অস্তিত্ব সংকটে দেশের এইসব ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, ট্রেন্ডে ফিরিয়ে চমকে দিন যুবপ্রজন্মকে!
আধুনিকতার ছোঁয়ায় পশ্চিমি পোশাকের দিকে ক্রমশ ঝোঁক বাড়ছে তরুণীদের। তা সত্ত্বেও শাড়ি এখনও নিজের দাপটে অটুট।
শাড়ি যে মহিলারা ভালোবাসেন না এমনও নয়। কোনও বিয়েবাড়ি হোক কিংবা পূজাপার্বণ - সেই সময় শাড়িকে বেছে নেন তরুণীরা। হাল ফ্যাশনের শিফন থেকে লিনেন। কিংবা কাঞ্জিভরম থেকে পাটোলা - নানা ধরনের শাড়ি পরেন তন্বীরা। যদিও বর্তমানে সুতির শাড়ির দাপট বেড়েছে বেশ খানিকটা। হালফিলের স্লিভলেস ব্লাউজের সঙ্গে শরীরে একেবারে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা সুতির শাড়ি মন জয় করেছে বহু তরুণীর।
আরও পড়ুন:
লিনেন থেকে কাঞ্জিভরম - নানা অনুষ্ঠানে পরার হরেক রকম শাড়ি নিশ্চয়ই আপনার ওয়াড্রোবেও রয়েছে? তবে জানেন কি বহু শাড়িই হারিয়ে যাচ্ছে। অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে ভিনরাজ্যের কমপক্ষে সাত ধরনের শাড়ি। বাংলার তাঁতের শাড়িও কিছুটা ব্য়াকফুটে। যদিও টাঙ্গাইল, জামদানি, বেগমপুরীর দাপট শাড়ির বাজারে বেড়েছে খানিকটা। সস্তা, ফ্য়াশনেবল এবং চটজলদি পরে ফেলা যায় বলে টাঙ্গাইল এবং বেগমপুরীর প্রতি ক্রমশ টান বাড়ছে মহিলাদের।
অস্তিত্ব সংকটে কলোনিয়ান গোয়ান চেক। এই ধরনের শাড়ি কুনবি নামেও পরিচিত। এই ধরনের শাড়ি মূলত লাল, কালো, মেরুনের মতো গাঢ় রঙের হয়। প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ ব্যবহার করে এই শাড়িতে রং করা হয়। চেক নকশা এবং সাধারণ বর্ডারই হল শাড়িটির মূল ইউএসপি। পর্তুগিজদের পাড়ি জমানোর আগে একসময় বেশিরভাগ গোয়ানিজ এই ধরনের শাড়ি পরতেন।
তবে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ কিংবা সায়া পরতেন না। কাঁধের উপর দিয়ে পেঁচিয়ে হাঁটু পর্যন্ত লম্বা করে শাড়ি পরতেন মহিলারা। এভাবে শাড়ি পরে কৃষিকাজ-সহ অন্যান্য কাজ করতে সুবিধা হয় তাঁদের। এই কুনবি শাড়ি বর্তমান অনলাইনে পাওয়া যায়। তা সত্ত্বেও শাড়ির চাহিদা কমেছে। স্বাভাবিকভাবেই বর্তমানে তা অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
আরও পড়ুন:
উত্তর কর্নাটকের পাতেদা আঞ্চু প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন শাড়ি। এই শাড়িটিকে পবিত্র বলেই ধরেন স্থানীয় মহিলারা। তাই ভগবানকেও অর্পণ করেন কেউ কেউ। এই শাড়িটি খুব নরম হয়। বরং সুতো বেশ খসখসে। গাঢ় রঙের এই শাড়িটি মূলত জ্যামিতিক চেক প্যাটার্নের জন্যই প্রসিদ্ধ। শাড়ির পাড়ে বিশেষত গঙ্গা-যমুনার ছোঁয়া। যা শাড়িকে যে আরও সুন্দর করে তোলে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
তেলেঙ্গানার সিদ্দিপেট অঞ্চলের বিখ্যাত শাড়ি গোল্লাভামা। এই গোল্লাভামা শব্দের অর্থ গোয়ালিনী। সে কারণে শাড়ির আঁচল ও পাড়ে থাকে গোয়ালিনী মোটিফ। যার আঁচল এবং পাড়ে দক্ষতার সঙ্গে দুধের পাত্র হাতে নারীর ছবি তুলে ধরা হয়। গত ২০১২ সালে শাড়িটি জিআই ট্যাগ পায় এই শাড়িটি। শাড়িটি সম্পূর্ণ হাতে বোনা। উজ্জ্বল রঙের এই শাড়িটি একসময় স্থানীয় বহু মহিলার ছিল একমাত্র পছন্দের।
একসময় এই হিমরু শাড়ি তৈরি করতেন ঔরঙ্গাবাদের বুনন শিল্পীরা। ঐতিহাসিক মার্কো পোলোও শাড়িটির প্রশংসা করেছিলেন। মূলত মুঘল আমল থেকে নবাবের পরিবারের মহিলারা এই শাড়ি পরতেন। তাই সে শাড়ির আভিজাত্যই ছিল অন্যরকম। একে তো এই শাড়ি তৈরিতে সময় লাগে অনেক বেশি। তার উপর শাড়ির দামও বেশি। সে কারণে শাড়িটি বর্তমানে কিছুটা অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের সুনগুডি শাড়ি সপ্তদশ শতকের। টাই অ্যান্ড ডাই এই শাড়িটি মূলত উজ্জ্বল রঙের হয়। পুরো প্রাকৃতিক রং দিয়ে এই শাড়ি রাঙিয়ে তোলা হয়। যা অত্যন্ত হালকা এবং আরামদায়ক। ছোট বিন্দু কিংবা জ্যামিতিক নকশায় মোড়া এই শাড়ি বহু নারীর মন জয় করেছে। ব্লক কিংবা ওয়াক্স প্রিন্টিংয়ের ব্যবহারও দেখা যায় এই শাড়িতে। গরমের জন্য একেবারে আদর্শ। এই শাড়ি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।