‘আমি নগ্ন নারী দেখালেই…’, রাজ কাপুরের ‘মহিলাঘটিত’ বিতর্কের কিস্সা
‘ববি’, ‘মেরা নাম জোকার’, ‘রাম তেরি গঙ্গা মৈলি’র মতো ছবি ঘিরে বিতর্ক আজও অব্যাহত।
১৯৭০ সালে মুক্তি পায় 'মেরা নাম জোকার'। এর আগে ১৯৬৪ সালে তাঁর পরিচালিত 'সঙ্গম' ছবিতে বৈজয়ন্তীমালাকে সাঁতার পোশাকে দেখা গিয়েছিল বটে। কিন্তু পরের ছবিটিতে রাজ কাপুর যেন সেই গণ্ডি অতিক্রম করে গিয়েছিলেন অনেকটাই। এক বিদূষকের বিষাদ ছবির প্রধান ফোকাস হলেও এতে সিমি গারেওয়ালের পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্য সেই যুগের নিরিখে ছিল রীতিমতো 'বৈপ্লবিক'! সাহসী দৃশ্য ছিল পদ্মিনীরও।
আরও পড়ুন:
১৯৭৩ সালে রাজ কাপুর তৈরি করলেন 'ববি'। 'মেরা নাম জোকার'-এর ব্যর্থতা ঢেকে দিয়েছিল এই ছবির সাফল্য। কিন্তু সেই ছবিতে নবাগতা ডিম্পল কাপাডিয়ার পোশাক নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল। বিকিনিতে ডিম্পলের দুরন্ত লুক ঘিরে রক্ষণশীল সমাজের আপত্তি ছিল। এছাড়াও কালো ও সাদা পোলকা ডট ব্লাউজের অভিনব লুক নিয়েও ছিল চর্চা। ছবিটিতে ছিল তারুণ্যের জয়জয়কার। কিন্তু ডিম্পলের সাহসী পোশাক নিয়ে বিতর্কও ছিল।
১৯৭৮ সালের 'সত্যম শিব সুন্দরম' নিয়ে অবশ্য বিতর্ক ছিল আরও বেশি। জিনাত আমনের সাহসী ও খোলামেলা পোশাক নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ছবির একটি দৃশ্যে তাঁকে পোশাক ছাড়তে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় তাঁর পিঠ ও স্তনের একাংশ দৃশ্যমান ছিল। এছাড়াও ছবিতে জিনাতের ঝরনার জলে স্নানের দৃশ্যেও তাঁকে দেখা যায় স্বচ্ছ পোশাকে। সেই সময়ের নিরিখে এই সব দৃশ্য ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য।
তবে রাজ কাপুরের সবচেয়ে বিতর্কিত ছবি নিঃসন্দেহে 'রাম তেরি গঙ্গা মইলি' (১৯৮৫)। মন্দাকিনী তাঁর প্রথম ছবিতে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন। একটি দৃশ্যে স্বচ্ছ শাড়িতে ঝরনায় স্নানরতা মন্দাকিনীর স্তনবৃন্ত পরিষ্কার দেখা গিয়েছিল। সেই সঙ্গেই শিশুকে স্তন্যপান করানোর দৃশ্যেও মন্দাকিনীর উন্মুক্ত স্তন ধরা পড়েছিল রাজ কাপুরের ক্যামেরায়। ছবিটি ঘিরে গোটা ভারতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন:
রাজ কাপুর কথা বলেছিলেন 'সত্যম শিবম সুন্দরম' নিয়ে। জানিয়েছিলেন, ''ছবিটা সম্পূর্ণ হলে আমি সেন্সর বোর্ডকে বলি, কোনটা বেশি ক্ষতিকর, এটা, নাকি যেগুলোকে আপনারা সম্মতি দেন। গোটা দেশে ছবির ব্যানার, পোস্টারে কেবলই বন্দুক ও তলোয়ার হাতে কেউ না কেউ দাঁড়িয়ে রয়েছে! অথবা কেউ কাউকে হত্যা করছে। যেদেশ অহিংসার কথা বলে, সেদেশে কোনটা ক্ষতিকর বলুন।''
অভিনেত্রী মন্দাকিনীও 'রাম তেরি গঙ্গা মৈলি' ছবিতে তাঁর সাহসী দৃশ্য নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ''ব্যাপারটা ছিল পবিত্র। এই নিয়ে আলোচনাই অর্থহীন।'' পরবর্তী সময়ে 'ব্যান্ডিট কুইন' কিংবা আরও অনেক ভারতীয় ছবি আরও সাহসী দৃশ্য দেখিয়েছে। রাজ কাপুর যা বলতে চেয়েছিলেন তা আজ যেন অনেকটাই স্পষ্ট। শিল্পে অশ্লীলতার অভিযোগ অনেকটাই ফিকে। রাজের শিল্পচেতনা তাই নতুন করে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে প্রতি মুহূর্তে।