Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
HPV vaccination

জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে বড় উদ্যোগ, দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে বিশেষ টিকাকরণ অভিযান

ভারতে মহিলাদের ক্যানসার আক্রান্তের নিরিখে জরায়ুমুখ ক্যানসার দ্বিতীয়। প্রতি বছর প্রায় ১.২৫ লক্ষ নারী এতে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন প্রায় ৭৫ হাজার। বিশেষজ্ঞরা এই টিকাকরণ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১৪:৪৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১৪:৪৭

options
link
জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে বড় উদ্যোগ, দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে বিশেষ টিকাকরণ অভিযান zoom
জরায়ুমুখ ক্য়ানসার প্রতিরোধে জরুরি টিকাকরণ। ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধে আগামিকাল, ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের আজমের থেকে বিশেষ টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সী সব কিশোরী এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে যারা ১৫ বছরে পা দেবে, তারা এই টিকাকরণের আওতায় আসবে। টিকাকরণে অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক। এই উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম।

কারণ দীর্ঘদিনের এইচপিভি সংক্রমণ থেকেই অধিকাংশক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্যানসারের সূত্রপাত। ভারতে মহিলাদের ক্যানসার আক্রান্তের নিরিখে এটি দ্বিতীয়। প্রতি বছর প্রায় ১.২৫ লক্ষ নারী এই ক্য়ানসারে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন প্রায় ৭৫ হাজার। বিশেষজ্ঞরা এই টিকাকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র মতে, জরায়ুমুখ ক্যানসার এমন একটি ক্যানসার, টিকাকরণের মাধ্যমে যা ৮০-৯০% প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Advertisement
HPV vaccination campaign to begin nationwide from tomorrow to prevent cervical cancer
ছবি: সংগৃহীত

রাজস্থানের ন্যাশনাল হেলথ মিশনের ডিরেক্টর ডা. অমিত যাদবের কথায়, রাজ্যে প্রায় ১,০০০টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাঁ-হাতে ০.৫ মিলিলিটার ডোজ দেওয়ার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

কোথায় পাবেন এই টিকা?
দেশজুড়ে প্রায় ৩০ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে চলবে এই টিকাকরণ। যে সব কেন্দ্রে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়ার পরিকাঠামো রয়েছে, সেগুলিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে টানা ৯০ দিন চলবে টিকাকরণ। এরপর নিয়মিত টিকাকরণ দিবসে এবং সাধারণত সপ্তাহে দু’দিন এই টিকা দেওয়া হবে। রাজস্থানের ন্যাশনাল হেলথ মিশনের ডিরেক্টর ডা. অমিত যাদবের কথায়, রাজ্যে প্রায় ১,০০০টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাঁ-হাতে ০.৫ মিলিলিটার ডোজ দেওয়ার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। অন্যান্য টিকার মতো এইচপিভি ভ্য়াকসিনও ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়।

HPV vaccination campaign to begin nationwide from tomorrow to prevent cervical cancer
ছবি: সংগৃহীত

অভিভাবকের সম্মতি
বেশি সংখ্যক কিশোরীকে যাতে এই টিকারণের আওতায় আনা যায়, তা নিশ্চিত করতে স্কুলের মাধ্যমে সচেতনতা প্রচার চালানো হয়েছে। এইচপিভি টিকার ক্ষেত্রে ‘অপ্ট-ইন’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, টিকা দেওয়ার আগে অভিভাবকের সম্মতি নিতেই হবে। অন্য নিয়মিত টিকাকরণে যেখানে ‘অপ্ট-আউট’ পদ্ধতি চলে, সেখানে এখানে লিখিত বা ডিজিটাল সম্মতি বাধ্যতামূলক। অভিভাবকরা ‘ইউ-উইন’ (U-win) অ্যাপের মাধ্যমে বা ইন্টারনেট পরিষেবা না থাকলে লিখিত ফর্মে সম্মতি জানাতে পারবেন। টিকা নেওয়ার পর কিশোরীদের বাঁ-হাতের তর্জনীতে বিশেষ চিহ্ন দেওয়া হবে।

HPV vaccination campaign to begin nationwide from tomorrow to prevent cervical cancer
ছবি: সংগৃহীত

সতর্কতা
জন্মতারিখ অনুযায়ী ১৪ বছর বয়সি সব কিশোরী এই টিকাকরণের যোগ্য। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ১৫ বছরে পা দিলে তারাও টিকা পাবে। মাঝারি বা গুরুতর অসুস্থ থাকলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে না। আগে কোনও টিকায় গুরুতর অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে টিকা নেওয়া উচিত নয়। গর্ভবতী বা নির্ধারিত বয়সের বাইরে কেউ এই টিকা পাবে না। যারা আগে থেকেই গার্ডাসিল-৪, গার্ডাসিল-৯, সার্ভারিক্স বা সার্ভাভ্যাক নিয়েছে, তারা নতুন করে টিকা পাবে না। টিকা নেওয়ার আগে খালি পেটে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাই অভিভাবকদের সন্তানকে সকালের খাবার খাইয়ে কেন্দ্রে আনতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রেও প্রয়োজন হলে হালকা খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।

HPV vaccination campaign to begin nationwide from tomorrow to prevent cervical cancer
ছবি: সংগৃহীত

টিকাকরণের পর কী কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে?
টিকা দেওয়ার পর ৩০ মিনিট বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যাতে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলা, জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বমিভাব বা মাথা ঘোরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো এক-দুদিনের মধ্যেই সেরে যায়। প্রয়োজনে প্যারাসিটামল, পর্যাপ্ত জলপান বা ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে। তবে বিরল ক্ষেত্রে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফাইল্যাক্সিস) হতে পারে। তাই প্রতিটি কেন্দ্রে জরুরি চিকিৎসা-কিট থাকবে এবং নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ২৪ ঘণ্টাই প্রস্তুত থাকবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায়। কিশোরীরা সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে অথবা সরকারের ইউ-উইন (U-win) অ্যাপের মাধ্যমে সময় বুক করে টিকা নিতে পারবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য একটাই— জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো এবং মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.