পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন শল্যচিকিৎসা! বিস্মিত করে ব্রোঞ্জ যুগের শিশুকঙ্কাল
উজবেকিস্তানে সন্ধান মিলেছে ৪ হাজার বছরের পুরনো এক শিশুর কঙ্কালের। যার কপালে স্পষ্ট চিহ্ন অস্ত্রোপচারের।
প্রাগৈতিহাসিক স্থান ‘জারকুতান’ আদি ব্রোঞ্জ যুগের এক অন্যতম নিদর্শন। ২০২৪ সালে এখানে খননকাজ চালানো হয়। আর সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ওই কঙ্কাল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানাচ্ছেন, কঙ্কালটির বয়স ৫ বছর। যে কবরে তাকে শোয়ানো হয়েছিল, সেখানে ৩ বছরের এক শিশুর কঙ্কালও ছিল। দেখা যাচ্ছে, শিশুকঙ্কালটির কপালে একটি ছিদ্র রয়েছে। যা দেখে গবেষকরা বলছেন, ওই ছিদ্রটি অস্ত্রোপচারের চিহ্ন।
আরও পড়ুন:
এখানে বোঝা দরকার, সেই প্রাচীন সময়ে চিকিৎসা ও ধর্মীয় আচরণের মধ্যে বিশেষ তফাত ছিল না। ওই শিশুটির কপালে ছিদ্র করা হলেও সেই পদ্ধতির মধ্যে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসার পাশাপাশি ধর্মীয় রীতিনীতিও মিশে থাকত। গবেষকরা দাবি করছেন, ওই ছিদ্র স্পষ্টতই 'ক্রেনিয়াল ট্রিপ্যানেশন'-এর চিহ্ন। হাড় কিংবা পাথর দিয়ে তৈরি যন্ত্র দিয়ে মৃগি, মাইগ্রেন বা আচরণগত সমস্যার চিকিৎসা করতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হত।
ইতালি ও উজবেকিস্তানের একটি গবেষক দল আফগানিস্তান সীমান্তের অদূরে উত্তর বাকত্রিয়া অঞ্চলে এই কঙ্কালটি খুঁজে পেয়েছে। খননকার্যের নেতৃত্বে থাকা সালেস্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ এনরিকো আস্কালোনে জানিয়েছেন, ''চার হাজার বছর আগে মধ্য এশিয়ায় এক শিশুর খুলিতে অস্ত্রোপচার, গতকাল পর্যন্তও এমনটা ছিল অকল্পনীয়। অথচ আজ, আমাদের তথ্যের ভাণ্ডারে এর প্রমাণ সুস্পষ্ট।''
তবে এই আবিষ্কারের মধ্যে কিছু রহস্যও রয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই সেই যুগে এমন ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য কী প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় ও শল্যচিকিৎসা বিষয়ক জ্ঞান ছিল চিকিৎসকদের? আর কেনই বা এক পাঁচ বছরের শিশুকে বেছে নেওয়া হল? গবেষক দল নিজেরাই এই প্রশ্ন তুলেছে। সেই সঙ্গেই জানিয়েছে, আগামিদিনে এই উত্তরও তারা ঠিকই খুঁজে বের করবে।
আরও পড়ুন:
আদিম যুগের পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা এখনও এভাবেই আমাদের বিস্মিত করে। মনে পড়ে যায় সত্যজিৎ রায়ের 'আগন্তুক' ছবির কথা। সেখানে মনোমোহনবেশী উৎপল দত্ত মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, অরণ্যকেন্দ্রিক সভ্যতায় চিকিৎসকও থাকতেন। বহু ভেষজ গুণাগুণ কাজে লাগিয়ে তিনি চিকিৎসা করতেন। নতুন আবিষ্কার বুঝিয়ে দিল, সেই আদিম যুগেও সীমিত ক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসকরা কতটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন।