তেলের আকাশছোঁয়া দাম কেড়েছে ইন্দিরা-মনমোহনদের কুর্সি, মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে পারবেন মোদি?
ভোট মিটতেই সপ্তাহদুয়েকের মধ্যে দফায় দফায় তেলের দাম বাড়ছে দেশে।
আগামী দিনে যুদ্ধ থামলেও ভারতে মূল্যবৃদ্ধির দাপট কমবে না বলেই আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। ইক্রা-র মুখ্য নীতি উপদেষ্টা ডি কে শ্রীবাস্তবের মতে, “পেট্রোল, ডিজেলের দাম ইতিমধ্যেই লিটার প্রতি ৭.৫০ টাকা বেড়েছে। ফলে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার জুন মাসে ৫% ছুঁয়ে ফেলবে। যেহেতু জ্বালানির খরচ বাড়ার ফলে মূল্যবৃদ্ধি বাড়বেই, তাই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়ালেও এই মূল্যবৃদ্ধিকে পুরোপুরি লাগাম পরানো যাবে না।"
আরও পড়ুন:
এই পরিসংখ্যানই চিন্তা বাড়াচ্ছে বিজেপির অন্দরে। কারণ তেলের দাম ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি টলমল হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী থেকে মনমোহন সিংয়ের। ১৯৭৩ সালে অশোধিত তেলের দাম চার গুণ বেড়েছিল। তার ফলে দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার ৩০ শতাংশ বাড়ে। প্রবল বিরোধিতা সামাল দিতে ইন্দিরা জরুরি অবস্থা জারি করেন। চারবছর পর নির্বাচনে বিরাট ধাক্কা খায় কংগ্রেস, কুর্সি হারান ইন্দিরা।
একই দশা হয়েছিল মোরারজি দেশাইয়েরও। ইন্দিরা পরবর্তী জমানায় লাগাম পরানো যায়নি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে (Fuel Price Hike)। ১৯৭৯ সালে তেলের দাম বাড়ে। একবছর পরেই প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি হারান মোরারজি। ১৯৯০ কুয়েত-ইরাক সংঘর্ষের সময়ে ভারতে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার হুহু করে কমে। পিভি নরসিমা রাওয়ের সরকারে থেকে আর্থিক সংস্কার, আর্থিক উদারীকরণের মাধ্যমে কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিং।
নিজে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেও তেলের দামের চ্যালেঞ্জ সামলেছেন মনমোহন। ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের জেরে হুহু করে বাড়ে অশোধিত তেলের দাম। খালি হতে থাকে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার। তেলের দাম বাড়াতে শুরু করে মনমোহন সরকার। তার ফলে দেশজুড়ে মাথাচাড়া দেয় মূল্যবৃদ্ধি। আমজনতার অসন্তোষের প্রভাব পড়ে ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে। মুখ থুবড়ে পড়ে কংগ্রেস। ভারতে শুরু হয় নরেন্দ্র মোদি জমানা।
আরও পড়ুন:
এবার মনমোহনের মতো কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং মোদিই। মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের জেরে ভারতে হুহু করে মহার্ঘ হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে রোজকার যাতায়াতের গাড়িভাড়া। আগামী দিনে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়বে এবং তার জেরে আমজনতার পকেটে আগুন জ্বলবে, আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কেন্দ্রের কাছে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপির অন্দরে গুঞ্জন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে এই সঙ্কট সমাধানে আর্থিক সংস্কারের রাস্তা নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই তিনি সেই বার্তা দিয়েছেন। অতীতে এমন সংকট সামলাতে দেশে আর্থিক সংস্কারের উদাহরণ রয়েছে। মোদিও সেই পথেই হাঁটবেন বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু তাতে জনমানসে অসন্তোষ কমবে তো? মোদি ম্যাজিক অব্যাহত থাকবে তো?
অন্যদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মোদি সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, “দেশের সমস্ত শ্রেণির মানুষ মোদি সরকারের উপরে ক্ষুব্ধ। সবাই বুঝতে পারছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে মূল্যবৃদ্ধি বাড়বে। তার প্রভাব আমজনতার পকেটে পড়বে।” হাত শিবির মনে করছে, মেয়াদ ফুরনোর আগেই ২০২৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়তে হবে মোদিকে। শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটবে ভারতীয় অর্থনীতি?