্ষ্য বদল হয়েছে। দলীয় কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাই পাখির চোখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সে রাজ্যে নির্বাচনের আগে এই ভ্যাকসিনের কথা ঘোষণা করার কথা ভাবনা-চিন্তা করছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলটি। 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement