৩০ কার্তিক  ১৪২৬  রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

গৌতম ভট্টাচার্য ও রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়: মহারোমহর্ষক টি টোয়েন্টি ম্যাচও হার মানবে! ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন কর্মকর্তা মনোনয়ন নিয়ে আরবসাগর পারে রবিবার যা ঘটল! শুধু ঘটল বললে কম বলা হয়। ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে বেনজির। মাঝরাত পেরিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর মনোনয়নে সই করে ফেললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। নির্বাচন যেহেতু হবে না, বোর্ড প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর বসে পড়া মনে হচ্ছে স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু আজকের মহানাটকীয় অভিজ্ঞতার পর সোমবার যদি পরিস্থিতি আর একপ্রস্থ মোচড় নেয়, মনে হয় না কেউ বিস্মিত হবেন বলে। তবে এখনকার মতো ফোটোফিনিশে পরিষ্কার এগিয়ে রয়েছেন বাংলার মহারাজ! সব কিছু ঠিকঠাক চললে আগামী ২৩ অক্টোবর মুম্বইয়ে বোর্ডের কার্যভার গ্রহণ করবেন তিনি। শুভানুধ্যায়ীরা যদিও রোববারের অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার পর বলছেন, না আঁচালে কিছুই বিশ্বাস নেই।

[আরও পড়ুন: পুণেতে ধরাশায়ী দক্ষিণ আফ্রিকা, ঘরের মাঠে টানা সিরিজ জয়ের রেকর্ড ভারতের]

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিজের কাছেও অকল্পনীয় ঠেকছে এই রূপান্তর। রবিবার দুপুরে দিল্লি থেকে যখন মুম্বইয়ে নামেন তখন জানতেন, সাম্রাজ্য প্রাপ্তি কয়েক ঘণ্টার মাত্র অপেক্ষা। রাতে আচম্বিতে আবিষ্কার করেন, মুকুট পাওয়া দূরে থাক। তাঁকে না প্রেসিডেন্ট না সচিব, কিছুই করা হচ্ছে না। ব্রিজেশ প্যাটেল হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। অপমানিত, অসম্মানিত সৌরভ হোটেল লবিতে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের জানিয়েও দেন তিনি কিছু হচ্ছেন না। বলে দেন প্যানেলে কারা কারা আছেন। এরপর চলে যান নিজের ঘরে। সেখানে আচমকা ফোন আসে জনৈক প্রভাবশালী বোর্ড কর্তার, তোমাকেই আমরা প্রেসিডেন্ট করছি! সৌরভ ভাবতেই পারেননি এমন কিছু হতে পারে। তাঁর ক্রিকেটজীবনে দৃশ্যপটের এমন আচমকা পরিবর্তন দেখেছেন কি না সন্দেহ! অনেকেরই ধারণা এই সময় দিল্লি-মুম্বই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফোন কল হয়েছিল।

 Sourav Ganguly

রাতের দিকে সৌরভের ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ বলছিলেন যে, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে এতটা আবেগতাড়িত হয়ে পড়তে তাঁরা ইদানিংকালে দেখেননি। সৌরভের আবেগতাড়িত হয়ে পড়াটা স্বাভাবিকও। হঠাৎ করে তো জানাজানি হয়ে গিয়েছিল যে, সৌরভ নন। নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনের প্রার্থী ব্রিজেশ প্যাটেল প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। সচিব হবেন জয় শাহ। সৌরভকে ততক্ষণে আইপিএল চেয়ারম্যান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটা জেনেই যে, আইপিএল চেয়ারম্যান হতে গেলে সৌরভকে দিল্লি ক্যাপিটালস ছাড়তে হবে। দু’টো একসঙ্গে হবে না। সৌরভ পত্রপাঠ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেন। শোনা গেল, বৈঠক সমাপ্ত করে শ্রীনি সদর্পে ডিনার টেবলেও চলে যান। কেউ ভাবতেও পারেনি, নাটকের মোচড় তার পরেও বাকি থাকবে। একটা সময় পর্যন্ত ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া শ্রীনিবাসন আবিষ্কার করবেন, ম্যাচ আবার তাঁর হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে!

[আরও পড়ুন: অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক সৌরভের, নয়া জল্পনা ক্রিকেট মহলে]

গভীর রাতে পরিস্থিতি দাঁড়ায়, সৌরভ প্রেসিডেন্ট। ব্রিজেশ আইপিএল চেয়ারম্যান। আচমকা পদ পালটাপালটির খবর শুনে নাকি আশ্চর্য হয়ে যান শ্রীনি। বিস্মিত ভাবে তিনি জনান্তিকে জিজ্ঞাসা করেন, এটা আবার কী হল? তাঁর সঙ্গে তো এ নিয়ে কোনও রকম কথাবার্তা হয়নি। রাতে সৌরভের আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়ার মতো শ্রীনির এ হেন হতবিহ্বল প্রতিক্রিয়াও স্বাভাবিক। কারণ জাতীয় ক্রিকেট সার্কিটে তো বলাবলি শুরু হয়ে গিয়েছিল যে, চলতি সপ্তাহটা মোটেও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কামব্যাক সপ্তাহ নয়। বঙ্গ উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান সাহারও নয়। চলতি সপ্তাহটা শুধুই নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসন নামক বোর্ড কর্তার কামব্যাকের। পঁচাত্তর বছর বয়সে, বোর্ডের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও বোর্ডের রিমোট যিনি হাতে তুলে নিয়েছেন।

কিন্তু, সেটা আর হল না। কারণ, বোর্ড প্রেসিডেন্ট পদে বাংলার মহারাজের মনোনয়ন জমা করার ছবিও তো চলে এল গভীর রাতে। সব ঠিকঠাক চললে আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতীয় বোর্ড শুধু তাঁর সফলতম টেস্ট ক্রিকেটার প্রেসিডেন্টকে দেখতে পাচ্ছে না, একই সঙ্গে দেখতে পাচ্ছে তাঁর কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্টকে। মাত্র সাতচল্লিশ বছর বয়সে বোর্ড প্রেসিডেন্ট আজ পর্যন্ত কারও ভাগ্যে হয়নি। গ্রেগ চ্যাপেল জমানায় ওয়ান্ডারার্স কামব্যাকের পরই সৌরভের জীবনে হয়তো থাকবে এই কামব্যাক। অপেক্ষা এখন শুধুই ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ডের। অপেক্ষা ক্যাপ্টেন গাঙ্গুলির নতুন করে ভারতীয় ক্রিকেটে আবাহনের!

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং