সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গৃহে অচঞ্চলা থাকুন লক্ষ্মী। কোন গেরস্থ না তা কামনা করেন! সুখ-সমৃদ্ধি ও বিত্তে ঘর ভরে উঠুক কে না চান! আর তাই কোজাগরী পূর্ণিমায় ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন। বিধি মেনে ভক্তিভরে সম্পদের দেবীর আরাধনা। কখনও পুরোহিতরা তা করে থাকেন। তবে অনেক বাড়িতে ঘরের লোকেরাই দেবীর অর্চনা করেন। তবে এক্ষেত্রে কয়েকটা জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
কোজাগরী- কঃ জাগর অর্থাৎ কে জেগে আছে।পূর্ণিমার রাতে এই দেখতেই নাকি মর্ত্যধামে ঘুরে বেড়ান মা লক্ষ্মী। ঠিক সে কারণেই সন্ধে নামতেই ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। সাধারণত সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবেই তাঁকে আমরা জানি। তবে বেশ কিছু অনুষঙ্গ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। যেমন কৃষি। কৃষকরা যাঁরা জেগে শস্য পাহারা দিচ্ছেন, তাঁরাই প্রকৃত সম্পদের অধিকারী হতে পারেন। লক্ষ্মীলাভ করতে পারেন। এ যেমন এক অর্থে কোজাগরী, তেমনই অন্তরমহলেও জেগে থাকার ব্যখ্যা দেন অনেকে। শুধু অর্থ নয় মানুষের চরিত্রই তার সম্পদ। চরিত্রহীন মানুষ একরকম লক্ষ্মীছাড়াই। আর তাই লক্ষ্মীর আরাধনা মানে নিজেদের চরিত্রকে উন্নত করা। তা করতে আমাদের অন্তরকে জাগ্রত রাখতে। লোভ-বাসনা-কামনার ফাঁদ থেকে প্রতিনিয়ত নিজেদের থেকে বাঁচতে হবে। সুতরাং এও এক ভিতরমহলের জেগে থাকা। এরকম বহু অনুষঙ্গ মিলেমিশে লক্ষ্মী আরাধনার প্রচলন। বর্তমানে তো লক্ষ্মীপুজো ঘিরে যে বাজার তৈরি হয়, তাতেও বহু মানুষের অন্নসংস্থানের সম্ভাবনা। তবে অর্থ যাই হোক না কেন, আরাধনার সময় প্রচিলত বিধি মেনে কয়েকটি জিনিস নজরে রাখাই বাঞ্ছনীয়।
কী সেগুলো?

লক্ষ্মীপুজোয় কাঁসর বা ঘণ্টা না বাজানোর কথা বলা হয়। প্রচলিত মত, আওয়াজে অসন্তুষ্ট হন দেবী। চঞ্চলা হয়ে তিনি সেই মুহূর্তে সে স্থান পরিত্যাগ করেন। আমরা অনুমান করতে পারি এও আসলে নিজের অন্তরকে জাগিয়ে রাখার এক পদ্ধতি। ঘণ্টা-কাঁসর ধ্বনিতে মনসঃযোগ ব্যহত করা নয়, বরং তন্ময় হয়ে দেবীর আরাধনা, লক্ষ্মীলাভ তথা নিজেদের চরিত্রকে উন্নত করতে সদা তন্নিষ্ঠ থাকাই এই অর্চনার উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয়ত, লক্ষ্মীপুজোয় লোহার থালা ব্যবহার করতে না বলা হয়। স্টিলের থালাতেও না বলেন প্রবীণরা। বলা হয়, অলক্ষ্মীর জন্য লোহা, লক্ষ্মীর জন্য নয়। হয়তো কৃষি ও যন্ত্রসভ্যতার দ্বন্দ্ব এই প্রক্রিয়ার অন্তরালে থেকে গিয়েছে। তবু একে পূজন পদ্ধতি হিসেবেই মানা হয়।
লক্ষ্মীপুজোয় তুলসী পাতা দিতে নিষেধ করা হয়। বলা হয়, লক্ষ্মী বিষ্ণুর শক্তির অংশ। এবং সেই হিসেবে তুলসী তাঁর সতীন। আমরা আন্দাজ করতে পারি, শীতের শুরুতে সর্দি-জ্বরে ভোগা বাংলাদেশে তুলসীপাতার অপব্যবহার রুখতেই এই নিয়ম।
তবে ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, এই নিয়ম লক্ষ্মীপুজোয় দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা হচ্ছে। তাই দেবীকে সন্তুষ্ট করতে কিংবা পরম্পরা অনুযায়ী এ কাজ না করাই বাঞ্ছনীয়। বরং বিধি মেনেই জ্বলে উঠুক প্রদীপ। আসুক সমৃদ্ধি। আর ঘরে ঘরে ধ্বনিত হোক-
ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমঽস্তু তে।।
সর্বশেষ খবর
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল
-
‘তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই’, বঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক কংগ্রেস নেতা বেনুগোপালের
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের