আমেরিকার আসল চেহারা ফাঁস করেছিলেন মারাদোনা! ৮ বছর পর বিশ্বকাপে প্রকাশ্যে ‘কেলেঙ্কারি’
ভবিষ্যদ্রষ্টা মারাদোনা!
আমেরিকায় ফুটবল ছিল 'দুয়ো রানি'। অথচ সারা বিশ্বে পরম আদরের। টাকা নয়, ভালোবাসাই সেখানে মুখ্য। ফিফা নিজের মতো ব্যবসাকে গুরুত্ব দিলেও কিছু বাধা থেকেই যায়। কিন্তু আমেরিকায় পা রাখতেই সেখানে বিজ্ঞাপনের পসার। আর্থিক ঝনঝনানি আর অধিক মুনাফার চাপে ফুটবল যেন ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে। যার আদর্শ উদাহরণ 'হাইড্রেশন ব্রেক'।
আরও পড়ুন:
এই 'হাইড্রেশন ব্রেক' কী জিনিস, তা আর নতুন করে বলার নয়। বিশ্বকাপের ম্যাচে হাফটাইম ছাড়াও দু'বার বিরতি নেওয়া হয়। ফিফার যুক্তি, আমেরিকায় প্রবল গরমের জন্য জলপানের ও বিশ্রামের জন্য এটুকু বিরতি দরকার। যাতে আরও তেড়েফুঁড়ে বাকি ম্যাচটা খেলা যায়। কিন্তু সত্যিই কি তাই? নাকি এই সময়ে যে বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে, তা থেকে বিরাট মুনাফা কামাচ্ছে ফিফা। শুধুই ডলারের ঝনঝনানি।
এটা যে হতে চলেছে, তা ৮ বছর আগেই অনুমান করেছিলেন মারাদোনা। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল ১৯৮৬-র বিশ্বজয়ের নায়কের বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন, "আমেরিকা ম্যাচকে দুই অর্ধের বদলে চার ভাগে ভাগ করবে। যাতে মাঝখানে বিজ্ঞাপন দেখানো যায়। দেখবেন, সেটাই হবে।" এখানেই শেষ নয়। আমেরিকাকে খোঁচা দিয়ে তিনি আরও বলেছিলেন, "ফুটবল নিয়ে ওদের কোনও আবেগ নেই।"
২০২৬-এ এসে সেটাই সত্যি হয়ে দেখা দিচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপকে আমেরিকা আর ফিফা হাত ধরাধরি করে আর্থিক মুনাফা ঘরে তোলার বিশাল মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছে। আর সেখানে ফুটবল নামক আবেগ, একটা ধর্মকে জোর করে বিজ্ঞাপনের তকমায় কালিমালিপ্ত করতে চাইলে ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভক্তগণ তো বিদ্রোহ করবেই। চুপ করে থাকছেন না কোচেরাও।
আরও পড়ুন:
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি অভিযোগ করছিলেন, “যখন প্রতিপক্ষকে আমরা চেপে ধরেছি, ঠিক সেই সময় প্রতিপক্ষ দল এই ব্রেকের সুবিধাটা নিচ্ছে। গতিময় ফুটবলের যে মোমেন্টটা তৈরি হয়েছিল, সেখানে সমাপ্তি।” ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল তো পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, “এই হাইড্রেশন ব্রেক, এভাবে ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে দেবে, ভাবতেই পারছি না।”
বিশ্বকাপের মাঝে চারিদিকে এমন পর্যায়ে এই ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে যে, বাধ্য হয়ে মিডিয়ার সামনে মুখ খুলে নিজেদের পক্ষে সাফাই দিতে বাধ্য হয়েছেন খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জানাচ্ছেন, এই হাইড্রেশন ব্রেকের বিজ্ঞাপন থেকে ফিফা নাকি অতিরিক্ত কোনও অর্থ পাচ্ছে না। কতটা সত্যি কেউ জানে না।
অনেকে বলতে পারেন, আমেরিকার প্রতি মারাদোনার রাগ থেকেই এই কথা বলেছেন। এর আগে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লু.বুশকে তিনি 'যুদ্ধাপরাধী' বলেছিলেন। বলেছিলেন "আমেরিকাকে আমি ঘৃণা করি।" আর আজ এই ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে অনেকেই কিংবদন্তির সঙ্গে একমত। আমেরিকা বিশ্বকাপের এই বিজ্ঞাপনী' চক্করে পড়ে ফুটবল তার নিজস্ব কৌলিন্য হারিয়ে আমেরিকান রাগবি না হলে বাস্কেটবলের মতো হয়ে গিয়েছে।