কোটি কোটির দুর্নীতির অভিযোগ, ১৫ গুণ ধনী স্ত্রী! হলফনামায় কত সম্পত্তি দেখালেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা?
পাঁচ বছরে কত সম্পত্তি বেড়েছে হিমন্তর?
হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে বিজেপি ইতিমধ্যেই প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। একের পর এক কংগ্রেস নেতা গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত বিজেপি। তাই প্রচারের যাবতীয় রণকৌশল হিমন্তকে কেন্দ্র করেই। নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা প্রচারে যাচ্ছেন বটে। কিন্তু দলের ব্যাটন মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই।
আরও পড়ুন:
হিমন্ত বিশ্বশর্মা বরাবর শিরোনামে। তাঁর বিরুদ্ধে বেফাঁস মন্তব্য, বিভাজনের রাজনীতি করার রাজনীতি করার অভিযোগ নতুন নয়। তবে হিমন্তর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগ ওঠে সেটা হল দুর্নীতি। সারদা থেকে পিপিই, অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বহু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও বহু দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে হিমন্তর প্রভাবশালী স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে।
হিমন্ত এবারও অসমের জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় লড়বেন। ওই আসনে জেতা মোটের উপরে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন হিমন্ত। ২০০১ সালে প্রথমবার কংগ্রেসের টিকিটে জালুকবাড়ির বিধায়ক হন। আরও দু’বার ওই আসনে জিতে রাহুল গান্ধীর দলের বিধায়ক হন তিনি। ২০১৫ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। এর পর ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জয়ী হন একই আসনে। এবারও নিজের গড়েই লড়বেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
প্রার্থী হিসাবে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী হলফনামা দিয়েছেন তিনি। খানিকটা চমকপ্রদভাবেই দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হিমন্ত কোনও স্থাবর সম্পত্তি দেখাননি। হলফনামার হিসাবে অনুযায়ী, তাঁর মাত্র ২.৩৬ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। যা ২০২১ সালে ছিল ১.৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে সম্পত্তিবৃদ্ধি ৬০ লক্ষের কিছু বেশি। যা কিনা তাঁর বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
হিমন্তর আয়ের মূল উৎস দেখিয়েছেন তাঁর বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পাওয়া বেতন। নগদ হিসাবে তাঁর কাছে রয়েছে ২.২৮ লক্ষ টাকা এবং চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে মোট ৬৮ লক্ষের কিছু বেশি। তিনি কোনও বন্ড, শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর নিজের নামে মোট ৯৫ লক্ষ টাকার ঋণ রয়েছে, যা মূলত ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া।
হিমন্তর স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়ার সম্পত্তি অবশ্য স্বামীর ১৫ গুণ। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হলফনামায় তাঁর এবং স্ত্রী রিনিকির যৌথ সম্পত্তি দেখানো হয়েছে ৩৫ কোটি টাকার। রিনিকি একটি মিডিয়া সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তাঁর আরও বহু সম্পত্তি রয়েছে। বহু দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ রিনিকির সম্পত্তি মাত্র ৩২ কোটি! সেটাও অনেকের জন্য বিশ্বাসযোগ্য নয়।
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর মোট সম্পত্তি ৩৩ কোটি টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ১৩.৫৪ কোটি টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি ১৯.২৫ কোটি টাকার। এর মধ্যে নিজস্ব ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিনিয়োগ মাধ্যমেও তাঁর প্রায় ৫.১০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে রিনিকির নামে ঋণের পরিমাণ ১৫.৯১ কোটি টাকা।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের মূল অভিযোগ মূলত দুর্নীতি কেন্দ্রিক। হাত শিবিরের দাবি, ২০১৫ সালের লুইস বার্গার থেকে শুরু করে সারদা কেলেঙ্কারি, পিপিই কিট কেলেঙ্কারি, ফ্লাইওভার কেলেঙ্কারির মতো বহু কেলেঙ্কারিতে যুক্ত হিমন্ত ও তাঁর স্ত্রী। সব মিলিয়ে কোটি কোটি টাকার বেনামি সম্পত্তি রয়েছে তাঁর। যদিও সেই কেলেঙ্কারির অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়নি।
এর বাইরে হিমন্তর বিরুদ্ধে খুনের মামলাও রয়েছে। অস্ত্র আইনেও মামলা রয়েছে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। টাডা আইনেও অভিযুক্ত অসমের মুখ্যমন্ত্রী। এই মামলাগুলির বেশ কয়েকটি কংগ্রেস আমলের। কংগ্রেসের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর স্ত্রীর বিভিন্ন সংস্থাকে বেআইনিভাবে নির্বাচনে সুবিধা পাইয়ে দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।