BREAKING NEWS

২০ শ্রাবণ  ১৪২৭  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ 

Advertisement

অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক সৌরভের, নয়া জল্পনা ক্রিকেট মহলে

Published by: Subhajit Mandal |    Posted: October 13, 2019 2:42 pm|    Updated: October 13, 2019 6:18 pm

An Images

গৌতম ভট্টাচার্য ও রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়: চোদ্দো বছর আগে ভারত অধিনায়কত্ব থেকে বিদেশে সিরিজ জয় এবং সেঞ্চুরি সত্বেও অন্যায় ভাবে বিতাড়িত হওয়ার ক্রিকেটীয় ন্যায়বিচার কি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনে অপেক্ষা করে রয়েছে? ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অলিন্দের জল্পনা সত্যি হলে উত্তর, হ্যাঁ। ক্রিকেট প্রশাসন মসনদের মুকুট থেকে তিনি আর মাত্র কয়েক ফুট দূরে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একান্ত না হলে সচিব। সৌরভকে ‘সংবাদ প্রতিদিন’ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাইলেন না।

[আরও পড়ুন: মহারাজ-ফিল্যান্ডারের জুটিতেও রক্ষা হল না, ভারতের থেকে অনেক পিছিয়ে প্রোটিয়ারা]

শনিবার সন্ধেয় সামান্য ঝিমিয়ে থাকা, হলিডে মুডের দিল্লিতে এক মহাগুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট রাজনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যে বৈঠকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অমিত শাহ এবং সৌরভ এই ধরনের খোলাখুলি বৈঠক এর আগে কখনও হয়নি। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল যে, বৈঠক হয়েছে বসন্তকুঞ্জের বসন্ত ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে। অতীতে অনেক রাজনৈতিক বৈঠকের গোপনীয়তা রক্ষার কারণে যে হোটেল ব্যবহৃত হয়েছে বলে শোনা যায়। পরে অবশ্য জানা যায় কোনও হোটেল নয়। অমিত-সৌরভ বৈঠক হয়েছে খোদ অমিত শাহ-র বাসভবনে।

ভারতীয় ক্রিকেট রাজনীতির এখন বকলমে নির্ধারক অমিত শাহ। নিজে তিনি ক্রিকেটপ্রেমী। তাঁর ছেলে ক্রিকেটের সঙ্গে এখন প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য বলা হয় অমিত শাহকে। এবার ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনও তাঁর প্রখর চাণক্য বুদ্ধির পরিচয় পেল। সেখানেও চাণক্যসম চাল দিলেন অমিত শাহ। হঠাৎ করে যে বোর্ড প্রেসিডেন্ট সমীকরণ থেকে ডিডিসিএ প্রেসিডেন্ট রজত শর্মা অদৃশ্য হয়ে গেলেন, সৌরভ প্রবল ভাবে ঢুকে গেলেন দৌড়ে, অনেকেই মনে করেন নেপথ্যে অমিত শাহ।

[আরও পড়ুন: আসন্ন আইপিএলে পাঞ্জাবের হেড স্যার কুম্বলে, বদলে গেল কোচিং স্টাফও]


এ হেন বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়া থেকে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যাঁরা জানতেন না, তাঁরা অনেকে ভাবতে শুরু করেন সৌরভ কি তা হলে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? তার পর জানা যায় যে, এটা একান্তই ক্রিকেট বৈঠক। যেখানে প্রাক্তন বোর্ড প্রেসিডেন্ট অনুরাগ ঠাকুর উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন অমিত পুত্র জয় শাহ। আসামের মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। শেষের জনের উপস্থিতি উত্তর পূর্বাঞ্চল গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। রাতে কলকাতায় ফেরার কথা থাকলেও ফ্লাইটের সমস্যায় ফিরতে পারেননি সৌরভ। নয়াদিল্লি থেকেই রবিবার তিনি উড়ে যাবেন মুম্বই। যেখানে বোর্ডের বেসরকারি বৈঠকে যোগ দিতে আসছেন সব সদস্যরা। উদ্যোক্তা নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসন। ভোট এড়াতে ডাকা সেই বৈঠকে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়বে সম্ভাব্য বোর্ড কর্তাদের নামের। সেখানেই চূড়ান্ত হবে সৌরভ প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট হচ্ছেন? নাকি সচিব?

ঠারেঠোরে সৌরভকে এ দিন নয়াদিল্লিতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের মসনদে যদি তিনি চড়েন বিজেপির বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোনও রকম আপত্তি নেই। কিন্তু সৌরভকেও তাঁদের কথা ভাবতে হবে। সৌরভ যদি এখনই বড়সড় কোনও প্রতিশ্রুতি দেন বিজেপিকে, তা হলে তাঁর বোর্ড প্রধান হওয়ার রাস্তা মেরিন ড্রাইভের মতোই মসৃণ। এমনকী প্রয়োজনে অপেক্ষা করতেও তারা রাজি।

সৌরভের ঘনিষ্ঠ শিবির অবশ্য বলছে যে, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক এখনই কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেবেন না। তিনিও ঠারেঠোরে বুঝিয়েছেন, অন্য ক্ষেত্রের জন্য মানসিক ভাবে তৈরি হতে সময় লাগবে। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, এই বৈঠকে সৌরভ জেনে গিয়েছেন তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়ে বিজেপির কোনও রকম আপত্তি নেই। বরং ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিজেপির কোনও কোনও অংশ প্রচণ্ড বিস্মিত সৌরভের এ রকম প্রবল বোর্ড মসনদ যুদ্ধে কার্যত ওয়াকওভার পেয়ে যাওয়া নিয়ে। অনেকেই ভেবেছিলেন, ডিডিসিএ প্রেসিডেন্ট রজত শর্মাই আসবেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট হয়ে। কিন্তু সৌরভ যে কলকাতা থেকে উড়ে গিয়ে অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করবেন, কিংবা এ ধরনের প্রস্তাব পাবেন, তাঁরা ভাবতে পারেননি। তাঁরা জানতেনই না অরুণ জেটলির প্রয়াণের পরেও সৌরভের বিজেপির কোনও একটা অংশের সঙ্গে এ রকম ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে।

[আরও পড়ুন: মহারাজ-ফিল্যান্ডারের জুটিতেও রক্ষা হল না, ভারতের থেকে অনেক পিছিয়ে প্রোটিয়ারা]


শোনা গেল, প্রাক্তন বোর্ড প্রেসিডেন্ট অনুরাগ ঠাকুরকে বিজেপির পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোনও রকম ঝামেলা ছাড়া ক্রিকেট প্রশাসনের নির্বাচন তিনি যেন ঠিকঠাক উতরে দিতে পারেন। অতীতে এই দায়িত্বটা সামলাতেন তাঁর গুরু অরুণ জেটলি। জেটলির অবর্তমানে অনুরাগকে বিজেপির পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিখুঁত ভাবে বোর্ড প্রশাসনিক কাঠামোটা সাজিয়ে দেওয়ার। বলা হয়নি, সৌরভ বোর্ডে যেতে পারেন, এ হেন খবর জাতীয় ক্রিকেট সার্কিটে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বলাবলি শুরু হয়ে যায় যে, সিএবিতে তা হলে কে বসবেন? বোর্ডে গেলে সিএবি প্রেসিডেন্টের পদ তো সৌরভকে ছেড়ে দিতে হবে। শোনা গেল, প্রাক্তন সিএবি যুগ্ম সচিব বাবলু কোলে আগ্রহী। তাঁর মেয়াদের এখনও এক বছর বাকি আছে। কিন্তু বলাবলি চলছে, এখন যা পরিস্থিতি তাতে সৌরভ বোর্ডে চলে গেলে কি তাঁর জায়গায় বর্তমান সিএবি সচিব অভিষেক ডালমিয়া বসবেন? সেটা সময় বলবে। বোর্ডে ফেরা যাক। সৌরভ ছাড়া বোর্ডের পাঁচ পদাধিকারী পদে প্রার্থী হতে পারেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। যিনি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে গিয়ে কাশ্মীরে প্রবর্তিত ৩৭০ ধারাকে সমর্থন করেছেন। বর্তমানে বিজেপির প্রবল ঘনিষ্ঠও তিনি। আছেন কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধি ব্রিজেশ প্যাটেল। এবং জয় শাহ। অসমর্থিত সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চান না বিজেপির কেউ সরাসরি ক্রিকেট প্রশাসনে ঢুকুন। বিশেষ করে একই পরিবারের লোক। যদিও জয় এ দিনের বৈঠকে ছিলেন। অনেকেই সন্দিহান ছিলেন যে, সৌরভের কুলিং অফ যেহেতু মাত্র দশ মাস পরেই শুরু। তাঁকে মাত্র দশ মাসের জন্য প্রেসিডেন্ট বা সচিব করতে কি সদস্যরা রাজি হবেন? এখন অবশ্য ক্রিকেটমহলে শোনা যাচ্ছে, আগামী দশ মাসের মধ্যে যদি পার্লামেন্টে স্পোর্টস বিল এসে যায়, তা হলে ‘কুলিং অফ’-এর আইন ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা।
নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসন শনিবারের দিল্লি মহাবৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। যিনি বরাবরের ধোনি ঘনিষ্ঠ এবং ঐতিহাসিক ভাবে কখনও সৌরভের মঙ্গলসাধনে তাঁর কোনও ভূমিকা থেকেছে বলে কেউ জানে না। বরং শ্রীনি বোর্ড সচিব থাকার সময় সৌরভকে অবসর নিতে এক রকম বাধ্য করা হয়েছিল। বোর্ড রাজনীতির পাকেচক্রে সেই শ্রীনিও এখন সৌরভকে সমর্থন করতে রাজি। কিন্তু তার বদলে শ্রীনির দু’জন প্রার্থীকে মেনে নিতে হবে সৌরভকে। শোনা গেল, দিন দু’য়েক আগে কলকাতায় ঘুরে গিয়েছেন শ্রীনি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তামিলনাড়ু ক্রিকেট সংস্থার প্রধান কর্তা কাশী বিশ্বনাথন। বঙ্গ ক্রিকেট কর্তাদের সঙ্গে তাঁর নাকি বৈঠকও হয়। সেখানেই প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, প্রেসিডেন্ট পদে সৌরভকে প্রার্থী মানতে শ্রীনির আপত্তি নেই। কিন্তু বদলে দু’টো বড় পদে শ্রীনির প্রার্থীদের সমর্থন করতে হবে।

[আরও পড়ুন: ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত টিম ইন্ডিয়া, ইনিংসের শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা ]


ক্রিকেট রাজনীতির রাস্তাও দেশের সাধারণ রাজনীতির মতোই পিচ্ছিল এবং অনিশ্চিত। অনেক সময়েই টি-টোয়েন্টি ম্যাচের শেষ দিককার ওভারের মতো। কোন দিকে কখন ঘুরবে কেউ জানে না। তাই রোববারের বৈঠকের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে, সৌরভ বোর্ড প্রধান হচ্ছেনই। এটুকু অবশ্য বলা যায় বোর্ড রাজনীতির এগজিট পোল দেখাচ্ছে সৌরভ নিকটতম প্রার্থীর চেয়ে অনেক এগিয়ে! এগজিট পোল মিলল কি না, সোমবার জানা যাবে। মনোনয়ন পেশ করার ওটাই শেষ দিন!

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement