রোনাল্ডোদের জার্সিতে ভারতের চিহ্ন, মেসিদের সঙ্গী রাজনীতি! কোন গল্প লুকিয়ে বিশ্বকাপের জার্সিগুলোতে?
কেন ব্রাজিলের অ্যাওয়ে জার্সি ‘বিষাক্ত’?
চেনা মেরুন জার্সির উপর সমুদ্রের ঢেউ। আবার অ্যাওয়ে জার্সিতেও নীল ঢেউ। পর্তুগালের জার্সি এবারের অন্যতম সেরা। কী এর অর্থ? পর্তুগালের ইতিহাস সমুদ্রপথে ছড়িয়ে। যার মধ্যে আছে ভারতও। ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামা সমুদ্রপথে কেরলের কালিকটে আসেন। তারপরও আরও অনেকে এসেছে। সেই অর্থে ভারতের ছোঁয়া নিয়েই এবার রোনাল্ডোরা নামবেন। জার্সির ডিজাইনের মূল বক্তব্য হল- সামুদ্রিক ইতিহাসের মতো অকুতোভয়ী ফুটবলাররা বাধা ভেঙে এগিয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন:
গত বিশ্বকাপের বিজয়ী। নীল-সাদা ছাড়াও অ্যাওয়ে জার্সির গাঢ় নীল রঙে থাকছে লতানো গাছের চিহ্ন। দেখতে নিঃসন্দেহে অসাধারণ। এই জার্সির ঘূর্ণায়মান নকশাটি বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী 'ফিলেটিডো পোর্টেও' নামক লোকশিল্প থেকে অনুপ্রাণিত। ইটালি থেকে আসা অভিবাসীরা ঘোড়ার গাড়িতে এই ধরনের সাইনবোর্ড আঁকতেন। 'ফিলেটিডো' মানে সুতো। আর 'পোর্টেও' মানে বন্দর। কিন্তু এটা হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক আন্দোলনের অস্ত্র। তাই ২০০৬ সাল পর্যন্ত তা নিষিদ্ধ ছিল।
উরুগুয়ের অ্যাওয়ে জার্সি দেখে অনেকের মনে পড়বে কমিক্স চরিত্র ব্ল্যাক প্যান্থারের কথা। আসলে কালো জার্সির উপর অনেকটা ডোরা-কাটা নীল আভা। মাঝে চার তারা-সহ লোগো। তবে এটা ব্ল্যাক প্যান্থারের নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে উরুগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাস। ১৯৩০ সালে দেশের মাটিতে বিশ্বজয়ী হয় উরুগুয়ে। ফাইনাল হয় ইস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে। সেই স্টেডিয়ামের আদলেই অ্যাওয়ে জার্সির ডিজাইন।
বিশ্বজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এবার তাদের হোম ও অ্যাওয়ে দুটো জার্সির মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি আছে। লাল জার্সিতে থাকছে বাঘের গায়ের মতো ছাপ। তাদের লোগোতেও বাঘ থাকে। অ্যাওয়ে জার্সির রং হালকা বেগুনি। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে মাথায় রেখেই এই ডিজাইন। যা একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সুন্দর ফুটবল ও আগ্রাসী মনোভাবের প্রকাশ।
আরও পড়ুন:
নজর কেড়েছে মেক্সিকোর হোম জার্সিও। এবার তারা অন্যতম আয়োজক। চেনা সবুজ জার্সি তো থাকছেই। তার উপর যে ডিজাইনটা থাকছে, তার নেপথ্যে রয়েছে মেক্সিকোর ইতিহাস ও পুরান। সে দেশের অন্যতম জাতীয় চিহ্ন হল পিয়েদ্রা দেল সোল। অর্থাৎ ইনকা সভ্যতার সূর্য দেবতা। বেসল্ট শীলায় তৈরি এই আকারের একটি মূর্তি মেক্সিকোর জাদুঘরে রাখা আছে। কলারে লেখা, 'সোমোস মেক্সিকো'। অর্থাৎ 'আমরা মেক্সিকো।'
জার্মানির হোম জার্সি দেখে ফিরে যেতে হবে ইতিহাস। ১৯৯০ ও ২০১৪-সহ মোট চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে জার্মানি। ১৯৯০ সালে জার্সিতে কালো, লাল, হলুদ রং ছিল। যা ছিল তিনটে ভাঁজে। আর ২০১৪-তে লাল রঙের 'ভি' শেপ ছিল। দু'টোকে মিলিয়ে এবার কালো-লাল-হলুদ রঙের 'ভি' শেপ তৈরি করা হয়। এবার তাদের অ্যাওয়ে জার্সি নীল রঙের। যা ১৯৫৪ সালের জার্সি থেকে অনুপ্রাণিত। ১৯৭৪ সালে নীল জ্যাকেট পরে মাঠে নামে জার্মানি।
অ্যাওয়ে জার্সিতে অভিনব ডিজাইন তৈরি করেছে বেলজিয়াম। যেখানে থাকছে সে দেশের বিখ্যাত বিমূর্তবাদী চিত্রশিল্পী রেনে মাগ্রিতের ছোঁয়া। রেপ্লিকা জার্সির পিছনে লেখা আছে, 'ছবির চালাকি।' আসলে ১৯২৯ সালে রেনের আঁকা ছবিটা 'এটা আসলে পাইপ নয়' থেকে অনুপ্রাণিত। এমনকী তাঁর আঁকা বিখ্যাত ছবি 'দ্য সন অফ ম্যান'-এর আদলে মুখের সামনে আপেল নিয়ে ছবি তুলেছেন কেভিন দে'ব্রুইনেরা।
হাইতির জার্সিতে পোল্যান্ডের জাতীয় পতাকা। নীল জার্সির তলায় এক কোণে ছবি আঁকা আছে। হাইতি ছিল ফরাসি উপনিবেশ। ১৮০২ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্টে স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে ৫০০০ সৈন্য পাঠান। যার মধ্যে ছিল পোল্যান্ডের লোকেরাও। কিন্তু হাইতির মানুষের দুর্দশা দেখে তারা যোগ দেয় বিদ্রোহীদের দলে। সেটাকে হাইতি স্মরণ করেছে। তবে ফিফা এই জার্সি ব্যান করে দিয়েছে।