‘একরাতে তোমার রেট কত?’, ‘মির্জাপুর’ খ্যাত বাঙালি অভিনেত্রীকে কুৎসিত প্রস্তাব! তারপর?
নরকযন্ত্রণা ভোগ অভিনেত্রীর! কে দিলেন এহেন অশ্লীল প্রস্তাব?
'কালীনভাইয়া'র সিরিজে শরীরী আবেদন আর ক্ষমতার লোভে নিজেকে নিংড়ে দেওয়া এক ধূসর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনংশা বিশ্বাস। 'জারিনা'র ভূমিকায় রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে প্রশংসার পাশাপাশি অভিনেত্রীর সঙ্গী হয়েছে কুৎসিত, অশ্লীল প্রস্তাবও। পর্দার সাফল্যই যেন অনংসার জীবনে বয়ে নিয়েছে এক অভিশাপ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অনংশা বিশ্বাস এমন কিছু কথা ফাঁস করেছেন, যা শুনলে হতবাক হতে হয়! বাস্তবে মির্জাপুরের 'জারিনা' অভিনয়কে তাঁর সরস্বতী আরাধনা বলেই মনে করেন। কিন্তু এই চরিত্রের জন্যই সমাজের বিকৃত মস্তিষ্কের কিছু মানুষের কুনজরের শিকার শিকার হতে হয়েছিল অনংশাকে। তিনি জানান, 'মির্জাপুর ১' মুক্তির পরেই বদলে গিয়েছিল তাঁর পৃথিবী। কীরকম?
সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ইমেল, ফোনের ইনবক্স ভরে গিয়েছিল শত-সহস্র কুপ্রস্তাবে। সেই আতঙ্কের কথা নিজেই জানালেন অনংশা বিশ্বাস। 'মির্জাপুর'-এর 'জারিনা'র মন্তব্য, "পয়লা মরশুমের পর আমি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ তখন সবটাই আমার কাছে নতুন। সোশাল মিডিয়া থেকে ইনবক্স- সর্বত্রই কুরুচিকর ভাষায় মেসেজ আসত। দেখে নিজেই শিউড়ে উঠতাম!" যার জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন অনংশা।
আরও পড়ুন:
অনংশার কথায়, "আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হত- একরাতের জন্য তোমার রেট কত? দু'দিনের জন্য আমাদের সঙ্গে মরিশাস যাবে?- এই ধরনের নোংরা মেসেজে আমার ইনবক্স ভরে উঠেছিল।" তাঁর মতে, "সমাজের এহেন বিকৃত মানসিকতা বদলানো অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ একজন অভিনেতা পর্দায় যে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলছেন, তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই— এই সহজসরল কথাটা হজম করার দিন কি আজও আসেনি?"
১৯৯০ সালে জন্ম অনংশার। কলকাতাতেই বেড়ে ওঠা। এখানেই স্কুল-কলেজ। অভিনয়ই বঙ্গতনয়ার ধ্যানজ্ঞান। সেকারণেই মুম্বই যাত্রা। সুধীর মিশ্র পরিচালিত 'খোয়া খোয়া চাঁদ' ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। মুম্বইয়ের থিয়েটার জগতেও সুনাম রয়েছে অনংশার। নাসিরউদ্দিন শাহ, শেফালি শাহ, আকাশ খুরানার মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। 'মির্জাপুর' ছাড়াও তাঁকে দেখা গিয়েছে 'হস্টেস' সিরিজের দুই মরশুমে।