এই ক্রন্দনরত শিশুর ছবি আসলে মৃত্যুদূত? বাড়িতে রাখলেই নেমে আসে বিপর্যয়!
বাড়িতে এই ছবি রাখলেই ঘনিয়ে আসে মৃত্যু! অভিশপ্ত কান্নার আড়ালে লুকিয়ে কোন রহস্য?
ইটালির শিল্পী জিওভানি ব্রাগোলিনের আঁকা ‘দ্য ক্রাইং বয়’। এটা অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট ছবি নয়, ছবির সিরিজ। কেবল ওই বালকই নয়, আরও নানা ক্রন্দনরত বালক-বালিকাদের ছবিও এঁকেছিলেন জিওভানি। কিন্তু সব ছবির মধ্যে থেকে আলাদা করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে একটি ছবি। আপাতভাবে দেখে বোঝারও উপায় নেই এই ছবিই পরবর্তী সময়ে তৈরি করেছে আতঙ্কের জলছবি। কিন্তু কী সেই আতঙ্ক?
আরও পড়ুন:
গত শতকের পাঁচের দশক থেকে হু হু করে বাজারে ছড়িয়ে পড়ে ছবিটি। তিন দশকের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি বিক্রি হয়েছিল অভিশপ্ত বালকের পোট্রেট। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে ছবিটি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু আটের দশকে এসে শুরু হল গুঞ্জন। সেই সময় থেকেই ‘ভূতুড়ে’ ছবি ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। এর নেপথ্যে রয়েছে একটি সংবাদ।
১৯৮৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ‘দ্য সান’-এ প্রকাশিত হয় সেই সংবাদ। তাতে এসেক্সের এক দমকলকর্মীকে উদ্ধৃতি করে জানানো হয়, আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া কয়েকটি বাড়ির ভিতরে তিনি দেখতে পেয়েছেন অবিকৃত ‘দ্য ক্রাইং বয়’ পেন্টিং। এই একটি প্রতিবেদনই যেন কাজ করল স্ফুলিঙ্গের। কেন নির্মম অগ্নিশিখার সর্বনাশা খেলার সাক্ষী থাকছিল দেওয়ালে ঝোলানো এই ছবিটি? এখান থেকেই নির্মিত হল মিথ। ওই ছবি 'অপয়া'।
আসলে এই ধরনের গুঞ্জন একবার ছড়িয়ে পড়লে দাবানলের মতো তা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে। যেমন, ‘দ্য হ্যান্ডস রেসিস্ট হিম’। ১৯৭২ সালে বিল স্টোনহ্যামের আঁকা এই ছবিতে এক ছোট্ট ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তার পাশে রয়েছে একটি মেয়ে পুতুল। আর পিছনে একটি দরজা। সেই দরজাটি বাস্তব দুনিয়া ও ফ্যান্টাসির জগতের মাঝের দরজা। পুতুলটি ওই ছেলেটিকে ওই জগতে নিয়ে যেতে এসেছে।
আরও পড়ুন:
এমন সুন্দর একটি ছবিকে ঘিরেও রয়েছে রহস্য। ২০০০ সালে মার্কিন বহুজাগতিক ই-কমার্স সংস্থা ‘ইবে’ নিলামে তোলে ছবিটিকে। দাবি করে, ছবিটি অভিশপ্ত। রাতের অন্ধকারে নাকি ছবি থেকে বেরিয়ে এসে হাঁটতে শুরু করে ছেলেটি। ঘটতে থাকে নানা ভয়ংকর ঘটনা। নেমে আসে দুর্যোগের কালো মেঘ। কিন্তু এই ছবিটিকে ঘিরে জমে থাকা মিথও ‘দ্য ক্রাইং বয়’-এর কাছে নস্যি।
কে ছিল বাস্তবের এই বালক? গুঞ্জন, ওই ছেলেটি নাকি ছিল এক জিপসি পরিবারের সন্তান। তার বাবা-মা মারা গিয়েছিলেন আগুনে পুড়ে। যাঁরাই ছোট্ট ছেলেটিকে আশ্রয় দিয়েছেন, আগুনে পুড়ে যায় তাঁদের ঘরবাড়িও! এমনকী, ছেলেটির ছবি আঁকা হয়েছিল যে স্টুডিওয়, সেটিও নাকি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়! এমনও মিথ শোনা যায়, ছোট্ট ছেলেটি নিজেও মারা গিয়েছিল আগুনে পুড়ে।
তবে এমন কাহিনির সঙ্গে বাস্তবের তেমন যোগ পাওয়া যায় না। আসলে যুক্তিনিষ্ঠ মানুষের পক্ষে এই দাবি হজম করা অসম্ভব। তাঁদের প্রতিনিধি হয়ে সবথেকে বড় যুক্তিটি দিয়েছিলেন ব্রিটিশ লেখক ও কৌতুকশিল্পী স্টিভ পান্ট। বিবিসি রেডিওতে নিজের এক শোয়ে তিনি বলেন, ওই ছবিগুলির প্রিন্টে অগ্নিনির্বাপক পদার্থের সাহায্যে ভার্নিশ করা হয়েছিল। ফলে আগুনের সাধ্য হয়নি সেটিকে স্পর্শ করার।
পাশাপাশি আরও একটি যুক্তি হল, ছবিটি যে স্ট্রিংয়ের সাহায্যে দেওয়ালে লাগানো থাকত সম্ভবত আগুনের সংস্পর্শে এসেছিল সেটিই। ফলে সেটি আগুনে পুড়ে দেওয়াল থেকে খসে পড়ার সময় উলটো মুখ করে মাটিতে পড়ত। যার ফলে আগুনে সেটার কোনওরকম ক্ষতি হত না। তবে এমন সব যুক্তিতেও অবশ্য পরিস্থিতি বদলায়নি। পৃথিবী জুড়ে বাতাসে ভেসে থেকেছে ‘দ্য ক্রাইং বয়’কে ঘিরে জমতে থাকা অলৌকিকতার মেঘ।