স্রেফ ভোটের জন্যই প্রতিশ্রুতি-প্রতিবাদ? বিজেপি আমলে ‘ভ্যানিশ’ দীপ্সিতা-মীনাক্ষীরা
ভোটের আগে বামেদের তরুণ তুর্কিরাই বলেছিলেন, ফলাফল যাই হোক, আমজনতার পাশে থাকবেন তাঁরা।
ভোটের ফল প্রকাশের পর সে অর্থে আর মাঠে-ঘাটে দেখা যাচ্ছে না সিপিএমের নতুন মুখদের। সৃজন ভট্টাচার্য, দীপ্সিতা ধর-সহ দু-একজন হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন। বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে 'আগে পুর্নবাসন পরে উচ্ছেদে'র দাবিতে সুর চড়িয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাঁদেরও আর পথে দেখা যায়নি। বারুইপুর কাণ্ড নিয়েও মুখ খোলেননি তাঁরা। সকলেই মজে এখন নিজের জগতে।
আরও পড়ুন:
বামেদের নতুন মুখদের মধ্যে অন্যতম সৃজন ভট্টাচার্য। মিতভাষী, লড়াকু নেতা হিসেবেই তিনি পরিচিত। ছাব্বিশে ভোটের লড়াইয়ে না থাকলেও সহযোদ্ধাদের হয়ে রাজ্যজুড়ে প্রচার করেছেন। রাজ্যবাসীকে সুন্দর বাংলা উপহার দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায়। বেকার সমস্যার সমাধান-সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সৃজনকে মধ্যরাতে যাদবপুর স্টেশন চত্বরে দেখা গিয়েছিল। গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে কার্যত উধাও। বারুইপুর কাণ্ডেও এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি সৃজন।
দমদম স্টেশনের হকার উচ্ছেদের দিন পথে নেমেছিলেন দীপ্সিতা। ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে উচ্ছেদের প্রতিবাদে স্লোগান তুলেছিলেন। কিন্তু তারপর আর দেখা যায়নি তাঁকে। তারাতলার আগুন বা বারুইপুর কাণ্ড, সোশাল মিডিয়াতেও এসংক্রান্ত তাঁর কোনও পোস্ট নজরে পড়েনি গত কয়েকদিনে। অভয়ার সুবিচারের দাবিতে রাস্তায় নামলেও বিজেপি জমানায় একেবারে চুপ দীপ্সিতা। বছরভর মানুষের পাশে থাকার যে আস্থা তিনি দিয়েছিলেন, তা ভুলেছেন!
স্টেশনে বুলডোজার হামলা রুখতে একাধিক রাত সোদপুর, খড়দহ স্টেশনে হকারদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন কলতান দাশগুপ্ত। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদেও সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তিনি। তবে বারুইপুর যাননি তিনি। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন খবরও নেই। তবে হ্যাঁ, এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় কলতান। স্থানীয়রা তাঁকে বিপদে পাশে পান বলেই শোনা যায়।
আরও পড়ুন:
সিপিএমের তরুণ তুর্কীদের মধ্যে অন্যতম একজন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। একুশে নন্দীগ্রামের মতো কঠিন আসনে লড়েছেন তিনি। বর্তমানে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিনি। ছাব্বিশে উত্তরপাড়া আসনে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল। সেই সময় এলাকার মানুষের ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাতেও কাঙ্খিত জয় ধরা দেয়নি। তারপর আর সেভাবে আমজনতার থেকে পাশে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে হ্যাঁ, হকার উচ্ছেদে দলের কর্মসূচিতে প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে...
তিনবার সিপিএমের প্রতীকে লড়েছেন। তিনবারই হেরেছেন। এখনও প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিয়ম করে টেলিভিশনের বিতর্ক সভায় হাজির হন শতরূপ ঘোষ। তৃণমূল নেতাদের আক্রমণ করা পোস্ট তার ওয়ালে অহরহ দেখা যায়। কিন্তু হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদেও দু-একবার পথে দেখা গেলেও তারপর যেন হারিয়ে গিয়েছেন। বারুইপুর কাণ্ডেও এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি তিনি। তৃণমূল জমানায় অভয়ার বিচারের দাবিতে কিন্তু একাধিকবার পথে নেমেছিলেন। এতেই রাম-বাম আঁতাত স্পষ্ট হচ্ছে বলেই দাবি নিন্দুকদের।