৬০ ঘণ্টার লড়াই ব্যর্থ করে চিরঘুমে ওমায়রা, ইতিহাসে অমলিন সবচেয়ে মর্মান্তিক ছবিটি
কে এই ওমায়রা?
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
তারপর বৃষ্টির জলে জ্ঞান ফেরে। শুরু হয় ৬০ ঘণ্টার লড়াই। কাদাজল ছুঁয়েছিল ওমায়রার চিবুক। প্রায় দশ ঘন্টা পরে এসেছিল রেডক্রসের উদ্ধারকারী দল। তাদের আওয়াজ পেয়ে, দেহের সর্বশক্তি একত্রিত করে কিশোরী চিৎকার করে উঠেছিল, “আমাকে বাঁচাও।" কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও মুক্ত করা যায়নি। উদ্ধারকারীরা বুঝেছিলেন, ওর পা আটকে রয়েছে কাদা আরও ধ্বংসস্তূপে।
দুর্ঘটনার ৩৬ ঘন্টা পর এক ডুবুরি জলের নিচে গিয়েছিলেন। দেখেছিলেন শিউরে ওঠা দৃশ্য। গলা অবধি জলে হাঁটু মুড়ে বসে আছে ওমায়রা। তার দুটি পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ পিষে দিয়েছে কংক্রিটের একটি বিম। পিষে যাওয়া পা দুটি চেপে ধরে আছেন কাকিমা। দ্রুত উঠে এসেছিলেন তিনি। ওয়াকিটকির মাধ্যমে উদ্ধারকারী দলটি বার বার একটি পাম্প ও গ্যাসকাটার পাঠানোর আবেদন জানিয়েছিল কলম্বিয়া সরকারের কাছে। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি...
সেদিনই জারি হয়ে গিয়েছিল ওমায়রার মৃত্যু পরোয়ানা। রেড ক্রস সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিশোরীকে স্বাভাবিক মৃত্যু দেওয়া হবে। ৫০ ঘণ্টার উপর ওই কাদাজলে দাঁড়িয়ে সে। কমতে শুরু করেছিল শরীরের তাপমাত্রা। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্য়ে প্রকৃতিই কেড়ে নিত তাকে। শেষ কয়েক ঘণ্টা ওমায়রাকে ঘিরে ছিল রেড ক্রসের উদ্ধারকারী ও বিশ্বের সাংবাদিকরা। তার আবদার মেটানোর সমস্ত চেষ্টা করা হয়েছিল।
১৬ তারিখ সকাল থেকেই ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়ছিল ওমায়রা। বেলা তখন দশটা। মাথা পিছন দিকে হেলে গিয়েছিল। বড় বড় শ্বাস নিচ্ছিল সে। রক্ত জমা চোখ দুটো ক্রমশ বন্ধ হয়ে আসছিল অসীম ক্লান্তিতে। তবু সর্বশক্তি এক করে শেষবারের মতো মৃত্যুকূপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল ওমায়রা। তার শেষ চাউনিও ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন চিত্র সাংবাদিক ফ্র্যাঙ্কফোর্নিয়ার। যে চাউনিতে ছিল অপরিসীম ঘৃণা। এরপর কোঁকড়া কালো চুলে ভর্তি ওমায়রার মাথাটা ডুবে...
অনেকে আজও বিশ্বাস করে, আজও পরিত্যক্ত আর্মেরো শহরে উড়ে বেড়ায় ওমায়রা। ২০২০ সালে পরিত্যক্ত আর্মেরো শহরে পাওয়া গিয়েছিল নতুন এক ঝিঁঝিপোকার প্রজাতি। ওমায়রাকে চিরকালের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে, বিজ্ঞানীরা প্রজাতিটির নামের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন ওমায়রার নাম। নতুন প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছিল ‘গিগাগ্রিলাস ওমায়রাই'। তাদের মধ্যেই এখনও বেঁচে আছে অফুরন্ত জীবনী শক্তির প্রতীক কিশোরী ওমায়রা স্যাঞ্চেজ।