শ্যামাপ্রসাদ-দুর্গাচরণ থেকে দিলীপ ঘোষ, বঙ্গ বিজেপির উত্থানে নীরবে কাজ করেছেন সংঘের বহু নেতা
আজ বঙ্গ বিজেপি মহীরুহ। কিন্তু সেই মহিরুহের গোড়াপত্তন হয়েছিল সেই পাঁচের দশকে শ্যামাপ্রসাদের হাত ধরে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
আজকের বাংলায় যে বিজেপি মহীরুহ সেটার আদর্শগত ভিত্তি কিন্তু পুরনো। সমস্যা হল, ৩৪ বছরের বামশাসনে তথাকথিত লিবেরাল ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির আমদানি বঙ্গে হিন্দুত্ববাদী এবং জাতিয়তাবাদী রাজনীতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দেশভাগের যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানো যে বাংলা সংঘের জন্য উর্বর ভূমি হতে পারত, সেটাই দীর্ঘদিন সেভাবে সোনার ফসল ফলাতে পারেনি।
বঙ্গের এই 'পাকে' গেরুয়া পদ্ম ফোটাতে গত কয়েক বছরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে সংঘ পরিবারও। রাজ্যে পরিবর্তনের স্রোতে ক্ষমতায় এলেও সেভাবে সংগঠন সেভাবে শক্তিশালী নয়। সেই সাংগঠনিক কাজটা করে গিয়েছে সংঘের কর্মীরা। তাছাড়া বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের মাধ্যমে আরএসএস সরাসরি জনমত গঠন করেছে। ছোট ছোট স্কুল, ব্রতচারী শিক্ষা কেন্দ্র, এসব তৈরি করে তৃণমূল স্তরে হিন্দুত্বের প্রচার করেছে সংঘ। যার অবদান বিজেপির জয়ে অপরিসীম।
আরএসএস দীর্ঘদিনই জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের আদিবাসী, রাজবংশী এলাকায় কাজ করছিল। তবে বঙ্গে পদ্ম ফোটাতে হলে শুধু যে সংঘের সংগঠন যথেষ্ট নয়, সেটা আরএসএসও জানত। সেকারণেই বিজেপির মূল সংগঠনে নজর দেওয়া। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পরই বঙ্গে বিজেপির ডালপালা বিস্তার শুরু। সেসময় রাহুল সিনহা একা কুম্ভের মতো দীর্ঘদিন রাজ্য বিজেপির দুয়ার আগলে ছিলেন। ২০১৬ সালের বিধানসভার আগে সেই ভার যায় দিলীপ ঘোষের হাতে।
দিলীপ দীর্ঘদিন ধরে আরএসএসের প্রচারক। ছোটবেলায় থেকে ঘরছাড়া হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে প্রচার চালিয়েছেন দিলীপ। বাংলায় আসার আগে আন্দামানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখানে সাফল্য পাওয়ার পরই দিলীপকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি করা হয়। এবং বছর ছয়েকের দায়িত্বে রীতিমতো চমকে দেন দিলীপ। তাতে অবশ্য খানিকটা কৃতিত্ব ছিল মুকুল রায়েরও।
বঙ্গ বিজেপির আজকের এই মহীরুহ রুপের নেপথ্যে দু'জনের অবদান অনস্বীকার্য। একজন শমীক ভট্টাচার্য। মার্জিত ভদ্রলোক হিসাবে তাঁর পরিচিতি বিজেপিকে মধ্যবিত্ত বাঙালির ঘরে ঘরে ঢুকতে সাহায্য করেছে। দ্বিতীয়জন, শুভেন্দু অধিকারীর। বঙ্গে যে হিন্দুত্বে জোয়ার, সেটার নেপথ্যে শুভেন্দু যে রাজ্যের সব প্রান্তে ঘুরে ঘুরে প্রচার করেছেন, তার কৃতিত্ব রয়েছে।