৫০০ টাকায় শুরু, আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্র্যান্ড! ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার ‘বিশ্বজয়ে’র কাহিনি
নেপাল ক্রিকেটার সোমপাল কামি ‘জ্যাপ’ ব্যাট দিয়েই ২০২৩ সালের এশিয়া কাপে হার্দিক পাণ্ডিয়ার বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
সত্যিকারের স্বপ্নই তাঁকে কর্মঠ করে তুলেছে। স্বপ্নই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিরন্তর পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করেছে তাঁকে। কলেজ জীবনের মাঝপথেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছিল ভাব্যাকে। আর পাঁচজনের মতো দশটা-পাঁচটার ডিউটি তাঁর কাছে চিরকাল না-পসন্দ। প্রচলিত চাকরির পথ তাঁকে টানেনি। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু করেন ব্যবসা।
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে, দিনে আঠারো ঘণ্টা পরিশ্রম করে এবং যা বিক্রি করা সম্ভব, তাই বিক্রি করে শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। ছোট একটি ট্রেডিং ব্যবসা হিসেবেই ‘জ্যাপ’-এর যাত্রা শুরু হয়। ভাব্যা অনলাইনে একাধিক পণ্য বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। অ্যামাজনের মতো বড় প্ল্যাটফর্মেও তিনি প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। শুরুর দিনগুলো ছিল বাধাবিঘ্ন এবং অনিশ্চয়তায় ভরা। তবু কোনও কিছুই তাঁকে থামাতে পারেনি।
আরও পড়ুন:
অন্য ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি বন্ধ করে ভাব্যা নিজস্ব একটি ব্র্যান্ড গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের নামেই পণ্য বাজারে আনতে তিনি তৈরি করেন ‘জ্যাপ’। একটি ছোট বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসাবে শুরু হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ‘জ্যাপ’ পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ব্র্যান্ডটির দ্রুতই সবার নজর কাড়ে। এমনকী ‘পুমা’ এবং উদয়পুরের মহারাজার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সক্ষম হয় এটি।
নেপাল ক্রিকেট দলকে স্পনসর করা প্রথম ভারতীয় ব্র্যান্ড হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘জ্যাপ’। এটি ছিল এই সংস্থার সাফল্যের বড় মাইলফলক। হাতে ‘জ্যাপ’ ব্যাট নিয়েই নেপাল দল এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছিল। নেপাল ক্রিকেটার সোমপাল কামি ‘জ্যাপ’ ব্যাট দিয়েই ২০২৩ সালের এশিয়া কাপে হার্দিক পাণ্ডিয়ার বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।
ভারতে তৈরি ‘জ্যাপ ক্রিকেটে’র পণ্য এখন রপ্তানি হচ্ছে নেপাল, দুবাই, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড। বর্তমানে ‘জ্যাপ ক্রিকেট’ ব্যান্ডের কদর বিশ্বজুড়ে। বিভিন্ন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশে ব্যাট সরবরাহ করে থাকে তারা। এই ব্র্যান্ডের ব্যাট বাজারে এলেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। চলতি আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ডেরায় দেখা গিয়েছিল ভ্যাবাকে। অনেক ক্রিকেটারই পরখ করে দেখছেন জ্যাপের উন্নত মানের ইংলিশ উইলো ব্যাট।