২৮ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

মোগল যুগের হিংসা ভুলে ফের শুরু ঐতিহ্যবাহী ভবানন্দ মজুমদারের অন্নপূর্ণা পুজো

Published by: Sayani Sen |    Posted: April 13, 2019 4:50 pm|    Updated: April 13, 2019 4:54 pm

An Images

পলাশ পাত্র, তেহট্ট: প্রায় তিনশো বছর আগের কথা৷ মোগল বাদশা ঔরঙ্গজেবের বিরাগভাজন হওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মহারাজ ভবানন্দ মজুমদারের অন্নপূর্ণা পুজো৷ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বিগ্রহ৷ কিন্তু রাজবাড়ির পরিস্থিতি বদলাতে প্রায় তিন শতক সময় লেগে গেল৷ শনিবার থেকে আবারও শুরু হল অন্নপূর্ণার চরণ পুজো৷ রীতিমতো উৎসবের আবহ গোটা এলাকায়৷

[ আরও পড়ুন: অশুভ শক্তি দূরে রাখতে শাস্ত্র মেনে বাড়িতে এভাবেই রাখুন শঙ্খ]

মহারাজা দুর্গা দাসকে  ‘ভবানন্দ মজুমদার’ উপাধি দিয়েছিলেন মোগল বাদশা৷ ১৬০৩ সালে অন্নপূর্ণা পুজো শুরু করেন তিনি। এই রাজবংশের পরবর্তী মহারাজ রামকৃষ্ণ তাঁর কাজকর্মে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাতে মোগল বাদশা ঔরঙ্গজেবের মামা বঙ্গেশ্বর শায়েস্তা খাঁ রুষ্ট হন। তিনি রামকৃষ্ণের কাজকর্মে বাধা দিতে শুরু করেন। অন্নপূর্ণা পুজো বন্ধের কথাও বলেন। মহারাজ তা শোনেননি৷ ১৬৮৪ সালে রাজবাড়িতে অন্নপূর্ণা পুজো চলাকালীন শায়েস্তা খাঁর সৈন্যরা ঢুকে পড়ে৷ ভেঙে দেওয়া হয় বিগ্রহ৷ মহারাজকে কুপিয়ে খুন করা হয়। রানিকে গণধর্ষণও করা হয়। শায়েস্তা খাঁর সৈন্যরা ভাঙা বিগ্রহ মহারাজের দেহের সঙ্গে বেঁধে রাজবাড়ির পরিখায় ফেলে দেয়। মহারাজ রামকৃষ্ণের পুত্র রাঘব রায় বাইরে থেকে রাজবাড়িতে ফিরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন৷ বেশ কিছুক্ষণ পর উদ্ধার হয় বাবার দেহ এবং দেবীর চরণ৷

BARODOL

[ আরও পড়ুন: কেন রাধার সঙ্গে হোলিতে মেতে উঠেছিলেন কৃষ্ণ?]

তারপর আর অন্নপূর্ণা পুজো হয়নি৷ তিনশো বছরের বেশি সময় পর শনিবার এল অন্য সকাল৷ এদিন রাজবাড়ির নাটমন্দিরে চরণ পুজোর মাধ্যমে অন্নপূর্ণা পুজো শুরু হয়। বহু পুরনো মদনমোহনের সিংহাসনটি সাজানো হয়৷ সেখানেই অধিষ্ঠিত অন্নপূর্ণার চরণ। মাকে দেওয়া হয় অন্নভোগ, ফল৷ বৈষ্ণব মতে তেরোটি বিগ্রহ পুজো ও বারোদোল মেলার আয়োজনও করা হয়। কিন্তু এত বছর পর ফের নাটমন্দিরে অন্নপূর্ণা পুজোর কারণ কী? নদিয়া রাজের বর্তমান গৃহকর্ত্রী অমৃতা রায় বলেন, ‘‘অন্নপূর্ণার পুজো শুরু করার জন্য কৃষ্ণনগরের মানুষ কয়েকবছর ধরে বলেছিলেন। আর এ বছর বিখ্যাত বারোদোল মেলা দু’শো পঁচাত্তর বছরে পড়ল। তাই ১৫ এপ্রিল বারোদোল মেলার আগে নাটমন্দিরে এই পুজো শুরু করা হল।’’ একইসঙ্গে শাক্ত ও বৈষ্ণবের মেলবন্ধনও বলা যেতেই পারে। যা মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে পালন করতেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement