জ্বালানি সংরক্ষণের বার্তা মোদির, নজরে শাহরুখ-সলমনদের ‘জায়েন্ট’ কনভয়! কার কটা ‘বাহন’?
দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ছেঁটেছেন, তখন সেলেবপাড়ার কি ধ্যান ভাঙল?
তালিকার শীর্ষে সলমন খান। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের তরফে বারবার খুনের হুমকি আসায় সলমনের কনভয়ের বহর ভারতীয় সিনেদুনিয়ার যে কোনও তারকাকে টেক্কা দেবে। গ্যালাক্সিতে হামলার পর গত দেড় বছর ধরে অভিনেতা বিপুল সংখ্যক পুলিশ, সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী, এসকর্ট গাড়ি এবং বাড়তি নিরাপত্তার জন্য বিদেশ থেকে আনা একটি বুলেটপ্রুফ 'নিসান প্যাট্রোল' এসইউভি ব্যবহার করেন। যে গাড়ি বলিউডের আর কারও সংগ্রহে নেই।
আরও পড়ুন:
শুটিং স্পটে কিংবা জনসমক্ষে আসার সময় সলমন খানকে ঘিরে থাকা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছবি বারবারই উঠে এসেছে পাপারাজ্জিদের তোলা ভিডিও ফুটেজে। ২০২৪ সাল থেকে মহারাষ্ট্র সরকার সলমন খানকে উচ্চস্তরের 'Y+' ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'Y+' ক্যাটাগরির নিরাপত্তার আওতায় অন্তত ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত থাকেন। আর আউটডোর শুটিংয়ের সময় অন্তত দুটি ভ্যানিটি ভ্যান ব্যবহার করেন ভাইজান।
এই প্রেক্ষিতে শাহরুখ খানের নামও উল্লেখ্য। কারণ সিনেমার প্রচার, আইপিএলের অনুষ্ঠান থেকে সর্বত্র বৃহৎ বলয়ের কনভয় ব্যবহার করেন তিনি। কিং মানেই ভক্তদের উন্মাদনা। তাঁকে ছোঁয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকে শত-সহস্র ভক্ত। অতঃপর বাদশার নিরাপত্তাবলয় মানেই সেখানে তাবড় সব বিলাসবহুল বাহন থেকে নিরাপত্তা রক্ষীদের গাড়ি এবং পুলিশি সুরক্ষা থাকে। 'মন্নত' থেকে বের হওয়ার সময়ে দেখা যায় সুপারস্টারের গাড়ির বহরের পাশাপাশি সারি দিয়ে এগিয়ে চলেছে আরও অনেক...
'পাঠান' এবং 'জওয়ান'-এর বিপুল সাফল্যের পর শাহরুখ খান প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ায় তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। শাহরুখ খান বর্তমানে Y+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা সুবিধা পান। অতঃপর শাহরুখের কনভয় মানেই অন্তত খান সাতেক গাড়ি বরাদ্দ। তবে শুটিং স্পটে শুধু একটি ১৪ চাকার ভ্যানিটি ভ্যানই ব্যবহার করেন তিনি। এর মধ্যে আবার সদ্য যোগ হয়েছে বিদেশি গাড়ি 'ক্যাডিল্যাক এসক্যালেড'।
আরও পড়ুন:
কোথায় দাঁড়িয়ে বচ্চন সা'ব? কৌতূহল অস্বাভাবিক নয়। অমিতাভ বচ্চন দীর্ঘদিন ধরেই বিশাল কনভয় নিয়ে যাতায়াতের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে শুটিংয়ের সময়। রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও এমনকী রাজনৈতিক কোনও অনুষ্ঠানে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ জনসমাবেশে যাওয়ার সময়ে তাঁর কনভয় আরও বেশি করে নজরে পড়ে। যদিও সেলেবপাড়়ার তরুণ তুর্কীদের তুলনায় বিগ বি'র কনভয় খানিক 'জায়েন্ট' বা জমকালো মনে হতে পারে, তবে হাজার হোক তিনি ভক্তদের শাহেনশা, তাই তাঁর নিরাপত্তার...
অমিতাভ বচ্চনের কনভয়ে নিরাপত্তা কর্মী, সহকারীদের গাড়ি, ভ্যানিটি ভ্যান এবং এসকর্ট গাড়ি মাস্ট! তিনি সাধারণত নিজের কাস্টমমেড ভ্যানিটি ভ্যানই ব্যবহার করেন। তবে, সিনেমার প্রিমিয়ার এবং 'কেবিসি'র শুটিংয়ের সময়ে তাঁর নিরাপত্তা আরও জোরদার থাকে। মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে অমিতাভ বচ্চনকে X ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এই নিরাপত্তাবলয়ে সাধারণত দুজন থেকে চারজন পুলিশকর্মী থাকেন।
'পুষ্পা' সিনেমার গগনচুম্বী সাফল্যের পর থেকে আল্লু অর্জুনের কনভয়ও সিনেদুনিয়ার চর্চায় থাকে। কড়া নিরাপত্তাবলয়ের চাদরে ঢেকে ঘোরেন তিনি। সিনেমার প্রিমিয়ার কিংবা যে কোনও হাইপ্রোফাইল অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য একাধিক কালো রঙের এসইউভি গাড়ি, ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের আলাদা যান বরাদ্দ থাকে আল্লুর জন্য। এছাড়াও ভিড় নিয়ন্ত্রণের কারণে পুলিশ কর্মীদের আলাদা গাড়ি থাকে আল্লুর কনভয় ঘিরে।
'পুষ্পা ২' সিনেমার প্রচারের সময় তাঁর কনভয়ের বিভিন্ন ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত নেটভুবনে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। আল্লু অর্জুনের সঙ্গে সবসময়ে একটি টিম থাকে। যারা অভিনেতাকে প্রতিটা পদে পদে সাহায্য করে। তাদের জন্যেও আলাদা গাড়ি বরাদ্দ থাকে 'পুষ্পা'র কনভয়ে। আর শুটিংয়ের ক্ষেত্রে ফ্যালকন নামের একটি অত্যন্ত বিলাসবহুল তথা বিশেষ বিদেশি ভ্যানিটি ভ্যান ব্যবহার করেন তিনি। দক্ষিণের বাকি তারকাদের স্টারডমকে কনভয়েই অনায়াসে টেক্কা দিতে পারেন আল্লু অর্জুন।
সদ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন থলপতি বিজয়। তাঁর জনসমাবেশ, রাজনৈতিক সভা এবং সিনেমার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম হয়,ফলত প্রায়শই বিজয়ের বিশাল কনভয়ের প্রয়োজন হয়। রাজনৈতিক দল টিভিকে গঠনের পর এবং 'লিও' ও 'গোট' -এর মতো ছবিগুলোর ধারাবাহিক সাফল্যের সুবাদে বিজয়ের রোড শো থেকে জনসমাবেশগুলিতে নিয়মিত ভিড় উপচে পড়ে। তাঁর নিরাপত্তাবলয়ে এসইউভি গাড়ির দীর্ঘ সারি, নিরাপত্তা যানবাহন এবং কড়া পুলিশি এসকর্ট থাকে।
বিভিন্ন মিছিল এবং শুটিংয়ে যাওয়ার সময় থলপতির কনভয়ের বেশ কিছু ভাইরাল ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে তাঁর 'দৈত্যাকার কনভয়ে'র গাড়ির সংখ্যা নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছিল। তবে সুপারস্টার থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই নিরাপত্তাবলয় যে আরও জোরদার হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির জ্বালানি সংরক্ষণের নির্দেশিকার পরই প্রশ্ন উঠেছে, তারকারা কি সেদিকে ধ্যান দিচ্ছেন? (ছবি- সংগৃহীত)