আমরা সাধারণত ‘স্ট্রেস’ শব্দটি শুনলেই নেগেটিভ বা নেতিবাচক কিছু ভাবি। কাজের চাপ, চিন্তা, উদ্বেগ—এ সবই যেন স্ট্রেসের সমার্থক। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সব স্ট্রেস খারাপ নয়। কিছু স্ট্রেস আমাদের এগিয়ে যেতে, নতুন কিছু শিখতে এবং লক্ষ্য পূরণে অনুপ্রাণিত করে। এই ইতিবাচক স্ট্রেসকেই বলা হয় ইউস্ট্রেস (Eustress)। অন্যদিকে, যখন চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে তা উদ্বেগ, হতাশা বা কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তখন তাকে বলা হয় ডিস্ট্রেস (Distress)। তাই স্ট্রেসের প্রকৃতি বোঝা জরুরি। কারণ সঠিক মাত্রার চাপ আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন:
ইউস্ট্রেস ও ডিস্ট্রেসের পার্থক্য
ইউস্ট্রেস ইতিবাচক বা উপকারী স্ট্রেস। নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উৎসাহ দেয়। লক্ষ্য অর্জনে বাড়ায় সাহস। আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়াতেও সাহায্য করে। অন্য়দিকে, ডিস্ট্রেস নেতিবাচক বা ক্ষতিকর স্ট্রেস। তৈরি করে অতিরিক্ত চাপ ও মানসিক ক্লান্তি। বাড়ায় উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার ঝুঁকি। কমায় কর্মক্ষমতা। অর্থাৎ, ইউস্ট্রেস আমাদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শক্তি জোগায়, আর ডিস্ট্রেস সেই চ্যালেঞ্জকেই বোঝা বানিয়ে দেয়।
কেন ইউস্ট্রেসকে ‘ভালো স্ট্রেস’ বলা হয়?
সীমিত ও স্বাস্থ্যকর চাপ মানুষকে নিজের কমফোর্ট জোনের বাইরে যেতে উৎসাহ দেয় এবং সাহায্য় করে তিনভাবে—
১. মানসিকভাবে
ইউস্ট্রেস আমাদের মধ্যে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা, আনন্দ ও তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে।
২. মনস্তাত্ত্বিকভাবে
এটি আত্মবিশ্বাস, আত্মনির্ভরতা এবং মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. শারীরিকভাবে
শরীরচর্চা বা শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরকে আরও শক্তিশালী ও সহনশীল করে তোলে।

দৈনন্দিন জীবনে ইউস্ট্রেসের কিছু উদাহরণ
কাজের ক্ষেত্রে
নতুন কোনও প্রকল্প বা কাজ হাতে নেওয়া, নতুন দক্ষতা শেখা বা নিজের সীমা ছাড়িয়ে কাজ করার চেষ্টা ইউস্ট্রেস তৈরি করতে পারে—যদি সেই চ্যালেঞ্জ বাস্তবসম্মত হয়।
ব্যক্তিগত আগ্রহ ও নতুন কিছু শেখা
নতুন ভাষা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখা বা নতুন কোনও দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা প্রথমে কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে বাড়ায় আত্মবিশ্বাস।
ভ্রমণ
নতুন জায়গায় যাওয়া, ভিন্ন সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়া কখনও কখনও চাপ তৈরি করলেও, তা অনেক সময় আনন্দ ও নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেয়।
শারীরিক অনুশীলন
জিমে কঠিন কোনও শারীরিক কসরত, পাহাড়ে ট্রেকিং বা দৌড়ানো—এসব চ্যালেঞ্জ শরীরকে ভালো রাখতে সাহায্য় করে।

কীভাবে জীবনে ইতিবাচক স্ট্রেস বাড়ানো যায়
- প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন
- বাস্তবসম্মত কিন্তু চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
- কাজ বা জীবনে মাঝে মাঝে কমফোর্ট জোনের বাইরে বেরিয়ে আসুন
- নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
মনে রাখুন
স্ট্রেস জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তবে সব স্ট্রেস ক্ষতিকর নয়। সঠিক মাত্রার ইতিবাচক চাপ বা ইউস্ট্রেস আমাদের আরও উদ্যমী, আত্মবিশ্বাসী এবং সফল হতে সাহায্য করে। তবে যে কোনও ধরনের স্ট্রেসের মধ্যেই ভারসাম্য রাখা জরুরি—কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম ও মানসিক স্বস্তির সময়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুরুত্ব বাড়ছে নতুন প্রজন্মের! এবার নন্দনে জেন জি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন, কী বললেন ‘ইন্ডাস্ট্রি’?
-
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, ফের পাক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি গাভাসকর, কপিল-সহ ২১ প্রাক্তন অধিনায়কের
-
আনন্দপুরে পরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছুরির কোপ! ফিল্মি কায়দায় চলন্ত ট্রেন থেকে রাঁধুনীকে ধরল পুলিশ
-
বরফ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক! অসুস্থ শিশু-সহ কমপক্ষে ২৫, উত্তপ্ত হাড়োয়া
-
রাখিতে গেজেটপ্রেমী ভাই-বোনকে কী দেবেন ভাবছেন? রইল দারুণ গিফটের আইডিয়া