পুরীর ভূগর্ভে প্রাচীন নগরীর হদিশ! জগন্নাথ মন্দির থেকে সমুদ্র পর্যন্ত ছিল সুড়ঙ্গ?
প্রথমে শ্রমিকরা এক প্রাচীন সিংহমূর্তির সন্ধান পান। এরপর গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার সমীক্ষায় ধরা পড়ে নগরের অস্তিত্বের দিকটি।
‘শ্রীমন্দির পরিক্রমা প্রকল্প’ চলাকালীন শ্রমিকরা এক প্রাচীন সিংহমূর্তির সন্ধান পান। যা দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকরা দাবি করেছিলেন, ওই নিদর্শন শক্তিশালী গঙ্গা রাজবংশের আমলের। আর তারপরই এই অত্যাধুনিক সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। বলে রাখা ভালো, জিপিআর হল এমন এক সমীক্ষা যাতে তড়িচ্চুম্বকীয় তেজস্ক্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মাটির নিচে ধাতব/অধাতব বস্তুর সন্ধান করা হয়।
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে, ভূগর্ভে যে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে, তা মোটেই কেবলমাত্র মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলেই আবদ্ধ নয়। বরং গোটা পুরী জুড়েই ওই নগরী বিস্তৃত ছিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমার মঠ, নৃসিংহ মন্দির, বুড়ি মা মন্দির ও তৎসংলগ্ন রাস্তা- সব মিলিয়ে ৪৩টি অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে বলে গবেষকদের দাবি।
এর আগে যে সিংহমূর্তি দু'টি উদ্ধার হয়েছে সেগুলি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যা নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল। তবে তখনই বোঝা যায়, ওই মূর্তি এবং ৩০ ফুট দীর্ঘ প্রাচীরটি গঙ্গা রাজবংশের। এরই সঙ্গে ৭.৬ মিটার দীর্ঘ ও ৩ মিটার চওড়া একটি কক্ষও পাওয়া গিয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন, ওখানেই স্বর্ণখচিত মূর্তি পুজো হত।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, মন্দির প্রশাসন ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আইআইটি গান্ধীনগরকে দিয়ে ওই জিপিআর সমীক্ষা করায়। কিন্তু রিপোর্টটি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। মন্দির প্রশাসন দাবি করে তারা প্রতিবেদনটি পায়নি। অন্যদিকে আইআইটি গান্ধীনগর জানায়, তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পরে আইনজীবী দিলীপ বরাল একটি আরটিআই আবেদনের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি সংগ্রহ করেন এবং অবিলম্বে বৈজ্ঞানিক খনন ও সংরক্ষণের দাবি জানান।
ওড়িশার সমুদ্রতীরবর্তী শহর পুরীতে অবস্থিত শ্রী জগন্নাথ মন্দির হিন্দুধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। বিখ্যাত চার ধামের অন্যতম এই মন্দির জগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার উদ্দেশে সমর্পিত। গঙ্গা বংশের রাজা অনন্তবর্মণ ১১১২ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ এই মন্দিরের নির্মাণ শুরু করেন। ১১৬১ নাগাদ শেষ হয় মন্দিরের নির্মাণ। মন্দিরটি বেলেপাথরের তৈরি। এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল রথযাত্রা। সারা পৃথিবীর মানুষ জড়ো হন রথযাত্রায় অংশ নিতে।