ডাকাবুকো হয়েও বিনয়ী! সন্তানদের ‘আদর্শ’ হতে পারে ১৫ বছরের বৈভবের দর্শন, অভিভাবকরা শুনছেন?
ক্রিকেট প্রতিভা সবার থাকে না। তবে বৈভবের থেকে জীবনের পাঠ শিখতে পারে কিশোর-কিশোরীরা।
আরও পড়ুন:
সদ্য রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ২৮ বলে ৭৬ রান করে রাজস্থান রয়্যালসকে ম্যাচ জিতিয়েছে। ১৫ বছর বয়সে ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েছে। তার দ্যুতিতে ম্লান 'কিং' বিরাট কোহলিও। ‘কন্ডিশন’, পিচ, আবহাওয়া- সম্ভবত এগুলো ভেবে মাঠে নামে না ১৫ বছরের বিস্ময় প্রতিভা। তার দর্শন খুব সহজ। বল দেখো, মারো। সামনে কে আছে, কী বল করবে, অতো ভেবে লাভ নেই।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ১৪ বলে ৩৯ রান করেছিল। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিল বৈভব। তারপর ভুবনেশ্বর কুমার বা জশ হ্যাজেলউডের প্রথম বলে চার মারে। ইরফান পাঠান যেমন বলেই দিচ্ছেন, বৈভব বেছে বেছে বড় বোলারদের টার্গেট করছে। অভিভাবকরা শিখতে পারেন, সন্তানদের কীভাবে এই বয়সেই সাহসী ও লড়াকু মানসিকতা তৈরি করা যায়।
আরও পড়ুন:
কারণ বৈভব একদিনে আজকের তারকা হয়ে ওঠেনি। মাত্র ১২ বছর বয়সে বিহারের হয়ে রনজি ট্রফিতে অভিষেক করে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়ে ওঠে। নিঃসন্দেহে 'সময়ের আগে' পরীক্ষার মুখে পড়েছে সে। তার জন্য প্রতিভা দরকার। কিন্তু সেই চাপ সামলানোর কোনও সঠিক বয়স হয় না। অনেকেই অপেক্ষা করে 'সঠিক' সময়ের। বৈভব ১৫ বছর বয়সেই দেখিয়েছে, 'সঠিক' সময় নয়, 'সঠিক' মানসিকতা দরকার। প্রতীকী ছবি
অবশ্যই তার উপর প্রত্যাশার চাপ রয়েছে। প্রতি ম্যাচে তা আরও বাড়ছে। সাফল্যের শিখরে ওঠা যায়, কিন্তু সেখানে টিকে থাকা মুশকিল। বৈভব কিন্তু একেবারেই চাপে থাকে না। এটা যেমন তার পরিবারের কৃতিত্ব, তেমনই রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষও তাকে সেই জায়গা দিয়েছে। সব সময় হাসিখুশি থাকে। এতো বড় তারকা হয়েও ভিতরের 'বাচ্চামি' ছাড়েনি সে।
দু'টো গল্প বলা যাক। ম্যাচ জেতানো ইনিংসের পর বৈভব সকলকে আশ্বস্ত করে শুক্রবার রাতে বলে গেল, “সবাই আমাকে বারবার বলে এই সফরটা অনেকটা লম্বা। আমার ফোকাস শুধুমাত্র খেলাতেই। অন্য কিছুতেই নয়।” এই বয়সে এত সাফল্য, এত বৈভব, মাথা ঘুরে যাবে না তো? এ আশঙ্কা গোটা দেশের ক্রিকেট মহলের। সেটা কিন্তু উড়িয়ে দিল বৈভব। অর্থাৎ মাটিতে পা রেখে চলতেই ভালোবাসে।
বৈভবকে আরও স্পেশাল করে তোলে চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। অনেক কিশোরই দ্বিধা করে। ব্যর্থতা এড়াতে তারা নিরাপদ পথ বেছে নেয়। কিন্তু কখনও কখনও, সেই একটি সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমেই সাফল্য আসে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ক্রিকেটের প্রতি ওর ভালোবাসা। দিনের শেষে সেটাই আসল। জোর করে কোনও কিছুই হয় না। সেটা কিন্তু অভিভাবকদের মনে রাখা উচিত। প্রতীকী ছবি