ক্ষমতার দাপট, কোটি কোটি দুর্নীতি! সরকার নির্বাচনের আগে কোন সিনেমা-সিরিজগুলি দেখা মাস্ট?
শুরু ভোটের কাউন্টডাউন। দিন তিনেক বাদেই রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। এমন আবহে দেখে নিতে পারেন সরকার নির্বাচনের পাঠ দেওয়া বেশ কিছু সিনেমা-সিরিজ। তালিকায় অমিতাভ, শাহরুখের ছবিও।
দিল্লির ক্ষমতার লড়াই এবং রাজনীতির অন্ধকার দিক নিয়ে তৈরি হয়েছিল সইফ আলি খান ও জিশান আয়ুবের ‘তাণ্ডব’। কীভাবে ক্ষমতার লোভে সইফ অভিনীত সমরপ্রতাপ সিং বাবার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে প্রধানমন্ত্রীর পদ দখলের চেষ্টা করে, সেই গল্পই রয়েছে সিরিজে। ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গও রয়েছে 'তাণ্ডব'-এ। যার জেরে অ্যামাজন প্রাইমের এই সিরিজ ভয়াবহ বিতর্কে জড়িয়েছিল।
আরও পড়ুন:
রণবীর কাপুর, ক্যাটরিনা কাইফ, অজয় দেবগণ অভিনীত 'রাজনীতি' মুক্তি পেয়েছিল ২০১০ সালে। ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক পরিবার ও তাঁদের দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে তৈরি এই ছবি। একাংশের অনুমান, রণবীর কাপুর রাজীব গান্ধী ও ক্যাটরিনা কাইফ সোনিয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন! কেউ বা বলেন, 'মহাভারত'-এর প্রেক্ষাপটে আধুনিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তৈরি। প্রতিশোধ, ক্ষমতার নেশা কীভাবে রণবীর অভিনীত সমীরপ্রতাপকে চালিত করেছিল? জানতে হলে ভোটের আবহে দেখুন।
২০০১ সালে মুক্তি পায় অনিল কাপুর অভিনীত 'নায়ক'। পর্দায় তিনি একদিনের জন্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদ সামলেছিলেন। আমজনতার 'নায়ক' হিসেবে মহারাষ্ট্রের দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী অমরীশ পুরী অভিনীত বলরাজ চৌহানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন শিবাজী। ক্যাবিনেট থেকে দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মীদের সরিয়ে, বলরাজকে গ্রেপ্তার করিয়ে নতুন দিশা দেখায় অনিলের 'শিবাজি'। এই ছবির হাত ধরেই নাকি তাঁর কাছে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তাব এসেছিল। ভোটের আবহে জমে যাবে 'নায়ক'।
থলপতি বিজয় অভিনীত 'সরকার' তামিল অ্যাকশন-থ্রিলার সিনেমা। যার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক কর্পোরেট সংস্থার চাকুরেকে ঘিরে। কর্মসূত্রে যিনি বিদেশে থাকেন। তবে ভোট দেওয়ার জন্য ভারতে ফিরে এসে দেখেন যে, তাঁর ভোটটা ইতিমধ্যেই কেউ দিয়ে দিয়েছে। আর সেই ঘটনাই 'নির্বাচনী জালিয়াতি'র বিরুদ্ধে একটি আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। ভোটের দিনে রিগিংয়ের অভিযোগের ঘটনা এদেশে নতুন নয়।
আরও পড়ুন:
ছত্তীসগড়ের নকশাল অধ্যুষিত এক প্রত্যন্ত জঙ্গলে নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় আদর্শবাদী সরকারি কর্মী নূতন কুমার ওরফে 'নিউটন'কে। যিনি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনপ্রক্রিয়া চালাতে চান জঙ্গলমহলে। যেখানে তার দেখা হয় সিআরপিএফ জওয়ান আত্মা সিং ওরফে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর সঙ্গে। তবে নিজের নীতির সঙ্গে আপস করেনি নিউটন। ভোটের আবহে এই সিনেমা দেখে নিতে পারেন অ্যামাজনে।
২০১০ সালে আমির খান, কিরণ রাও প্রযোজিত এই পলিটিক্যাল স্যাটায়ার দর্শক-সমালোচকমহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। কৌতুকের মোড়কে 'পিপলি লাইভ' দেখিয়েছিল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্দশা, গ্রামের দারিদ্র্যকে হাতিয়ার করে কীভাবে নির্বাচনী প্রচার কৌশলী সাজানো হয়? অনুষা রিজভি, মাহমুদ ফারুকী পরিচালিত এই ছবিতে রঘুবীর যাদব, ওমকার দাশ মানিকপুরী, শালিনী ভৎসা থেকে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির মতো দুঁদে শিল্পীরা অভিনয় করেছিলেন।
বলিউডের জনপ্রিয় রাজনৈতিক থ্রিলার ঘরানার ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম 'সরকার'। পরিচালক রামগোপাল ভার্মার এই রাজনৈতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি বেজায় ঝড় তুলেছিল দর্শকমহলে। 'সরকার'-এর প্রত্যেকটি সিনেমার গল্পই বাস্তব রাজনীতি থেকে অনুপ্রাণিত। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি, অপরাধ জগত এবং ক্ষমতার দম্ভকে তুলে ধরেছিলেন রামগোপাল। অমিতাভ বচ্চনের অভিনয়ও বেজায় প্রশংসিত হয়। একাংশের অনুমান, বিগ বি'র সুভাষ নাগড়ে চরিত্রটি বাল ঠাকরে রাজনৈতিক দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত।
পঞ্চায়েত দেখে 'ফুল্লেরা' গ্রামের প্রেমে পড়েননি এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া দায়! পর পর ৪টি সিরিজে ছক্কা হাঁকিয়েছেন সচিবজি জীতেন্দ্র তিওয়ারি, প্রধান রঘুবীর যাদব এবং নীনা গুপ্তা। তৃতীয় ও চতুর্থ মরশুমে ফুল্লেরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচন দেখিয়েই দর্শকমহলে সাড়া ফেলে এই সিরিজ। ভোটে পঞ্চায়েত স্তরের রাজনীতি কীভাবে সরগরম হয়ে ওঠে, সেই কাহিনিই তুলে ধরা হয়েছে 'পঞ্চায়েত'-এর শেষ ২ সিজনে।
২০২৩ সালে 'হইচই'য়ের পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল সৌরভ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘রাজনীতি’। রিজপুরের সিংহাসন দখল করতে এক পরিবারের অন্দরে কীভাবে ষড়যন্ত্র চলে? সেই ঘটনা দেখিয়েই প্রশংসা অর্জন করেছিল কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, দিতিপ্রিয়া রায় ও কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত ওয়েব সিরিজ। দ্বিতীয় সিজন ‘আবার রাজনীতি’তেও দুর্নীতি, নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আবহে এই সিরিজ কিন্তু মাস্ট ওয়াচের তালিকায়! (ছবি- সংগৃহীত)