এবারের কলকাতা লিগে একমাত্র দল, যারা অপরাজিত। গ্রুপ পর্ব এবং চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ড মিলিয়ে পেয়েছে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট। সঙ্গে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোল। আবার গোল খেয়েছে সবচেয়ে কম। তারপরও লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারল না ইস্টবেঙ্গল। শনিবার ঘরের মাঠে কোল ইন্ডিয়াকে তারা হারাল ৭-০ গোলে। জোড়া গোল আকাশ হেমরাম এবং বিজয় মুর্মুর। একটি করে গোল মহম্মদ বিলাল, তন্ময় দাস এবং উত্তম হাঁসদার। কিন্তু মহামেডানকে ৩-২ গোলে মোহনবাগান হারানোয় ট্রফি হাতছাড়া হল ইস্টবেঙ্গলের। কেন গ্রুপ পর্বে শীর্ষে থাকা পিছিয়ে পড়ল চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে।
১. চোট-পারিবারিক সমস্যা
গ্রুপ পর্বের শেষে, অর্থাৎ ডার্বিতে চোট পেয়েছিলেন মনতোষ মাঝি এবং বিক্রম প্রধান। দলের নিয়মিত দুই সদস্যকে ছাড়া চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ড খেলতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। আবার চোটের জন্য মাঠের বাইরে সুমন দে-র মতো নির্ভরযোগ্য ফুটবলারও। পারিবারিক কারণে কেরলম ফিরেছেন জোসেফ জাস্টিন। ফলে দল সাজাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন কোচ অর্চিস্মান বিশ্বাস। এদিন ওয়ার্ম আপের সময় চোট পেয়েও পুরো ম্যাচ খেলতে হল তন্ময় দাসকে। কারণ তাঁর জায়গায় নামার কেউ ছিলেন না।
আরও পড়ুন:
আকাশ যেমন দশ গোল করে যুগ্ম-সর্বোচ্চ স্কোরার। এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, সিনিয়র দলকে আইএফএ শিল্ডে খেলাতে বিশেষ আগ্রহী নন কোচ হাবাস। সেক্ষেত্রে খেলবে এই দলটাই।
২. অফিস লিগের ম্যাচ
গ্রুপ পর্বে লাল-হলুদের অন্যতম ভরসা ছিলেন চাকু মান্ডি এবং অঙ্কন ভট্টাচার্য। ডার্বিতে বেশ প্রশংসিত হয়েছে দু’জনের পারফরমান্স। কিন্তু অফিসের হয়ে খেলার জন্য চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে ছিলেন না তাঁরা। আবার চোট সমস্যায় তাঁদের যোগ্য পরিবর্তনও ছিল না। এদিন যেমন বেঞ্চে ছিলেন মাত্র এক ডিফেন্ডার।
৩. টানা ম্যাচের ধকল
গ্রুপ পর্ব শেষের দিন তিনেক পরই চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে নামতে হয় লাল-হলুদকে। সময়ের অভাবে দলকে প্রস্তুত করতে পারেননি বলে দাবি অর্চিস্মানের। লাল-হলুদ কোচের কথায়, “চাকু, অঙ্কন, বিক্রম, মনতোষের মতো প্লেয়ারদের না থাকাটা বড় ধাক্কা। ওদের পরিবর্তদের তৈরি করার জন্য বেশি সময় পাইনি। চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের আগে আরও একটু সময় পেলে ভালো হত।
৪. ডার্বি ড্র করে আত্মতুষ্টি
জাতীয় দলের একাধিক তারকাকে নিয়ে নামা মোহনবাগানকে লিগের ডার্বিতে রুখে দিয়েছিলেন লাল-হলুদের তরুণ ফুটবলাররা। সেই ফলাফলের প্রভাব ইউনাইটেড ম্যাচে পড়েছে বলে মনে করছেন লাল-হলুদ কোচও। তাঁর বক্তব্য, “সেদিন ভালো খেলার রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফুটবলাররা। সেটা ইউনাইটেড ম্যাচে আমাদের ব্যাক ফুটে পাঠিয়ে দিয়েছিল।” সেদিন ড্র করেই অ্যডভান্টেজ হাতছাড়া হয় তন্ময়দের।
৫. হাবাসের পদক্ষেপ
গত বছরও কলকাতা লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সিনিয়র দলের রিজার্ভ বেঞ্চের প্লেয়ারদের খেলিয়েছে লাল-হলুদ। প্রভাত লাকড়া, ডেভিড, সৌভিক চক্রবর্তীরা নিয়মিত খেলেছেন। কিন্তু এবার কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস তা হতে দেননি। পিভি বিষ্ণু আর জেসিন টিকে শুরুতে কয়েকটা ম্যাচ খেলেছেন। তবে ডুরান্ড কাপ শুরুর পর তাঁরাও রিজার্ভ দলে আসেননি। ফলে শেষদিকে অঙ্কন-চাকুদের অভাব মেটানো যায়নি।
লিগ হাতছাড়া হওয়ার হতাশার সঙ্গে এবার আকাশ-বিলালের মতো অনামী তরুণরা যেভাবে পারফর্ম করেছেন, সেটাই প্রাপ্তি লাল-হলুদের কাছে। আকাশ যেমন দশ গোল করে যুগ্ম-সর্বোচ্চ স্কোরার। এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, সিনিয়র দলকে আইএফএ শিল্ডে খেলাতে বিশেষ আগ্রহী নন কোচ হাবাস। সেক্ষেত্রে খেলবে এই দলটাই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অনলাইনে আপডেট করতে হবে এফআইআর থেকে চার্জশিটের নথি, কড়া নির্দেশ লালবাজারের
-
‘আগে নিজের চেহারা দেখ’, ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়ে ‘বিগ বসে’ জামা খুলে ট্রোলারদের পালটা সলমনের
-
সিপিএমকে ধন্যবাদ জানালেন দুর্গাপুরের বিজেপি বিধায়ক, কিন্তু কেন?
-
এবার SIR নোটিস দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি ধনকড়কেও! বিতর্কে মুখ খুলল কমিশন
-
পাঞ্জাবে পুলিশকর্মী খুনে এনকাউন্টার! মৃত্যু অভিযুক্তের, খতিয়ে দেখা হচ্ছে পাক-যোগ