সকালে ঘুম থেকে উঠেই একরাশ ব্যস্ততা। তাড়াহুড়ো করে খাবারের টেবিলে বসা। প্রথম ভাতের দলাটা মুখে তুলতে যাবেন, অমনি আঁতকে উঠলেন! মুখে ঠেকল লম্বামতো একটা চুল। এক নিমেষে খাবারের তৃপ্তি উধাও। মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেল। না খেয়েই এক কাপ চা গিলে তড়িঘড়ি অফিসে বেরিয়ে গেলেন।
অথচ দুপুরে অফিসে বা বাইরে খেতে বসেও যদি সেই একই অভিজ্ঞতা ঘটে? থালায় আবার যদি পাওয়া যায় কুচকুচে কালো চুল! মনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এ কি শুধুই কাকতালীয়? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও রহস্য?
আরও পড়ুন:

কেন এমন ঘটে?
খাবারের থালায় এক-দু’বার চুল পড়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। স্বাস্থ্যবিধি বা অসাবধানতার কারণে এমনটা হতেই পারে। কিন্তু এই ঘটনা যখন বারবার ঘটতে থাকে, তখন আর একে সাধারণ ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বারবার খাবারে চুল পড়া কোনও সাধারণ ইঙ্গিত নয়। এটি গৃহকোণে নেমে আসা এক ঘনকালো অমঙ্গল এবং স্বাস্থ্যের চরম অবনতির সঙ্কেত।
শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিচার অনুযায়ী, অন্ন হল সাক্ষাৎ লক্ষ্মী ও ব্রহ্মের প্রতীক। সেই পবিত্র অন্ন মুখে তোলার আগেই যদি ঘন ঘন চুল দৃষ্টিগোচর হয়, তবে তা ‘পিতৃদোষ’-এর স্পষ্ট লক্ষণ। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, আমাদের প্রাতঃস্মরণীয় পূর্বপুরুষেরা বা পিতৃপুরুষেরা যদি কোনও কারণে অসন্তুষ্ট হন, তবে তার প্রভাব পড়ে সংসারের দৈনন্দিন জীবনে। প্রয়াণ করা আত্মারা যখন রুষ্ট হন, তখন মানব জীবনে নেতিবাচক শক্তির দাপট এক লহমায় বেড়ে যায়। সাজানো গোছানো শান্ত সংসার নিমেষে তছনছ হয়ে যেতে পারে।
পিতৃদোষের প্রভাবে জীবনের চতুর্দিক থেকে বিপদ ধেয়ে আসে। পারিবারিক কলহ, অকারণ অর্থনাশ, কাজে বাধা এবং মানসিক অশান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে ওঠে। এই অশুভ প্রভাব বা নেগেটিভ এনার্জি কাটানো অত্যন্ত জরুরি। খাবারের পাতে বারবার চুল পড়া যেন সেই পরলোকগত আত্মাদেরই এক মৌন আর্তনাদ। তাঁরা মনে করিয়ে দেন, তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় কর্ম বাকি রয়ে গিয়েছে।

রেহাই পাওয়ার উপায় কী?
এই ভয়ানক সঙ্কেত থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়ও শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করা রয়েছে। প্রথমত, কোনও অভিজ্ঞ জ্যোতিষী বা পণ্ডিতের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পিতৃপুরুষদের আত্মার সদগতি ও শান্তির উদ্দেশ্যে সঠিক রীতি মেনে শ্রাদ্ধ, তর্পণ বা তিল তর্পণ সম্পন্ন করতে হবে। গয়া ধামে বা পবিত্র কোনও তীর্থে গিয়ে আত্মশান্তির পুজো দেওয়া অত্যন্ত শুভ ফলদায়ক।
পূর্বপুরুষেরা প্রসন্ন হলে এবং পিতৃদোষ কাটার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। সংসারে আবার ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটে। জীবনে ফিরে আসে সুখ ও সমৃদ্ধি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দাপট কমে যাওয়ায় খুন! নাকাশিপাড়ায় বাবা-ছেলের মত্যুতে ধৃত ১৩, উদ্ধার বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র
-
ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণা! গ্রেপ্তার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা
-
দিনে ফেসবুক-ইনস্টা ব্যবহার করা যাবে মাত্র ২ ঘণ্টা! রাতে কাজ করবে না অ্যাপ, ব্যাপারটা কী?
-
‘বেআইনি’ বিলবোর্ড খুলতে ক্যামাক স্ট্রিটে পুরসভা ও পুলিশ, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিষেক
-
যাদবপুরের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব’ বাড়াতে পদক্ষেপ, অনুষ্ঠানে কী বার্তা অর্থমন্ত্রীর?