টুটুবাবুর দেখানো পথে রাজনীতিমুক্ত হোক ময়দান, স্মরণসভায় একযোগে ডাক নিশীথ-স্বপনের
‘ভারতের ফুটবলে বিপ্লব এনেছেন টুটু বোস’, স্মরণসভায় বললেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
এদিন রাজভবনে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন স্বপন দাশগুপ্ত। তারপর প্রথম প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখলেন তিনি। টুটুবাবুর স্মরণসভায় তিনি বলেন, "শুধু ময়দানে নয়। দুর্গাপুজো হোক বা সামাজিক জীবনে, সব ক্ষেত্রেই বেশি বেশি করে রাজনীতি ঢুকে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিই যেন সব হয়ে গিয়েছে। রাজনীতি জীবনের একটা অঙ্গ। সেটাই সব নয়। ফুটবল, ক্রিকেট হোক বা দুর্গাপুজো কিংবা স্কুল, সব ক্ষেত্রেই আমরা অরাজনীতিকে গুরুত্ব দেব।" ছবি: অমিত মৌলিক
আরও পড়ুন:
এদিন টুটুবাবুর স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর মুখেও শোনা গেল ময়দানকে রাজনীতিমুক্ত করার ডাক। তিনি বলেন, "আমি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই বলছি, ক্রীড়া আঙিনায় কোনও রাজনীতি থাকবে না। খেলার মাঠ পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত হবে না। রাজনীতির আঙিনায় রাজনীতি হবে। খেলার ময়দানে খেলা।" ছবি: অমিত মৌলিক
তিনি আরও বলেন, "টুটুবাবু ক্রীড়াপ্রশাসক, ব্যবসায়ী ছাড়াও কিছুদিন রাজনীতি করেছেন। কিন্তু ময়দানে কখনই রাজনীতি ঢুকতে দেননি। বরং সেটা বারবার রুখে দিয়েছেন। আমরাও চাইব, টুটুবাবুর দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে। সেই পথেই ময়দানকে রাজনীতিমুক্ত রাখব। ভারতের ফুটবলে বিপ্লব এনেছেন তিনি। দেশের ফুটবলের অন্যতম জাগ্রত জনক বললেও অত্যুক্তি হয় না।" ছবি: অমিত মৌলিক
নিশীথের সংযোজন, "ওঁর চলে যাওয়াটা নিশ্চিতভাবে পতন। দুঃসময়ে তিনি মোহনবাগান ক্লাবের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুধু তো প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন না। আমরা দেখেছি, দুঃসময়ে নিজের অর্থ দিয়েছেন। সুদিন-দুর্দিন, সবসময় ক্লাবের পাশে ছিলেন। তাঁর মতো একজন কিংবদন্তি ক্রীড়াপ্রেমিকের চলে যাওয়াটা দুঃখের। এখন যাঁরা মোহনবাগান ক্লাবের সদস্য আছেন, তাঁদের মধ্যে দিয়ে টুটু বাবু বেঁচে থাকবেন। টুটুবাবুর দেখানো পথেই আগামী দিনে বাংলার ফুটবল চলবে।" ছবি: অমিত মৌলিক
আরও পড়ুন:
এদিন রাজভবনে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তাপস রায়। তিনিও বলেন, "ময়দানকে রাজনীতিমুক্ত করতেই হবে। কোনও একটা পরিবার বা জায়গা থেকে নির্দেশ দেওয়া হত। সিএবি, আইএফএ বা হকি, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল, সব ক্ষেত্রেই সেটা হত। গত কয়েকবছর ধরে যা ঘটেছে, তা তো ক্রীড়াপ্রেমী মানুষদের মেনে নেওয়া উচিত নয়। যাঁরা খেলাধুলোর 'খ' বোঝে না, সেই পরিবারগুলো কেন থাকবে? আমরা এই নিয়ে আরও আলোচনা করব।" ছবি: অমিত মৌলিক
এদিন মঞ্চে ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তিনি বলেন, "টুটুবাবু রাজনৈতিক বিভাজন দ্বারা পরিচালিত হতেন না। তাই আজ এটা সম্ভব হয়েছে। টুটুবাবুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ধ্যানধারণা কংগ্রেস আমলে দেখা গিয়েছে। পরে আমি দেখিনি, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যাপার দ্বারা পরিচালিত হতে। সবার সঙ্গে আলাপচারিতা ছিল, আড্ডা মারত। খেলার মাঠ রাজনৈতিক দখলদারিতে আসা উচিত নয়। রাজনীতি ঢুকলে খেলার উন্নতি হয় না। রাজনৈতিক বিশ্বাস দ্বারা যেন বিভাজন না হয়।"...
প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দাও এদিন শপথ নিয়েছেন। তিনি বলেন, "বরাবরই মোহনবাগানের ফ্যান। টুটুদা ছিলেন অভিভাবকের মতো। খেলার মাঠের লোক, সেখানেই মানায়। টুটুদা মতো লোক প্লেয়ারের বা তাঁর পরিবারের ভালোমন্দ দেখতেন। শুধু টাকা দিয়ে প্লেয়ারদের খেলানো নয়, সুখে-দুঃখে পাশে থাকতেন। টুটুদা শুধু মোহনবাগানের নয়, তিনি ভারতীয় ফুটবলকেও সাহায্য করেছেন।" ছবি: অমিত মৌলিক
টুটু বোসের স্মরণসভায় অনেক প্রাক্তন ফুটবলারও উপস্থিত ছিলেন। ব্যারেটো বা শিলটন পালদের মোহনবাগানে আগমনের প্রধান ভূমিকায় ছিলেন টুটুবাবু। শিশির ঘোষ, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিদেশ বসু, মানস মুখোপাধ্যায়রাও স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে ছিলেন সচিব রূপক সাহা ও শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। ছবি: অরিজিৎ সাহা ও অমিত মৌলিক