ঘুরতে গিয়েও হোটেলবন্দি থাকাই পছন্দ! কেন জেন জি ভালোবাসে ‘রুম রটিং’
ছুটির সার্থকতা বলতে চেনা ধারণাগুলি ভুলে এখন ট্রেন্ডিং এই নয়া অভ্যাস।
মনোবিদ ড. চাঁদনি তুগনাইট এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় জানিয়েছেন, এই প্রবণতার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। যেমন, বেশির ভাগ সময়ই বেড়াতে যাওয়ার ঠিক আগে সপ্তাহভর প্রবল পরিশ্রম যায়। অফিসের কাজ, পরিবারের কাজ। সেসব সামলে বেড়াতে যাওয়ার পর হোটেলের রুমে ঢুকে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যেই যেন ভরপুর তৃপ্তি।
আরও পড়ুন:
আরও একটা বিষয় আছে। চাঁদনি জানাচ্ছেন, বক্স টিক করে বেড়ানোর 'দিন গিয়াছে'। বেড়ানোর অসংখ্য ছবি, ভিডিও পোস্ট করার অদম্য নেশার সেই ঝোঁক এখন কমতির দিকে। জেন জি-র এসবে মাথাব্যথা নেই। বরং বেড়ানোর অবসরে আর ছোটাছুটি না করে নিভৃত অবসরে নিজেকে খুঁজে বেড়ানোই তাদের বেশি পছন্দের। তাদের সমাজমাধ্যমের লাইক, কমেন্টের প্রতি লোভ আর নেই।
এখানেই শেষ নয়। দৈনন্দিন জীবনে আমাদের কত যে ছোটখাটো সিদ্ধান্ত নিতে হয়! তাই কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি বা বুকিংয়ের তাড়া, দীর্ঘ লাইনের যন্ত্রণার কথা ভেবে পরিকল্পনা করার ঝামেলা নেই, সঠিক রেস্তরাঁ বেছে নেওয়ার চাপ নেই— এমন ছুটিই হল প্রকৃত উপভোগ্য। মনোবিদরা জানাচ্ছেন, এটাই জেন জি-র মনের কথা। ফলে বেড়াতে গিয়ে সর্বাগ্রে নিজের হোটেলের রুমে আপনজনদের সঙ্গে এলোমেলো কাটাতেই পছন্দ করছেন তাঁরা।
সোজা কথায়, ছুটি মানেই যে ঠাসাঠাসি কর্মসূচিতে পরিপূর্ণ হতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। জেন জি মনে করে ভ্রমণের সময়টাকে সত্যি উপভোগ করা সম্ভব হয় তখনই, যখন কোনও ধরনের চাপকেই পাত্তা না দেওয়া হয়। তার মানে এই নয়, বেড়াতে গিয়ে কেবলই হোটেলের রুমে বসে থাকতে হবে। জেন জি কিন্তু 'সাইটসিয়িং'কে ফেলে দিচ্ছে না। কিন্তু সেটাকেই 'পাখির চোখ' করায় তাদের আপত্তি।
আরও পড়ুন:
‘রুম রটিং’ অর্থাৎ সারাক্ষণ হোটেলের ঘরেই অলস সময় কাটানোর এই অভ্যাস যেন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করার কথা বলে স্রেফ কুঁড়েমির নয়া অজুহাত না হয়ে দাঁড়ায়। মূল কথা হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। অর্থাৎ হোটেলের রুম ও রুমের বাইরে কাছে-দূরে নিসর্গের কাছে ধরা দেওয়ার মধ্যে একটা নিবিড় সাযুজ্য বজায় রাখতে পারলেই বেড়ানো হয়ে উঠবে সার্থক।