জীবনের প্রথম সব কিছুই চির স্মরণীয়। কখনও পুরোনো হয় না। সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও কথাটা খাটে। তবে আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে। আপনি দরকারে লগ্নি করুন বা ইচ্ছায়, জীবনের প্রথম সঞ্চয়ের স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখা আপনারই দায়িত্ব। তার জন্য কীভাবে লগ্নি করতে পারেন, জানালেন শমীৎ রায়
পেশাদার উপদেষ্টা আমি, কাজের সূত্রে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয়। অনেকেই তাঁদের টাকা-পয়সা নিয়ে চিন্তাভাবনা আমার সঙ্গে ভাগ করে নেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আজ কলম ধরছি। আমরা কেন খরচ করি বা কী ভেবে ক্রয় করি, এই প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু করি। কারণগুলি আমি দুই শ্রেণিতে ভাগ করেছি। দরকার এবং ইচ্ছা। খুব দরকারে অথবা সামান্য দরকারে বা খুব ইচ্ছায় অথবা সামান্য ইচ্ছায় আমরা কেনাকাটা করি।
মনে করুন, আপনার কোনও কিছু খুব দরকার। যদি নিজের টাকা না থাকে, তাহলে হয় ধার করতে হবে নয় ধীরে ধীরে কিনতে হবে কাঙ্খিত বস্তু। আর যদি টাকা থাকে, তাহলে অভাব মেটাতে পারবেন সহজেই। প্রয়োজনে নিজের ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন, সন্তানকে স্কুলে ভরতি করাতে পারবেন, পরিবারে কেউ অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখাতে পারবেন।
এবার ভাবুন, সামান্য দরকার আছে এমন পরিস্থিতি আপনার সামনে। ফ্ল্যাট তো হল, এবার দরকার ফ্রিজ এবং এয়ার কন্ডিশনার। স্কুলে তো ভরতি হল সন্তান, এবার চাই নানা ধরনের বইখাতা। ডাক্তার তো দেখালেন, এবার চাই আরও একটি ওপিনিয়ন। অর্থাৎ মতামত।
[আরও পড়ুন: ‘নন্দীগ্রামে রক্তগঙ্গা, মমতাদির ফোন, প্রিয়দাকে ধরো এখনই’…তারপর]
এভাবেই শ্রেণিভাগ হতে পারে আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছা। টাকা থাকা এবং না-থাকার মধ্যে এক্ষেত্রেও ফারাক বোঝা যায়। বস্তুত, অনেক ধরনের উদাহরণ দেখতে পাবেন, যখন সাধারণ ইচ্ছাগুলিকে মানুষ বাস্তবায়িত করতে চান। এখানে ইমোশন অনেক সময় জোরালোভাবে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। অপেক্ষাকৃত স্বল্প উপার্জন যিনি করেন, তাঁর ক্ষেত্রে ইমোশন যেমন জরুরি ভূমিকা পালন করে, ঠিক তেমনই করে বিত্তশালী মানুষের ক্ষেত্রে। ইনভেস্টমেন্টের জগতে ইমোশনের নির্দিষ্ট একটি স্থান আছে, তা অস্বীকার করার মতো কখনওই নয়। দরকার বা ইচ্ছা, যেগুলির বিষয়ে প্রথমেই জানিয়েছি, সবেতেই এই কথা প্রযোজ্য হবে বলে ধরে নেওয়া যায়। কিছুর জন্য খরচ করা বা পণ্য-পরিষেবা ক্রয় করার প্রসঙ্গে আমার এই বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখুন। বিনিয়োগের পিছনেও থাকে কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ-সেগুলিই আমাদের লগ্নির ধরণ-ধারণ ঠিক করে দেয়।
জীবনের প্রথম সঞ্চয়কে স্মরণীয় করুন:
এবার লেখার ধারাটি সামান্য বদলে আমি চলে আসি অন্য এক বিষয়ে। যদিও তা এরই সঙ্গে কিছুটা হলেও সম্পর্কিত। আমাদের জীবনের প্রথম সঞ্চয়কে স্মরণীয় করে তোলা উচিত। যেভাবে জন্মদিন বা অ্যানিভার্সারি পালন করি, ঠিক সেভাবেই মনে রাখা দরকার, প্রথমবার করা লগ্নির মুহূর্তের স্মৃতি। যেমন সদ্য উপার্জন শুরু করা অল্পবয়সি কোনও তরুণ বা তরুণী। জীবনের প্রথম উপার্জন হাতে পাওয়ার পর থেকে তিনি কী করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বলব-গোড়াতেই পৌঁছে যান কোনও লগ্নি উপদেষ্টার কাছে। অন্তত ছয় মাস কেবল সঞ্চয় করে যান, তার পর যদি ধার-বাকি থাকে, তা শোধ দেওয়ার জন্য সচেষ্ট হোন। তারপরই শুরু করুন সঠিক লগ্নির প্রক্রিয়া।
পরিশেষে বলি, অর্থকে বিকটভাবে ভালবাসবেন না, সংস্থান করতে জানতে হবে। তবে অর্থই সব নয়, যদিও অধিকাংশ সমস্যা দূর করার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। আমাদের ‘লাইফ স্প্যান’ খুবই সীমিত, তাই দ্রুত লক্ষ্যবস্তুগুলি চিহ্নিত করুন। তাহলে পরীক্ষিত উপায়ে সমস্যার সুরাহা খুঁজে নিতে পারবেন। সব খুঁটিনাটি বলার সুবিধা এই মুহূর্তে নেই, তবে যে ব্যক্তি কৌতূহলী এবং আগ্রহী, তিনি ঠিকই সব পদ্ধতিগুলির বিষয়ে শিখে নেবেন। দেরি করলে সময় নষ্ট হবে, আর সময়ের থেকে দামি কি আর কিছু আছে?
(লেখক লগ্নি পরামর্শদাতা)
[আরও পড়ুন: নিশ্চয়তার আশ্বাস ফিক্সড ডিপোজিট, তবে জেনে নিতে হবে এই তথ্যগুলি ]
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার