সব বাধাতেই অপরাজেয়! ‘শেষের সেদিন’ পৃথিবীতে থাকবে এই একটিই জীব
এই অতি-সহনশীল জীবকে টলাতে পারবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিকূলতাও।
পৃথিবীজুড়ে এক বিস্তীর্ণ নির্জন প্রান্তর যেন। কোথাও প্রাণের চিহ্নমাত্র নেই। কবি লিখেছিলেন 'শেষের সেদিন ভয়ংকর'! সেই পঙক্তিই জীবন্ত হয়ে উঠবে তখন। কিন্তু সেই দিনও পৃথিবী একেবারে জীবনহীন হবে না কিন্তু! টিকে থাকবে এক বিশেষ প্রজাতির জীব। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অতি-সহনশীল জীবকে টলাতে পারবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিকূলতাও।
আরও পড়ুন:
এই জীবের নাম টারডিগ্রেড। সহজ ভাষায় একে 'জলভালুক' নামেও ডাকা হয়। তবে নামে 'ভালুক' থাকলেও মোটেই কোনও পেল্লাই জীব নয় সে! আদপে টারডিগ্রেড অণুজীব। খালি চোখে এদের দেখা যায় না। কিন্তু যেদিন গোটা পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, সেদিনও সেখানকার বাসিন্দা হিসেবে থেকে যাবে এই জীব। 'সায়েন্টিফিক রিসার্চ' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত এক গবেষণাপত্র।
গবেষক দলটির নেতৃত্বে ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক ডেভিড স্লোয়ান ও রাফেল আলভস। জানা গিয়েছে, এই গবেষণায় কেবল মানব সভ্যতার ধ্বংস কিংবা এই গ্রহের বাস্তুতন্ত্রের মুছে যাওয়াই নয়, বরং পৃথিবীর সম্পূর্ণভাবে জীবমুক্ত হওয়ার দিকটি নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। বলে রাখা ভালো, প্রতি একশো কোটি বছরে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা এক কোটির মধ্যে একবারেরও কম।
কেবল স্থলভাগের বিলুপ্তির প্রচলিত ধারণার উপরই হিসেব করা হয়নি। কোনও গ্রহাণুর আঘাতে আকাশে আঁধার নামলে, খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। যেমন ডাইনোসরদের অবলুপ্তির সময় ঘটেছিল। আবার এমন ঘটলে যে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ চেঁছেপুঁছে কেউ সরিয়ে নেবে তা বলাই বাহুল্য। গবেষকরা বলছেন, কিন্তু এক্ষেত্রেও গভীর সমুদ্রের তলদেশে বসবাসকারী টার্ডিগ্রেডদের কোনও ক্ষতি হবে না।
আরও পড়ুন:
কেবল টারডিগ্রেড নয়, গবেষণাপত্রে আরও অন্য জীবদের উল্লেখও রয়েছে। ব্যাকটেরিয়া এবং আর্কিয়ার মতো আদ্যপ্রাণীরা টার্ডিগ্রেডের চেয়েও অনেক বেশি সহনশীল। ভূত্বকের কয়েক কিলোমিটার গভীরে বসবাসকারী কেমোলিথোট্রফিক অণুজীবগুলি সম্ভবত এমন সব ঘটনাতেও বেঁচে যাবে যা পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীকে মেরে ফেলে। তাছাড়া টার্ডিগ্রেডদের সামান্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়। তবে সাধারণ ভাবে পৃথিবীর যে অবলুপ্তির কথা ভাবা হয়, সেখানে টারডিগ্রেডরা অপরাজেয়।
তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এমন কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদি আসে যেখানে পৃথিবীর সব মহাসাগরকে ফুটিয়ে বাষ্প হয়ে যাবে, সেক্ষেত্রে কিন্তু টারডিগ্রেডরা সমস্যা পড়বে। যতক্ষণ মহাসাগর বা জল থাকবে, ততক্ষণ টারডিগ্রেড টিকে থাকবে। কিন্তু মহাসাগর খাঁ খাঁ মরুভূমি হয়ে গেলে তারাও বিলুপ্ত হতে পারে। যদিও বিশাল গ্রহাণুর আঘাত, সুপারনোভা বিস্ফোরণ বা গামা-রে বিস্ফোরণের মতো ঘটনা নিতান্তই বিরল।
তাই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও সাগরের জল শুকিয়ে যাবে না। সুতরাং টারডিগ্রেডরাও টিকেই থাকবে। যতই পৃথিবীটা বিপণ্ণ হয়ে পড়ুক, চরম প্রতিকূলতায় এরা ঠিকই টিকে যাবে। এককথায়, এরা প্রায় অমরত্বের দোরগোড়ায় অবস্থান করে। বিপদের সময় এরা শরীর থেকে সব জল বের করে দিয়ে একটা শুকনো বলের মতো হয়ে যায়! তখন বিপাকক্রিয়া চলে না। অর্থাৎ প্রতিকূলতায় এদের ক্ষতি করা যাবে না।