সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এই পরিস্থিতির মধ্যে অ্যালকোহলপ্রেমীদের চাহিদার বিরাম নেই। জনতা কারফিউয়ের আগের দিন মদের দোকানগুলিতে লম্বা লাইন চোখে পড়েছিল। লকডাউনের সময় মদ কিনতে গিয়ে পুলিশের লাঠিও খেয়েছে মদপ্রেমীরা। কিন্তু রাখে হরি, মারে কে! মদ্যপানের জন্য এবার এক চিকিৎসকই দুয়ার খুলে দিলেন সাদরে। প্রেসক্রিপশনে তিনি লিখে দিলেন ‘মদ খেতে হবে’। ওটাই নাকি ওষুধ। এমনকী কীভাবে মদ খেতে হবে, তাও প্রেসক্রিপশনে লিখে দিয়েছেন ওই চিকিৎসক।
ঘটনাটি ঘটেছে কেরলে। যিনি প্রেসক্রিপশনটি করেছেন, সেই চিকিৎসক কোদুনগল্লুর ও উত্তর পারাভুরে প্র্যাকটিস করেন। সম্প্রতি এক রোগীকে তিনি ওষুধ হিসেবে মদ খাওয়ার কথা পরামর্শ দিয়েছেন বলে খবর। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই প্রেসক্রিপশনটি গোপন থাকেনি। ফাঁস হয়ে গিয়েছে নেটদুনিয়ায়। সেখানে চিকিৎসক লিখেছেন, রোগীকে সুস্থ হতে গেলে ৬০ মিলিলিটার ব্র্যান্ডি খেতে হবে। তাও সোডা ও বাদামচাট সহযোগে। দিনে তিনবার এই ‘পথ্য’ খেলেই ঘটবে রোগমুক্তি। এমন অভাবনীয় ‘পথ্য’ ত্রিভূবনে কেউ কখনও শুনেছে কিনা সন্দেহ। তাই এই প্রেসক্রিপশনের ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। বেনজির এই প্রেসক্রিপশন নিয়ে এখন সরগরম নেটদুনিয়া।
[ আরও পড়ুন: OMG! এটিএমে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেখে এ কী করলেন ব্যক্তি, ভাইরাল ভিডিও ]
তবে অনেকে আবার এর পিছনে চিকিৎসকের দোষ দেখছেন না। কারণ, কেরল সরকার সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কোনও ব্যক্তি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে দোকান থেকে মদ কিনতে পারবে। কারওর যদি ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম’ (মদ না পেলে যাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন বা আত্মঘাতী হতে পারেন) থাকে, তাহলে তাদের জন্য অ্যালকোহল বিক্রিতে কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। তবে প্রতি ক্ষেত্রেই প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক। এই ঘোষণারা পরই এই প্রেসক্রিপশনের ছবি জনসমক্ষে আসে। তাই চিকিৎসককে শূলে চড়াতে রাজি নয় অনেকেই।
যদিও সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র বিরধিতা করেছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, কোনও চিকিৎসক কখনও প্রেসক্রিপশনে এমন কথা লিখতে পারেন না। রোগীকে তাঁরা ওষুধের কথা লিখতে পারেন। ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম’ হলে মনোবিদের সাহায্য নেওয়ার কথা লিখতে পারেন। কিন্তু মদ খাওয়ার কোনও সমাধান নয়।
এদিকে বেগতিক দেখে বিতর্ক ঝেড়ে ফেলতে ময়দানে নেমে পড়েছেন ওই চিকিৎসক। তিনি জানিয়েছেন, নেহাত ঠাট্টার ছলে তিনি এমন প্রেসক্রিপশন বানিয়েছেন। সরকারে ঘোষণার পর তিনি ঠাট্টা করেই প্রেসক্রিপশনে ব্র্যান্ডির কথা লিখে বন্ধুদের পাঠিয়েছিলেন। কেউ সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দিয়েছে। এতে তাঁর কিছু করার নেই। কিন্তু তাতে নেটিজেনরা শুনবে কেন? চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।
[ আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলার হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে সিঙারা চেয়ে মোক্ষম শাস্তি পেলেন ব্যক্তি ]
সর্বশেষ খবর
-
মূলস্রোতের স্কুলে পড়বে দিব্যাঙ্গ শিশুরাও! পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর রাজ্যের
-
ষষ্ঠ বিদেশি সই করিয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল, এক বছরের জন্য লাল-হলুদে আইভোরি কোস্টের স্ট্রাইকার
-
ফুচকার লোভ দেখিয়ে নাবালিকাকে ‘ব্যাড টাচ’! গ্রেপ্তার প্রতিবেশী ‘দাদু’, উত্তরপাড়ায় হুলস্থুল
-
চূড়ান্ত হয়ে গেল কলকাতা লিগের ডার্বির দিনক্ষণ, বারাসতে মুখোমুখি হবে মোহন-ইস্ট
-
বুধে বালুরঘাটে সুকান্তের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন মুখ্যমন্ত্রী, মেনুতে থাকছে কোন বিশেষ মাছ?
