বেলাগাম জীবনই জন্ম দিচ্ছে ভয়ডরহীন খুনি মানসিকতার! রাজা-কেতনের মতো বিষাক্ত প্রেমের বলি আর কারা?
একের পর এক সঙ্গীর হাতে খুনের ঘটনায় সম্পর্কে আস্থা হারাচ্ছে নেটিজেনরা।
১৮ জুন পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন আগরওয়ালকে লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে খুন করা হয়। প্রি-ওয়েডিং শুটে হবু স্বামীকে নিয়ে গিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় সিয়া গোয়েল ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে। এরপরই জানা যায়, কেতনকে বিয়ে করতে চাননি সিয়া। সেকথা নাকি তাঁকে জানিয়েওছিলেন তরুণী। কিন্তু তাতেও বিয়ের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন কেতন। এরপরই প্রেমিকের সঙ্গে খুনের প্ল্যান করেন সিয়া।
আরও পড়ুন:
মে মাসের শেষদিকে সিয়া ও চেতন সিদ্ধান্ত নেন, কেতনকে হত্যা করতে হবে। কীভাবে ধাক্কা দেওয়া যায়, সেটার রিহার্সাল করে নেন বেশ কয়েকবার। কোন পথ ধরে দুর্গের মধ্যে উচু পাহাড়ে উঠবেন, ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে ধাক্কা মারলে মৃত্যু নিশ্চিত, কীভাবে কেতনকে বুঝিয়ে খাদের ধার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে-বারবার এই বিষয়গুলি ঝালিয়ে নিয়েছিলেন সিয়া এবং চেতন। সেই মতোই অ্যাকশন করেন তাঁরা।
গতবছর গোটা দেশ তোলপাড় হয়েছিল 'হানিমুন মার্ডার'কে কেন্দ্র করে। ইন্দোরের ব্যবসায়ী ছিলেন বছর ২৯-এর রাজা রঘুবংশী। ২০২৫ সালের ১১ মে সোনমের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। ঠিক ৯ দিন পর মধুচন্দ্রিমায় মেঘালয় যান তাঁরা। ২ জুন খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজার দেহ। প্রকাশ্যে আসে সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার নাম। জানা যায়, বিয়ের আগেই সোনম মায়ের কাছে ‘স্বীকার’ করে নিয়েছিলেন প্রেমের কথা।
জোর করে বিয়ে দিলে তার পরিণতি ভয়ংকর হবে বলে মাকে জানিয়েছিল সোনম। তাতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি পরিবার। এদিকে বিয়ের আগেই রাজাকে খুনের প্ল্যান ছকে ফেলেন সোনম। সেই মতো মেঘালয়ে গিয়ে সুপারি কিলারদের সাহায্যে 'সরিয়ে'ও ফেলেন স্বামীকে। কিন্তু এক টুর গাইডের সূত্র ধরে পুলিশের জালে ধরা পড়ে যান সোনম ও রাজ। এক পর্যায়ে জেরায় খুনের কথা স্বীকারও করে নেন।
আরও পড়ুন:
চলতি জুনে কার্যত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে মুসৌরিতে। মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ২৭ বছরের তথ্য প্রযুক্তি কর্মী রাধা গায়ত্রীর। হোমস্টেতে উদ্ধার হয় রাধার নগ্ন দেহ। নাক থেকে বের হচ্ছিল রক্ত। মৃতার পরিবার জানায়, জামাই স্বামী সোমায়াজুলা শ্রীচরণ রাধাকে হেনস্থা করতেন। তাঁকে মানসিক নির্যাতন করতেন। এতটাই সন্দেহপ্রবণ মন ছিল যে স্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর রাখতেন তিনি।
২০২৫ সালে মিরাটে স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের হাতে খুন হন মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুত। নীল ড্রাম থেকে উদ্ধার হয় দেহ। এরপরই প্রকাশ্যে আসে হাড়হিম করা তথ্য। জানা যায়, কর্মস্থল থেকে ছুটিতে ইন্দিরানগরের বাড়িতে এসেছিলেন সৌরভ। সেখানেই মাদক খাইয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে খুন করে স্ত্রী মুসকান এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লা। এরপর সৌরভের মাথা ও হাত কেটে দেহকে সিমেন্টে ভরা নীল ড্রামে লুকিয়ে রেখে...
২০২২ সালে প্রেমিকের হাতে খুন হন মুম্বইয়ের কল সেন্টারের কর্মী শ্রদ্ধা ওয়াকার। দিল্লির আফতাব আমিন পুণাওয়ালার সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর সঙ্গে লিভ ইন শুরু করেন তরুণী। সেই আফতাবই খুন করে শ্রদ্ধাকে। এরপর দেহ টুকরো টুকরো করে কিছুটা ছড়িয়ে দেয় শহরে। বাকিটা ধুয়ে রেখে দেয় ফ্রিজে। সেই ফ্ল্যাটে একাধিক তরুণীর সঙ্গে সহবাসও করে 'খুনি'। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হতেই জানা যায়, বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন শ্রদ্ধা।
২০২২ সালে বাড়ির পছন্দে বিয়ে করতে প্রেমিককে বিষ খাইয়ে খুন করেন কেরলের তরুণী। ২০২১ সালে তিরুঅনন্তপুরমের পরসালার বাসিন্দা শ্যারন রাজের সঙ্গে গ্রীষ্মার সম্পর্ক তৈরি হয়। ২০২২ সালে সামরিক অফিসারের সঙ্গে তরুণীর বিয়ে ঠিক করে পরিবার। বিয়েতে রাজি হন গ্রীষ্মা। কীভাবে সম্পর্ক ভাঙবেন বুঝতে পারছিলেন না। এরপরই খুনের ছক। বাড়িতে ডেকে প্রেমিককে কীটনাশক মেশানো পানীয় খেতে দেন তিনি। পরদিন হাসপাতালে মৃত্যু হয় যুবকের। এই ঘটনায় গ্রীষ্মাকে...