৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মাত্র ১ ঘণ্টায় মিলবে রিপোর্ট, করোনা পরীক্ষার যন্ত্র আবিষ্কার করে তাক লাগাল IIT খড়গপুর

Published by: Sayani Sen |    Posted: July 25, 2020 7:03 pm|    Updated: July 25, 2020 7:08 pm

An Images

অংশুপ্রতিম পাল, খড়গপুর: বিশ্বের প্রথম বহনযোগ্য ও ছোট করোনা পরীক্ষা যন্ত্র আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে খড়গপুর আইআইটির গবেষকরা। শুধু তাই নয় এই যন্ত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে করোনা পরীক্ষা করা যাবে। এমনটাই দাবি খড়গপুর আইআইটির (IIT Kharagpur) গবেষকদের। আর এই যন্ত্র কেনার খরচও খুব বেশি নয়। বাজারে একটি আর টিপিসিআর যন্ত্র কিনতে যেখানে খরচ হয় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা, সেখানে মাত্র ২ হাজার টাকায় এই যন্ত্র পাওয়া যাবে। আর এই যন্ত্রের সাহায্যে করোনা পরীক্ষা করারও বিশেষ কোনও ঝামেলা নেই। আর পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না। মাত্র এক ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে। দেশের যেকোনও প্রান্তে কম ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা ব্যাটারি কিংবা সৌরবিদ্যুতে সেরে ফেলা যাবে করোনা পরীক্ষা। শনিবার দুপুরে খড়গপুর আইআইটি চত্বরে প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর অধ্যাপক বীরেন্দ্র কুমার তেওয়ারির উপস্থিতিতে এই নব আবিষ্কৃত যন্ত্রটির উদ্বোধন করা হয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠানের স্কুল অফ বায়ো সায়েন্সের অধ্যাপক ও জীবাণু গবেষক অরিন্দম মণ্ডল বলেন, “আমরা ৫০০ সিনথেটিক নমুনা একইসঙ্গে আর টিপিসিআর এবং আমাদের এই পোর্টেবল মেশিনে পরীক্ষা করেছি। দেখা গিয়েছে দু’পক্ষই সমান ফলাফল দেখিয়েছে। যেহেতু সরাসরি মানবদেহের নমুনা পরীক্ষা করার অধিকার আমাদের নেই, তাই আমরা সিনথেটিক নমুনা ব্যবহার করেছি। আমাদের স্থির বিশ্বাস আইসিএমআর মানবদেহের নমুনা এই মেশিনে প্রয়োগ করলে একই ফল পাবে।”

অপরদিকে মেক্যানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক গবেষক সুমন চক্রবর্তী বলেছেন, “এই মেশিন অন্যদের তুলনায় সর্বোত্তম। কারণ এখানে এই মেশিনটিকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনও খরচ নেই। তাকে সংরক্ষণ ও সুরক্ষিত রাখার জন্য কোনও এসি ঘরের প্রয়োজন নেই। উন্নত টেকনিশিয়ান রাখারও দরকার নেই। দক্ষ লোকের দরকার নেই। একজন সাধারণ মানুষ শুধু এই মেশিনের প্রয়োগ কৌশল শিখে ও বুঝে নিয়ে কাজ করতে পারবেন। আমাদের সাধারণ স্বাস্থ্য কর্মীরা এই মেশিন ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু নমুনা সংগ্রহের সময় একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আর এই গোটা প্রক্রিয়ায় বিশেষ কোনও খরচ নেই। তাই পরীক্ষার খরচ কমে যাচ্ছে।”

IIT-Kharagpur

[আরও পড়ুন: বাড়িতে খাবার শেষ, পরিজন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বাজারে যেতে পারছেন না সুস্থরাও]

খড়গপুর আইআইটির ডিরেক্টর অধ্যাপক বীরেন্দ্র কুমার তেওয়ারি বলেছেন, “কোভিড পরীক্ষায় এই যন্ত্রের আবিষ্কার প্রতিষ্ঠানের একটি মাইল ফলক হিসাবে বিশ্বের দরবারে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।” তিনি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান যেকোনও সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই যন্ত্র বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত খড়গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষ। মাত্র এক বর্গ ফুট মাপের যন্ত্রটি এখন বাজারে আসার অপেক্ষা।

[আরও পড়ুন: বাংলার ‘সেফ হোম’ গোটা দেশের মডেল হোক, মত ICMR কর্তার]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement