অ্যানাল সেক্স, পরপুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হতে চাপ! কেন ১৫ বছর অসুখী দাম্পত্য কাটালেন সেলিনা?
প্রেমের টানে অস্ট্রেলিয়া নিবাসী হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হগের সঙ্গে ২০১১ সালে সংসার পেতেছিলেন সেলিনা।
আরও পড়ুন:
সেলিনা লেখেন, "অনেকেই প্রশ্ন করেন, একজন সফল, শিক্ষিত মহিলা হয়েও অসুখী দাম্পত্যে কেন ১৫ বছর কাটালাম? আমি নিজেকেও সে প্রশ্ন করি। কেন প্রথম ঘটনার পরই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে এলাম না? কিংবা দ্বিতীয়, তৃতীয় ঘটনায়। আমি কি দৃষ্টিশক্তিহীন? দুর্বল? নাকি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম? লোকে যা ভাবে তার চেয়েও সত্য কঠিন। অত্যাচার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হিংসা থেকে শুরু হয়। কিন্তু এটা শুরু হয়েছিল ভালোবাসা থেকে, বিশ্বাস, শপথ থেকে।...
সেলিনা আরও লেখেন, "কিন্তু এটা ক্রমাগত ঘটছে না। মাঝে কিছু ভালো দিনও রয়েছে। ক্ষমা চাওয়া রয়েছে। কান্নাকাটি রয়েছে। পরিবর্তন দেখে মনে হয়েছে এটি সত্যি। আশা জেগেছে। দিন দিন আশা বেড়েছে। ধীরে ধীরে সহ্যক্ষমতা বেড়েছে। মানসিক এবং মৌখিক অত্যাচার আঘাতের চিহ্ন রাখে না। তবে আত্মবিশ্বাস শেষ করে দেয়। তুমি সহ্য করবে। তারপর অতিরিক্ত সহ্য করতে শুরু করবে।"
আরও পড়ুন:
সেলিনার কথায়, "তুমি ভাববে সব কিছু ঠিক হয়ে গিয়েছে। বিশেষত তুমি যখন বিশ্বাস করতে শুরু করবে বিয়ে পবিত্র বন্ধন। তখন আরও ভালোবাসলে। আরও সহ্য করবে। শান্ত হয়ে যাবে। সেই সময় কাছের মানুষেরাও অপরিচিতের থেকে আরও বেশি ভয়ানক হয়ে উঠবে। অত্যাচার সবসময় শারীরিক হয় না। কখনও কখনও নীরবেও আঘাত করা যায়। তাই কেন দাম্পত্যে টিকেছিলাম সে প্রশ্ন করবেন না। বরং জিজ্ঞাসা করুন কোন ফাঁদে পা দিয়ে...
বছরখানেক ধরে সিনেপর্দা, লাইমলাইটের অন্তরালে থাকলেও একসময়কার ‘বোল্ড’ বলিউড নায়িকাকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। গত বছর স্বামী অস্ট্রেলিয়া নিবাসী হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হগের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন সেলিনা। ডিভোর্সনামায় পরপুরুষের সঙ্গে শুতে বাধ্য করা থেকে বছরের পর বছর ধরে শারীরিক নিগ্রহ, অস্বাভাবিক যৌনতায় লিপ্ত হওয়া, এমনকী মোটা অঙ্কের পণ দিতে বাধ্য করার মতো একাধিক বিস্ফোরক ঘটনার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন সেলিনা।
সেলিনার দাবি, বিয়ের ঠিক পর থেকেই স্বামীর আসল রূপ দেখতে পান তিনি। অভিনেত্রী জানান, “পিটার আমাকে পণের জন্য বাধ্য করত। বলত, সমস্ত ভারতীয় জামাইদের দেখেছি মোটা পণ, দামি পোশাক, গয়না পেতে। ফলত আমার বাড়ি থেকে পিটারকে ৭ লক্ষ টাকার গয়না-কাফলিঙ্ক উপহার দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ইতালিতে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে যখন ঋতুস্রাবের মরণকামড়সম যন্ত্রণায় ভুগছি, পিটারকে বলেছিলাম, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। ও রেগে গিয়ে আমার উপর...
তিনি আরও বলেন, "বিকৃত যৌনচারে অভ্যস্ত ছিল পিটার। নিত্যদিন পায়ুকামে (অ্যানাল সেক্স) বাধ্য করত আমাকে। স্ত্রী হিসেবে আমার প্রতি মানসিক টান তো দূরঅস্ত, আমাকে যৌনপুতুলে পরিণত করেছিল স্বামী পিটার হগ। সন্তানদের সামনে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করত।” এমনকী নগ্ন ছবি তুলে রেখে বিভিন্ন সময়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও তুলেছেন সেলিনা জেটলি।
বলিউড অভিনেত্রীর অভিযোগ, পিটার অত্যন্ত নিষ্ঠুর। সবসময়ে তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করেন। তিন সন্তান বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সমস্তরকম যোগাযোগ ছিন্ন করতে বাধ্য করেছেন পিটার। মৌখিকভাবে যাতে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, আদালতের কাছে সেই আবেদনও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি খোরপোশ হিসেবে পিটারের থেকে ৫০ কোটি টাকা চেয়েছেন সেলিনা জেটলি।