উধাও গেরুয়া বসন-রুদ্রাক্ষের মালা, বোল্ড অবতারে গোয়ায় মমতা কুলকার্নি
২০২৫ সালে সমস্ত মোহমায়া কাটিয়ে সন্ন্যাসিনী হন মমতা কুলকার্নি। অল্প দিনেই অবশ্য মোহভঙ্গ হয় অভিনেত্রীর।
রুদ্রাক্ষের মালা। গেরুয়া বসন এখন অবশ্য অতীত। মাত্র বছরখানেকের মধ্যেই ফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন মমতা কুলকার্নি। পরনে স্লিভলেস টপ। চোখে সানগ্লাস। বান্ধবীদের সঙ্গে গোয়ায় ছুটির মেজাজে অভিনেত্রী। তার টুকরো ঝলক সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন অভিনেত্রী। একাধিক ছবি, রিলস দেখেই স্পষ্ট - ঠিক কতটা গোয়া সফর উপভোগ করছেন তিনি। যা দেখে চক্ষু ছানাবড়া নেটিজেনদের। নেটদুনিয়ায় অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছেন তাঁকে।
আরও পড়ুন:
তাজ্জব হবেন না-ই বা কেন? বছরখানেক আগে মহাকুম্ভে গিয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন অভিনেত্রী। তা নিয়েও অবশ্য বিতর্ক পিছু ছাড়েনি মমতা কুলকার্নিকে। রাতারাতি গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে একেবারে বিপরীত মেরুর মানুষ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। গেরুয়া বসন, রুদ্রাক্ষের মালা গলায় পরে রাতারাতি সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। যা দেখে সেই সময়েও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন অনেকে।
নয়ের দশকের হিট বলিউড অভিনেত্রী। মমতা কুলকার্নির মায়াজালে পড়েছিলেন মুম্বইয়ের তৎকালীন অন্ধকারজগতের তাবড় ডনরাও। বলিউডে তখন মাফিয়ারাজ। লাস্যময়ী নায়িকার প্রেমে পড়েন ছোটা রাজন। যদিও সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় পরবর্তীতে বিয়েও করেন ড্রাগ মাফিয়া ভিকি গোস্বামীকে। একের পর এক বিতর্ককে সঙ্গী করে মাঝপথেই স্তব্ধ হয় মমতার বলিউডের গ্ল্যামারাস কেরিয়ার।
‘করণ অর্জুন’,‘আশিক আওয়ারা’থেকে শুরু করে নয়ের দশকে একাধিক হিট বলিউড সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। পরবর্তীতে একটি বাংলা সিনেমাতেও দেখা যায় তাঁকে। অভিজিৎ সেন পরিচালিত ‘বংশধর’ নামক বাংলা ছবিতে শেষ অভিনয় করেন মমতা। এরপরই গ্ল্যামার দুনিয়াকে বিদায় জানান। কয়েক বছর ধরেই লাইমলাইটের অন্তরালে থাকেন মমতা কুলকার্নি।
আরও পড়ুন:
ডি কোম্পানির একসময়কার সদস্য ভিকি গোস্বামীকে মমতা বিয়ে করেছিলেন। সেই সূত্রেই মাদকপাচার কাণ্ডে নাম জড়ায় অভিনেত্রীর। এরপর ভারত ছেড়ে বিদেশে থাকা শুরু করেন তিনি। ২০২৫ সালে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। ভারতের মাটিতে পা রেখে সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, "২৫ বছর পর ভারতে ফিরলাম। সেই ২০০০ সালে দেশ ছেড়েছিলাম। আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছি। আবেগ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।"
এরপর গত ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর আচার্য লক্ষ্মী নারায়ণের সঙ্গে দেখা করেন মমতা কুলকার্নি। তাঁর হাত ধরেই শুরু করেন জীবনের আধ্যাত্মিক ইনিংস। সন্ন্যাস নেওয়ার নিয়মানুযায়ী বদলে যায় বলিউডের একসময়কার হিট নায়িকা পরিচয়ও। মমতা কুলকার্নির পরিবর্তে তাঁর নতুন নামকরণ করা হয় মমতানন্দ গিরি। মহাকুম্ভের কিন্নর আখড়া থেকে ভাইরাল হওয়া ছবিতে সলমন-শাহরুখের করণ অর্জুন অভিনেত্রীকে দেখা যায় গেরুয়া বসনে।
সন্ন্যাসের পথে পা বাড়িয়ে কিন্নর আখড়ায় মহামণ্ডলেশ্বর পদ পেয়েছিলেন একদা বলিউড তারকা মমতা কুলকার্নি। তবে অল্প দিনেই সে পদ থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। জানা গিয়েছে, কিন্নড় আখড়ার সংস্থাপক হিসেবে নিজেকে দাবি করা ঋষি অজয় দাস মমতাকে মহামণ্ডলেশ্বরের পদ থেকে বহিষ্কার করেছেন। কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রথা অনুযায়ী তিনি নিজের মস্তক মুণ্ডন (ন্যাড়া) করাতে রাজি হননি।
নিয়ম অনুযায়ী, কেউ সন্ন্যাস গ্রহণ করলে সন্ন্যাসের প্রথম শর্ত হল নিজের পিণ্ডদান। মহাকুম্ভে গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। বাকি নিয়মও যথাযথভাবে পালন করলেও সমস্যা তৈরি হয় মস্তক মুণ্ডনের সময়। জানা যায়, মমতা নিজের মস্তক মুণ্ডন করতে রাজি হননি। যার জেরেই তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ।