নগ্ন শরীরের আব্রু রক্ষা করছে অজগর! কীভাবে হয়েছিল মিলিন্দ-মধুর সেই বিজ্ঞাপনের শুটিং?
একদিকে অশ্লীলতার অভিযোগ, অন্যদিকে বন্য প্রাণকে বিজ্ঞাপনে ব্যবহারকে কেন্দ্র করে মামলা গড়িয়েছিল আদালতে।
মিলিন্দ সোমানের প্রধান পরিচয় তিনি দেশের প্রথম ভারতীয় সুপারমডেল। জন্ম স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে এক মারাঠি পরিবারে। ১৯৯৫ সালেই আলিশা চিনাইয়ের 'মেড ইন ইন্ডিয়া'-তে তাঁর সুঠাম শরীর দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন বহু তরুণী! পরবর্তী সময়ে 'ক্যাপ্টেন ব্যোম' টিভি সিরিজের মাধ্যমেও তিনি প্রবল জনপ্রিয়তা পান। অভিনয় করেছিলেন 'বাজিরাও মাস্তানি'-তেও। কিন্তু এহেন মিলিন্দ গায়ে অজগর জড়িয়েও রাতারাতি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। বিতর্ক তাঁর খ্যাতিও বাড়িয়েছিল দ্রুত।
আরও পড়ুন:
দুই সুপারমডেলের করা 'টাফ শুজ'-এর বিজ্ঞাপন নিয়ে চর্চা আজও অব্যাহত। ছবিটি ছিল প্রিন্টের জন্য। সাদা-কালো ছবিতে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে মিলিন্দ-মধু। তাঁদের ছায়া পড়েছে দেওয়ালে। পায়ে ওই বিশেষ ব্র্যান্ডের জুতো। মিলিন্দের শরীরে থাকা অজগরটিই আব্রু রক্ষা করছে দু'জনের। কিন্তু কেন তাঁদের বেছে নেওয়া হয়েছিল ফটো শুটের জন্য? এর পিছনে ছিল বিশেষ উদ্দেশ্য।
মিলিন্দ সোমান ছিলেন একজন জাতীয় স্তরের সাঁতারু। অন্যদিকে মধু ছিলেন জাতীয় স্তরের ডিসকাস থ্রোয়ার। দু'জনের অ্যাথলিট-শরীরকে বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করার মাথায় এসেছিল এলসি নানজির মতো বিজ্ঞাপন নির্মাতার। 'অ্যাম্বিয়েন্স অ্যাডভার্টাইজিং'-এর হয়ে তিনিই পরিকল্পনা করে বিজ্ঞাপনটি নিয়ে। মানবশরীরের কাঠিন্যের সঙ্গে পণ্যটিকে মিলিয়ে দেখানোই ছিল উদ্দেশ্য। সেই সময় মিলিন্দ ও মধু সম্পর্কেও ছিলেন। পরে অবশ্য তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে যায়।
আরও পড়ুন:
মহারাষ্ট্রের কাশিদের এক ব্যক্তিগত বাংলোয় শুটিং হয়েছিল। জীবন্ত এক অজগর ও মিলিন্দ-মধুকে নিয়ে ছবি তোলা হয়। ছবিটির লাইটিংও বিশেষ প্রশংসিত। যা আসলে তোলা হয়েছিল প্রাকৃতিক আলোতেই।অনেকেরই মতে, বিজ্ঞাপনটির মধ্যে আন্তর্জাতিকতা ছিল পূর্ণ মাত্রায়। ক্যামেরার পিছনে ছিলেন কিংবদন্তি ফটোগ্রাফার প্রবুদ্ধ দাশগুপ্ত। সেদিন কিন্তু স্রেফ একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংই হয়নি। সব মিলিয়ে ছ'টি বিজ্ঞাপন শুট করা হয় মিলিন্দ ও মধুকে নিয়ে। তবে বেশি নজর কেড়েছিল যুগলের ওই ছবিটিই।
বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হতেই তুঙ্গে ওঠে বিতর্ক। ১৯৯৫ সালের আগস্টে দায়ের হল জনস্বার্থে মামলা। যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হল তাদের বিরুদ্ধে তো বটেই, বিজ্ঞাপন নির্মাতা, ফটোগ্রাফার এবং দুই মডেল- অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল সকলকেই। দাবি ওঠে পত্রিকাটির সমস্ত কপি সরিয়ে নেওয়া হোক বাজার থেকে। বহু নারীবাদী সংগঠন পত্রিকার কপিও পোড়ায়।