দাঁতের আমি, দাঁতের তুমি, দাঁত দিয়ে যাবে চেনা! নাহ্, নির্দিষ্ট কোনও উদ্দেশ্য ব্যতীত সুকুমার রায়ের বিখ্যাত কবিতা ‘গোঁফ চুরি’ নিয়ে এ হেন বদখত টানাটানি মোটেই নয়। এর নেপথ্যে যথাযথ হেতু রয়েছে, কারণ রয়েছে। লিখে রাখা যাক, এক্ষেত্রে দাঁত আদতে এক নিরাময়! বহুল প্রচলিত এক ‘রোগের’ সম্ভাব্য বিশল্যকরণী। যা নিরুপায় হয়ে প্রয়োগ করার কথা ভাবছে ভারতীয় বোর্ড। ‘নিরাময়’ হিসেব। অন্তত বোর্ড বার্ষিক সভায় সে প্রস্তাব উঠেছে।
জটিল গৌরচন্দ্রিকা ছেড়ে সহজবোধ্য ভাবে বলা যাক। জাতীয় নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরকে নিয়ে বিতর্ক বাদ দিলে আরও একটা বড় দুশ্চিন্তা তাড়া করছে অধুনা ভারতীয় ক্রিকেটকে। যার নাম–বয়স ভাঁড়ানো! যা মাঝেমধ্যেই অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে বোর্ডকে। বয়স ভাঁড়ানো ধরতে চলতি বছরেই ক্রিকেটারদের আধার কার্ড আপডেট হিস্ট্রি নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করেছে বোর্ড। অধীনস্থ সমস্ত রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে নির্দেশিকা পাঠিয়ে বলা হয়েছে, স্থানীয় ক্রিকেটারদের আধার কার্ড আপডেট হিস্ট্রি ভালো করে খতিয়ে-টতিয়ে দেখতে। যা করতে গিয়ে বেঁধেছে বিপত্তি।
আরও পড়ুন:
বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থায় প্রচুর ক্রিকেটার এমন পাওয়া গিয়েছে, যাঁরা বয়স ভাঁড়িয়ে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলেছেন। কিংবা খেলছেন। বাংলা থেকে হালফিলে এমন দু’জন সিএবি-র তদন্তে ‘ধরা’ পড়েছেন, যাঁদের একজন অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলে ঢুকে গিয়েছিলেন। স্পিনার রোহিত যাদব। শ্রীলঙ্কায় অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলের হয়ে খেলে-টেলে প্রস্তুত হচ্ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নামার জন্য। পাকেচক্রে সে সময়ই সিএবি আবিষ্কার করে যে, রোহিতের বয়সের গরমিল রয়েছে সাতাশ মাস! তড়িঘড়ি বোর্ডকে ই-মেল করে তা জানানো হলে, রোহিতকে দু’বছরের নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর একজন, রবি কুমার। অতীতে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। হালফিলে তদন্ত শেষে দেখা গিয়েছে, তিনি বয়স ভাঁড়িয়েছেন পঁয়তাল্লিশ মাস! স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, রবিকে সম্প্রতি ইমার্জিং টিমে রেখেছিল বোর্ড।
এ সমস্তের পরিণতি–বিড়ম্বনা। যার পর প্রশ্নের মুখে পড়েছে জুনিয়র ভিত্তিক ক্রিকেটে প্লেয়ারের বয়স নির্ধারণের পদ্ধতি। অনূর্ধ্ব পর্যায়ে কোনও ক্রিকেটার বয়স ভাঁড়িয়ে খেলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ‘বোন টেস্ট’ করে বোর্ড। অনুসরণ করা হয়, ‘ট্যানার-হোয়াইটহাউস ৩ (টিডব্লিউ ৩)’ পদ্ধতি। যেখানে প্লেয়ারের কব্জি-সহ বাঁ-হাতের ‘এক্স রে’ করা হয়। গত বছর থেকে ‘সেকেন্ড বোন টেস্ট পলিসি’-ও আমদানি করা হয়েছে। কিন্তু সে পদ্ধতি যে লৌহ-নিশ্ছিদ্র নয়, তা বর্তমানে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। যার পর নতুন এক পন্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বোর্ডমহলে।
ডেন্টাল টেস্ট! ক্রিকেটারদের দাঁত-পরীক্ষা। যা বলবে, প্লেয়ারের বয়স কত। শোনা গেল, মুম্বইয়ে শুক্রবারের বোর্ড বৈঠকে কেউ কেউ নিদান দেন, জুনিয়র পর্যায়ে প্লেয়ারের দাঁতের পরীক্ষা শুরু করতে। যে প্রস্তাবকে উড়িয়ে দেননি বোর্ড শীর্ষকর্তারা। বরং আশ্বাস দিয়েছেন, এ নিয়ে ভাবা হবে। দেখতে গেলে, বয়স নির্ধারণে দাঁতের পরীক্ষাকে বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রেই মান্যতা দেওয়া হয়ে থাকে। ফরেনসিকও এ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে। বলা হয়ে থাকে, কুড়ি বছর বয়স পর্যন্ত দাঁতের পরীক্ষা প্রায় নিখুঁত ভাবে নির্ধারণ করে দেবে ব্যক্তির সঠিক বয়স কত। বলে দেবে, সে বয়স ‘চুরি’ করছে কি না? কী হবে শেষ পর্যন্ত, সময় বলবে। কিন্তু এ হেন ভাবনা বাস্তবায়িত হলে, কার্যকর হলে, বয়স ভাঁড়ানো ক্রিকেটারদের মধ্যে একটা জিনিস বাঁধবে। লাগবে। দাঁতকপাটি!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জমি, সম্পত্তি লিখিয়ে বাবাকেই চড়-লাথি! শ্বশুরবাড়িতে রেখে খেতে না দিয়ে নৃশংস ‘অত্যাচার’ মেয়ের
-
‘ভাঁড়ের দল, থার্ড ক্লাস’, ভরা মঞ্চে মোদিকে নিয়ে রসিকতা করায় রাহুলকে তুলোধোনা বিজেপির
-
করম পরবে ‘কল্পতরু’ মুখ্যমন্ত্রী! পুরুলিয়া থেকে কুড়মালি ভাষা নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
-
মা-বাবার সুরক্ষার স্বার্থে পরিবারে নতুন সদস্য, কত লাখি গাড়ি উপহার দেবের?
-
বয়সকালে হাড় ভাঙার ঝুঁকি কতটা? কলকাতা মেডিক্যালে জানা যাবে বিনামূল্যেই